‘উনিশের মহা পথচলা’ ১৭ মে ।। মে মাস জুড়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের ঠাসা কর্মসূচি

একাদশ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বরাক উপত্যকার সরকারি কাজে বাংলাভাষা বর্জনের নিয়ত প্রয়াসের তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচর। এক্ষেত্রে মঞ্চের অভিমত, ধর্মের নামে মানুষকে বিভাজিত করার চেষ্টা অব্যাহত। বাংলা ভাষাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’, ‘উঁইপোকা’ বলে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে। এর তীব্র বিরোধিতা করছে সম্মিলিত মঞ্চ। এক প্রেস বিবৃতিতে মঞ্চের…

একাদশ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষা আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বরাক উপত্যকার সরকারি কাজে বাংলাভাষা বর্জনের নিয়ত প্রয়াসের তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচর। এক্ষেত্রে মঞ্চের অভিমত, ধর্মের নামে মানুষকে বিভাজিত করার চেষ্টা অব্যাহত। বাংলা ভাষাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’, ‘উঁইপোকা’ বলে দাবিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে। এর তীব্র বিরোধিতা করছে সম্মিলিত মঞ্চ। এক প্রেস বিবৃতিতে মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয় কুমার রায় জানান, বহুত্ববাদের ধারণাকে ধুলিস্যাৎ করে সাম্প্রতিককালে এক ভাষা, এক সংস্কৃতি গড়ার আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মঞ্চের দাবি হচ্ছে, ভাষা শহিদদের স্বীকৃতি, মেহরোত্রা কমিশনের রিপোর্ট অতিসত্বর প্রকাশ, সরকারি স্কুল বেসরকারি স্কুল চালু করা বন্ধ, প্রতিটি ভাষিক জনগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের ন্যূনতম প্রাথমিক স্তরে মাতৃভাষায় শিক্ষালাভের ব্যবস্থা করা, শিলচর-সৌরাষ্ট্র মহাসড়কের কাজ শীঘ্র সম্পন্ন করা এবং অতি সত্বর শিলচর স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘ভাষা শহিদ স্টেশন’ করা। আর এসব দাবি নিয়েই মঞ্চ দীর্ঘ বছর ধরে দাবি পেশ ও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অন্যতম হচ্ছে ভাষাশহিদ দিবসে নানা কর্মসূচি পালন। গত ২৬-২৭ বছর ধরে মঞ্চ শিলচরে ‘হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ চেতনায় উনিশ’ কর্মসূচির অধীনে ১৭ মে ‘মহা পথচলা’ আয়োজন করে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পাশাপাশি গোটা মে মাস জুড়ে গুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ। রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তকে শ্রদ্ধার্ঘ ছাড়াও উনিশের মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি জানান, আগামী ১ মে বিকেল ৪টায় পূর্বতন দেবদূত সিনেমা হলের পাশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে এর সূচনা হবে। ২ মে সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটকের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে মধ্যসহর সাংস্কৃতিক সমিতির সভাগৃহে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় হবে আলোচনাসভা। বিষয়-‘বাংলা চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটকের অবদান’। ৬ মে বিকেল ৩টায় শোভাযাত্রা, ৭মে রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতা ও বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৮ মে বিভিন্ন স্কুল ও সংস্থার রাবীন্দ্রিক অনুষ্ঠান। প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুস্তিকা উন্মোচন, ১০ মে চন্দ্রপুরে চিকিৎসা শিবির ও শিলচর এবং উধারবন্দে অঙ্কন এছাড়াও ৯ মে অর্থাৎ ২৫ শে বৈশাখ সকাল ৬টায় রবীন্দ্র প্রতিযোগিতা, ১১ মে বঙ্গভবনে কলকাতার আমন্ত্রিত শিল্পী অ্যারিনা মুখোপাধ্যায় ও শীর্ষ রায়ের রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুষ্ঠান। ১২ মে শিশুমেলা, ১৩ মে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে অনুষ্ঠান, ১৪ মে মেধা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠান, ১৫ মে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রক্তদান শিবির, হুইল চেয়ার প্রদান, ১৬ মে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের চিত্রকলা প্রদর্শনী ও বহুভাষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্মাননা প্রদান, ১৭ মে ‘উনিশের মহা পথচলা’ ও ক্রোড়পত্র উন্মোচন, ১৮ মে আলপনা অঙ্কন ও পথনাটক, ১৯ মে শহিদদিবসে রেলস্টেশন ও শ্মশানের শহিদবেদীতে মাল্যদান, লোকগানের অনুষ্ঠান, গান্ধীবাগের শহিদবেদীতে মাল্যদান, বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সম্মাননা প্রদান, ২০ মে বঙ্গভবনে বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে বিশিষ্ট লোক সঙ্গীতশিল্পী অভিজিৎ বসুর গানের আসর, এবং ৩০ মে অর্থাৎ ১৫ জ্যৈষ্ঠ গান্ধীবাগে কাজি নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উনিশের মাস অর্থাৎ পুরো মে মাস জুড়েই থাকছে মঞ্চের অনুষ্ঠানমালা। আর প্রতিটি অনুষ্ঠানে ভাষা প্রেমীদের উপস্থিতি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন অজয় কুমার রায়।

One response to “‘উনিশের মহা পথচলা’ ১৭ মে ।। মে মাস জুড়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের ঠাসা কর্মসূচি”

  1. Debobrato Roy Avatar
    Debobrato Roy

    যারা আমাদের বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছে ১১ শহীদ তোমাদেরকে আমরা ভুলিনি ভুলবো না তোমাদের প্রাণের ও রক্তের বিনিময়ে আজ আমাদের মাতৃভাষা ফিরে পেয়েছি.. ভাষা শহীদ তোমাদেরকে জানাই শত কোটি প্রণাম…🙏🙏🙏

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *