বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষণাকে স্বাগত জানাল অসম বার্তাজীবী সংঘ। একইসঙ্গে অসমেও অনুরূপ ব্যবস্থা চালুর জন্য মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংঘের সভাপতি মধুসূদন মেধি ও সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন কুমার শর্মা বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সমস্ত সাংবাদিকের জন্য স্বাস্থ্য বীমা, পুজো উপলক্ষে বোনাস এবং অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য পেনশনের যে ঘোষণা করেছেন, তা সাংবাদিকদের প্রতি সরকারের সম্মান ও কাজের স্বীকৃতি। এই পদক্ষেপকে অসম বার্তাজীবী সংঘ আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও আঁচনি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের সমস্যা সরকারের নজরে আনার জন্য সাংবাদিকরা দিনরাত পরিশ্রম করলেও অসমের বেশিরভাগ সাংবাদিকই আজও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সংঘের মতে, অসম সরকার ২০১৭ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য পেনশন চালু করলেও, হিতাধিকারীর সংখ্যা এবং পেনশনের পরিমাণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বীমা চালু করাও সময়ের দাবি, কারণ অর্থের অভাবে বহু সাংবাদিক উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জনসংযোগ বিভাগের জার্নালিস্ট মেডিকেল ওয়েলফেয়ার স্কিমের অধীনে চিকিৎসা বাবদ খরচের সামান্য অংশই ফেরত দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। তাছাড়া এই সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক নিয়মিত প্রতি মাসে হচ্ছে না। বৈঠক নিয়মিত করার ক্ষেত্রে বিভাগীয় আধিকারিকদের গাফিলতির অভিযোগও তুলেছে সংঘ।
এছাড়া রাজ্যের মূলধারার বহু সাংবাদিক আবেদন করার পরেও আজ পর্যন্ত জনসংযোগ বিভাগের পরিচয়পত্র পাননি। এতে স্বয়ং জনসংযোগ বিভাগই সাংবাদিকদের বঞ্চিত করছে বলে অভিযোগ। অনেকের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র না পেতেই অবসরের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
বিষয়টি নিয়ে গত ৪ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর ব্যক্তিগত প্রধান সচিব জনসংযোগ বিভাগের সঞ্চালককে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বললেও দুই মাস পরেও তা কার্যকর হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সংক্রান্ত জনসংযোগ বিভাগের যে সমস্ত কমিটি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয়, সেগুলি ভেঙে দিয়ে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে অসম বার্তাজীবী সংঘ। পাশাপাশি জনসংযোগ বিভাগের সঞ্চালক ও আয়ুক্তকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবশেষে, বর্তমান সরকার রাজ্যের সকল শ্রেণীর কল্যাণে কাজ করছে উল্লেখ করে গত বছরের মতো এবারও ১ জানুয়ারি সাংবাদিক পেনশন ঘোষণা এবং সাংবাদিকদের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সভাপতি মধুসূদন মেধি ও সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন কুমার শর্মা।












