নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সাতদিনের বিদেশ সফরের শুরুতেই বড় সাফল্য পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছ থেকে পেট্রোলিয়ামের অতিরিক্ত ভাণ্ডার নির্মাণ এবং নিয়মিত এলপিজি সরবরাহের নিশ্চয়তা আদায় করেছে ভারত। শুক্রবার আবুধাবিতে আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ভারতে ৫০০ কোটি ডলার লগ্নির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে আমিরশাহি।
কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎসের খোঁজে ছিল নয়াদিল্লি। আমেরিকা, রাশিয়া ও ইরানের পাশাপাশি একটি বিশ্বাসযোগ্য জ্বালানি অংশীদার দরকার ছিল। সেই লক্ষ্যেই মোদির এই সফর।চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে পেট্রল-ডিজেলের অভাব না হয়, তার জন্য ভারতে অতিরিক্ত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার গড়তে সহযোগিতা করবে আমিরশাহি। একই সঙ্গে এলপিজি সরবরাহ নিয়মিত রাখার প্রতিশ্রুতিও মিলেছে।
কৌশলগত সম্পর্ক আরও উষ্ণ
দুই দেশের সরকারের সম্পর্ক আগে থেকেই ভালো। তবে গত দেড় মাসে কৌশলগতভাবে সেই সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করা হয়েছে। আমেরিকার হামলার জবাবে ইরান যখন আমিরশাহি সহ গোটা আরব দুনিয়াকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়ে, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদি ব্যক্তিগতভাবে এর নিন্দা করেন। আমিরশাহিকে মিত্রতার বার্তা দেন এবং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই প্রেক্ষাপটেই এই সফর ও চুক্তি।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও চুক্তিতে
জ্বালানি ছাড়াও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তিও হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে বলেন, “আমরা পশ্চিম এশিয়ায় একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে কাজ করব।” চুক্তির পর মোদি বলেন, “এ যেন আমার দ্বিতীয় ঘর!”
সফরের পরবর্তী গন্তব্য
আমিরশাহির পর প্রধানমন্ত্রী যাবেন নেদারল্যান্ড, ইতালি, সুইডেন ও নরওয়ে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, ইউরোপ সফরের আগে ঘরের কাছের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেশীর সঙ্গে জ্বালানি-মৈত্রী চুক্তি করা ছিল সবচেয়ে জরুরি। দেশে ফিরে মোদি ইতিমধ্যে নাগরিকদের পেট্রল-ডিজেল কম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মধ্যে আমিরশাহির এই নিশ্চয়তা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অনেকটাই শক্তিশালী করবে।












