,

‘এবছরই ঢাকায় ফিরছি, গণতন্ত্র ছিনিয়ে আনব’ — ভারত থেকে হুংকার শেখ হাসিনার

‘আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করে লাভ নেই, আমরাই বাংলাদেশ’ — ইউনূস ও বিএনপিকে নিশানা বিশেষ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামি লিগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “এবছরই বাংলাদেশে ফিরে যাব। গণতন্ত্র ফেরানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আর মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই…

‘আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করে লাভ নেই, আমরাই বাংলাদেশ’ — ইউনূস ও বিএনপিকে নিশানা

বিশেষ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামি লিগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “এবছরই বাংলাদেশে ফিরে যাব। গণতন্ত্র ফেরানো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আর মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই আমার লড়াই।”

‘আমি দূরে, কিন্তু চোখ বাংলাদেশেই’
২০২৪ সালের আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তাল পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। প্রায় দুই বছর পর এই প্রথম ফেরার কথা প্রকাশ্যে বললেন তিনি। হাসিনার বক্তব্য, “আমার অনুপস্থিতি মানে নীরবতা নয়। আওয়ামি লিগের প্রতিটি কর্মীর আত্মত্যাগ, কষ্ট, সাহসিকতা আমি অনুভব করি। বাংলাদেশের মানুষের পাশে আমি সবসময় আছি।”

তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। “কেউ গৃহহীন, কেউ ভুয়ো মামলায় জর্জরিত, কেউ আহত হয়ে অঙ্গ হারিয়েছে, কেউ প্রিয়জনকে হারিয়েছে। তবু আওয়ামি লিগ ভেঙে পড়েনি।”

অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপিকে একহাত
ড. মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ক্ষমতাসীন বিএনপি-র কড়া সমালোচনা করেছেন হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, “পরাজয়ের ভয়ে আওয়ামি লিগ-কে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, নিপীড়ন চালিয়ে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে।”

হাসিনার পাল্টা হুঁশিয়ারি, “আওয়ামি লিগ শুধু একটা দল নয়, এটা একটা শক্তি। সংখ্যালঘুদের উপর হামলা মানে দেশের স্বাধীনতার উপর হামলা। এর জবাব দিতে হবে।”

‘১৯৮১-র মতোই লড়ব’
১৯৮১ সালে দীর্ঘ ৬ বছর ভারতে থাকার পর দেশে ফিরে আওয়ামি লিগের হাল ধরেছিলেন শেখ হাসিনা। এবারও তাঁর একই সুর, “বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সব লড়াইয়ে রাজি আমি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, আইনের শাসন কায়েম করা এবং মানুষকে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েই ফিরব।”

দিল্লি-ঢাকা কূটনীতিতে নতুন মোড়
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ভারতেই রয়েছেন হাসিনা। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাঁর প্রত্যর্পণ চাইলেও নয়াদিল্লি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। হাসিনার এই ‘ফেরার বার্তা’ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তাপ যোগ করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। হাসিনার ঘোষণায় আওয়ামি লিগের তৃণমূল কর্মীরা চাঙ্গা হলেও, অন্তর্বর্তী সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *