,

মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তিতে দেশজুড়ে প্রচার কর্মসূচির প্রস্তুতি বিজেপির, ৫ মূল বিষয়ে জোর

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে প্রচার কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের কাজকর্ম, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার সাফল্য তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি নেতৃত্ব, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ এবং…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে প্রচার কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি এবং কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের কাজকর্ম, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তার সাফল্য তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিজেপি নেতৃত্ব, বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ এবং দলের পদাধিকারীরা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বেন। সাংবাদিক বৈঠক, জনসভা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে সরকারের রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরা হবে।

পাঁচ মূল বিষয় ও ২২টি ক্ষেত্র
সূত্রের দাবি, পুরো প্রচার কর্মসূচিকে পাঁচটি মূল বিষয়ের উপর সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি ২২টি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলিকে কেন্দ্র করে প্রচার চালানো হবে।

‘লোকসেবা’: গরিব, কৃষক, মধ্যবিত্ত এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ তুলে ধরা হবে।
‘সশক্তিকরণ’: মহিলাদের ক্ষমতায়ন, যুব সমাজের উন্নয়ন, পিছিয়ে পড়া শ্রেণির কল্যাণ এবং কৃষকদের জন্য নেওয়া পদক্ষেপের উপর জোর দেওয়া হবে।
‘রাষ্ট্র নির্মাণ’: অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসা সহজীকরণ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন তুলে ধরা হবে।
‘রাষ্ট্র প্রথম’: জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশনীতি, জঙ্গিবিরোধী অভিযান এবং নকশাল দমনে সরকারের পদক্ষেপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘ঐতিহ্যও, উন্নয়নও’: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের মতো বিষয় তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

তৃণমূল স্তরে পৌঁছানোর লক্ষ্য
সূত্রের খবর, সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের কাজ যাতে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সমন্বিতভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য এবং নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মন্ত্রীদের বিভিন্ন তথ্য, প্রকল্পের সাফল্য এবং বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগের সরকারগুলির সঙ্গে তুলনা টেনে বিজেপির শাসনব্যবস্থার বার্তা আরও জোরালো করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিরোধীদের আক্রমণের পাল্টা
বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের পাল্টা দিতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, ডিজিটাল প্রশাসন, সড়ক ও রেল সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলি বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে বলেও সূত্রের দাবি।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনগুলির আগে এই প্রচার কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিজেপির বিশ্বাস, উন্নয়ন, পরিষেবা এবং দৃঢ় নেতৃত্বকে সামনে রেখে এই সংগঠিত প্রচার ভোটারদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।

এই কর্মসূচির মধ্যে থাকবে গণমাধ্যমে ব্রিফিং, জেলা স্তরের প্রচার অভিযান, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠক, সমাজমাধ্যমে প্রচার এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *