বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর উন নবি কী ভাবে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বিস্ফোরক সংগ্রহ করেছিলেন, সেই তথ্য হাতে পেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে উঠে এসেছে, অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই বিস্ফোরকের রাসায়নিক কেনা হয়েছিল।
রাহুল ভাট সেজে মুম্বই থেকে এমএমও
এনআইএ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত উমর নিজেকে ‘রাহুল ভাট’ নামে পরিচয় দিয়ে মুম্বইয়ের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মিক্সড মেটাল অক্সাইড বা এমএমও কেনেন তিনি। বিস্ফোরক তৈরিতে এই রাসায়নিক ব্যবহার হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উমর ওই ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা অনলাইনে মেটান। মুম্বই থেকে সেই বিস্ফোরকের মশলা এসে পৌঁছায় হরিয়ানার আল ফালহা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে। উমর নিজেই ওই ঠিকানায় রাসায়নিক পাঠাতে বলেন এবং পরে নিজে গিয়ে সংগ্রহ করেন।
ভাড়াবাড়িতে গবেষণাগার, অনলাইনে আরও রাসায়নিক
আল ফালহার কাছেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন উমর। সেখানে একটি ছোট গবেষণাগারও তৈরি করেন তিনি। মুম্বই থেকে বিস্ফোরক আনানোর পাশাপাশি একই ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইনেও বিভিন্ন রাসায়নিক কেনেন।
এনআইএ আরও জানতে পেরেছে, এই দু’টি জায়গা ছাড়াও ব্যক্তিগত ভাবে আরও দশ ধরনের বিস্ফোরকের মশলার জন্য আলোচনা চালাচ্ছিলেন উমর। কিন্তু টাকার লেনদেন হওয়ার আগেই গোয়েন্দারা ‘ডক্টরস মডিউল’-এর হদিস পান। ফলে সেই লেনদেন আটকে যায়।
অহমদাবাদেও গিয়েছিলেন উমর
তদন্তকারী সূত্রে খবর, অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর তাঁর সঙ্গী চিকিৎসক মুজ়াম্মিল শাকিলকে নিয়ে গত বছরের অগস্টে গুজরাতের অহমদাবাদে যান। সেখান থেকেও রাসায়নিক সংগ্রহ করেন। পরদিনই হরিয়ানায় ফিরে আল ফালহার কাছে ভাড়াবাড়িতে বিস্ফোরক নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সেগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেন। পরে ওই বিস্ফোরক মজুত করেছিলেন উমর।
লালকেল্লা মেট্রোর সামনে বিস্ফোরণ
লালকেল্লা মেট্রোর সামনে যে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়, সেখানে এই মজুত বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ।
গত ১৪ মে এই বিস্ফোরণকাণ্ডে ৭৫০০ পাতার একটি চার্জশিট তৈরি করেছে দিল্লি পুলিশ। সেখানে ১০ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর।












