,

কৃষি শিক্ষা গৃহবাসে ঐতিহাসিক ছাড় দিল অসম মন্ত্রিসভা

ক্ষুদ্র শিল্প, খাদি শিল্প, সৌরবিদ্যুৎ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির নিয়ম শিথিল করে বিনিয়োগের পথ খুলে দিল সরকার বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : মঙ্গলবার দিসপুর লোভকসেবা ভবনে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার পৌরোহিত্যে বসে অসম মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের সব মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানান। অসম বিধানসভার আসন্ন…

ক্ষুদ্র শিল্প, খাদি শিল্প, সৌরবিদ্যুৎ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির নিয়ম শিথিল করে বিনিয়োগের পথ খুলে দিল সরকার
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : মঙ্গলবার দিসপুর লোভকসেবা ভবনে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার পৌরোহিত্যে বসে অসম মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের সব মন্ত্রী। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা একাধিক জনমুখী সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানান। অসম বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশনে পেশ করার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন সংশোধনে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হল কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন এখন থেকে হবে অনেক সহজ।
ক্ষুদ্র শিল্প, খাদি শিল্প এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের সমস্যা আর থাকবে না। নিজের কৃষি জমিতে কেউ ক্ষুদ্র শিল্প বা খাদি শিল্প গড়তে চাইলে জেলা আয়ুক্তের অনুমতি নিতে হবে না। সোলার প্যানেল বসানোর জন্যও জেলা আয়ুক্তের ছাড়পত্র লাগবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পোর্টালে আবেদন করার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জমির শ্রেণি বদল হয়ে যাবে। আগে কৃষি জমি অকৃষি কাজে ব্যবহার করতে হলে জেলা আয়ুক্তের অনুমতি বাধ্যতামূলক ছিল। এই জটিলতা দূর করতে সংশোধন করা হচ্ছে দ্য অসম এগ্রিকালচারাল ল্যান্ড রেগুলেশন অব রি-ক্লাসিফিকেশন অ্যান্ড ট্রান্সফার ফর নন এগ্রিকালচারাল পারপাস আইন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র শিল্প, খাদি শিল্প এবং সোলার প্যানেল বসানো এই তিনটি কারণে সরাসরি জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে। এর ফলে গ্রামাঞ্চলে ছোট উদ্যোগ গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে বলে আশা সরকারের। তাছাড়া রাজ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করতে জমির শর্তেও বড় ছাড় দিল মন্ত্রিসভা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য আগে গ্রামাঞ্চলে ৬০ বিঘা এবং শহরাঞ্চলে ৩০ বিঘা জমি লাগত। সেই পরিমাণ কমিয়ে গ্রামাঞ্চলে ৩৫ বিঘা এবং শহরাঞ্চলে ২১ বিঘা করা হল। এর জন্য দ্য অসম প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট সংশোধন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইভাবে বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রেও জমির নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে স্কুলের জন্য আগে ৬ বিঘা জমি লাগত, এখন লাগবে ৩ বিঘা। শহরাঞ্চলে ২ বিঘার বদলে ১ বিঘা জমি থাকলেই স্কুল করা যাবে। তবে বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে গুণগত মান ও নিরাপত্তায় জোর দিয়েছে সরকার। স্কুল চত্বরে বাউন্ডারি দেওয়া, ছাত্রীদের জন্য পৃথক টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা, দুর্যোগ প্রশমন ব্যবস্থাপনা এবং দিব্যাঙ্গ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্যে পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়ছে দেখে হোমস্টে নীতিতেও বড় বদল আনল মন্ত্রিসভা। এখন থেকে অসমের যে কোনো প্রান্তের গৃহবাস একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে সহজে নিবন্ধন করতে পারবে। গৃহবাসের নিবন্ধন তিন বছর পর নবীকরণ করতে হবে। আগে গৃহবাসে সর্বাধিক ৬টি ঘর রাখার নিয়ম ছিল, এখন সেটা বাড়িয়ে ৮টি করা হল। হোমস্টে মালিকদের উৎসাহ দিতে রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্যের বিশেষ নীতি আনছে। আগামী বাজেট অধিবেশনে এই নীতির বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শ্রমিক স্বার্থেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। অসম টি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মীদের জন্য স্বেচ্ছামূলক অবসরের প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়েছে। এর জন্য ৯.৭৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে রাজ্য সরকার।
সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবে সুলভ মূল্যের দোকানিদের লাইসেন্স নবীকরণের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ৩০ জুনের বদলে এখন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত লাইসেন্স নবীকরণ করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *