,

বরাক নন্দিনীর ২৬তম কৃষ্ণচূড়া উৎসব: সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলনমেলায় মুখর গান্ধী ভবন

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: বরাক নন্দিনী সাহিত্য চর্চা কেন্দ্রের ২৬তম কৃষ্ণচূড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হল রবিবার শিলচরের গান্ধী ভবনে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিকদের সমাগমে সাহিত্যের হাট বসে। উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে পৌরোহিত্য করেন সভানেত্রী সুমিত্রা দত্ত। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ গিরিধারী কর, ডঃ বিভাস দেব, লেখক ও সমাজসেবী অপর্ণা দেব, ডঃ শাহিনারা বেগম এবং সাময়িক প্রসঙ্গ…

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: বরাক নন্দিনী সাহিত্য চর্চা কেন্দ্রের ২৬তম কৃষ্ণচূড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হল রবিবার শিলচরের গান্ধী ভবনে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিকদের সমাগমে সাহিত্যের হাট বসে।

উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে পৌরোহিত্য করেন সভানেত্রী সুমিত্রা দত্ত। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ গিরিধারী কর, ডঃ বিভাস দেব, লেখক ও সমাজসেবী অপর্ণা দেব, ডঃ শাহিনারা বেগম এবং সাময়িক প্রসঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী।

অধ্যাপক শ্যামলী কর ভাওয়ালের সঞ্চালনায় উৎসবের সূচনা হয়। অতিথিদের উত্তরীয়, পুষ্পস্তবক ও প্রীতি উপহার দিয়ে বরণ করা হয়। অতিথিরা মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন। একই সঙ্গে প্রয়াত সভানেত্রী অনুরূপা বিশ্বাসের প্রতিকৃতির সামনে নন্দিনীর সদস্যরা প্রদীপ জ্বালান। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন সংগঠনের সদস্যরা। এদিন সদ্য ‘বরাকরত্ন’ সম্মান প্রাপক পৃষ্ঠপোষক তৈমুর রাজা চৌধুরীকে সম্মানিত করা হয়। কবি পদ্মজা সিনহার পক্ষ থেকে অতিথিদের স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয়।

স্বাগত বক্তব্যে সভানেত্রী সুমিত্রা দত্ত ২০২০ সালের ১৩ মার্চ থেকে বরাক নন্দিনী সাহিত্যচর্চা কেন্দ্রের বর্ণময় যাত্রাপথের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ যাত্রাপথে সংগঠনের ঝুলিতে অনেক প্রাপ্তি ঘটেছে। এই সংগঠনের কল্যাণে অনেক লেখক নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিশীলিত হয়েছেন।

এরপর সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন সম্পাদক সুমিতা দেব মুক্তি। অতিথিদের হাতে স্মরণিকা ‘বরাক নন্দিনী’ উন্মোচিত হয়। পরে সুমিত্রা দত্ত রচিত ‘ডিসক্লাসিফায়েড সুভাষ চন্দ্র’ এবং প্রবন্ধ সংকলন ‘পাঁচ মিশেলী’, সুমিতা দেব মুক্তি রচিত ‘আলোর দিশারী’, শিপ্রা দে রচিত ‘হৃদয় পাখির প্রভাত মালা’ এবং জয়ন্তী দত্ত রচিত ‘রক্তে লেখা উনিশে মে’ সংকলনগুলোর আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে তৈমুর রাজা চৌধুরী বলেন, বরাক নন্দিনীর হাত ধরেই বহু নতুন লেখক উঠে আসছেন। নিয়মিত সাহিত্যচর্চার ফলে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত লেখিকাদের লেখার মানও প্রতিদিন উন্নত হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁদের লেখা বরাকের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডাঃ গিরিধারী কর বলেন, সাহিত্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞান একে অপরের পরিপূরক। গ্রিক দার্শনিক হিপোক্রেটিসের মানবিক চিকিৎসাবোধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মেডিক্যাল হিউম্যানিজমের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। বহু চিকিৎসক অতীতে সাহিত্যচর্চা করেছেন, বর্তমানে করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন বলে মন্তব্য করেন।

ড.বিভাস দেব বরাক নন্দিনী সংগঠনকে একটি ব্যতিক্রমী সাহিত্য সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, আজকের সমাজে নারীরা শুধু পরিবারের নয়, দেশের উন্নয়নেরও সমান অংশীদার। প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন লেখক সমাজসেবী অপর্ণা দেব ও ডঃ শাহিনারা বেগম।

দিনের দ্বিতীয় পর্বে সাহিত্য বাসরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শঙ্কুভূষণ লস্কর ‘এই জীবন শুধু সৃষ্টির জন্য: বুদ্ধদেব বসু ফিরে দেখা’ বিষয়ে নিজের উপলব্ধি তুলে ধরেন। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুরজিৎ প্রামাণিক ‘অবক্ষয় থেকে উত্তরণ: অন্ধকার থেকে আলোর উৎসমুখ’ বিষয়ে সারগর্ভ বক্তব্য রাখেন। সাহিত্য বাসর পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.দূর্বা দেব।

দিনের অন্তিম পর্বে সন্ধ্যায় হয় জমাটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে আমন্ত্রিত শিল্পী দেবপ্রিয় নাগ জসিম উদ্দিনের গান পরিবেশন করেন। শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্য-নাট্যের নির্বাচিত অংশ পরিবেশিত হয়। এছাড়াও বরাক নন্দিনী সাহিত্য চর্চাকেন্দ্রের সদস্যদের পরিবেশনায় নাচ, গান, কবিতা ও গীতি আলেখ্য রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *