বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: এক সময় অসমের রাজনীতিতে ধুমকেতুর মতো উত্থান। আর দুই দশক পেরোতে না পেরোতেই কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই স্পষ্ট, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এআইইউডিএফ এখন অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন লড়াইয়ে। দলের সুপ্রিমো মওলানা বদরুদ্দিন আজমল হোজাইর বিন্নাকান্দি আসনে জিতলেও দলের ভরাডুবি ঠেকাতে পারেননি। রাজ্যজুড়ে মাত্র ২টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে দলটি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে, বরাক উপত্যকায় একটিও আসন জিততে পারেনি, কার্যত খাতা খুলতেই ব্যর্থ হয়েছে এআইইউডিএফ। একাধিক আসনে লড়লেও সাফল্য শূন্যের কোটায়। প্রসঙ্গত , আত্মপ্রকাশের পর ২০০৬ সালের প্রথম নির্বাচনে ১০টি আসন জিতে ৯.০৩ শতাংশ ভোট পেয়ে চমক দিয়েছিল দলটি। ২০১১ সালে ১৮টি আসন ও ১২.৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে এআইইউডিএফ সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে এবং অন্যতম বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসে। ২০১৬ সালে আসন কমে ১৩ হলেও ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১৩.০৫ শতাংশ। ২০২১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে মহাজোট গড়ে ১৬টি আসন জেতে দলটি, যদিও ভোটের হার কিছুটা কমে ৯.২৯ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে ছবিটা একেবারে উল্টো। মাত্র ২টি আসন এবং প্রায় ৫.৩৯ শতাংশ ভোটে থেমে গেল এআইইউডিএফের যাত্রা। একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৮২টি আসন পেয়ে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের নেপথ্যে একাধিক কারণ কাজ করেছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় বহু মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্রের জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে যায়, যা এআইইউডিএফের ভোটভিত্তিতে বড় আঘাত হানে। ২০২১ সালের পর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে যাওয়ায় ভোট বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ধুবড়ি কেন্দ্র থেকে বদরুদ্দিন আজমলের পরাজয় দলটির দুর্বলতার আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিল। এক সময় বরাক উপত্যকাতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল দলের। ২০২১ সালের নির্বাচনে বরাকের ১৫টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জয় পেয়েছিল এআইইউডিএফ। জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন হাইলাকান্দির আলগাপুর থেকে নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, কাছাড়ের সোনাই থেকে করিম উদ্দিন বড়ভূইয়া, হাইলাকান্দির কাটলিছড়া আসনে সুজাম উদ্দিন লস্কর, বদরপুর থেকে আব্দুল আজিজ এবং হাইলাকান্দি থেকে জাকির হোসেন লস্কর। ওই সাফল্য মহাজোটকে শক্তিশালী করেছিল। তবে ২০২৬ সালে এই বরাকেই একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে দলটি। অথচ উপত্যকায় এআইইউডিএফ-র প্রভাবের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত মিলেছিল আগে-ও। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে শিলচর কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা সন্তোষ মোহন দেবের পরাজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল এআইইউডিএফ। সে সময় বিশেষ প্রচার ছাড়াই প্রায় দু লক্ষ ভোট পেয়েছিলেন বদরুদ্দিন আজমল।
সব মিলিয়ে ২০০৬ সালে যে দলটি অসম রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছিল, ২০২৬-এ এসে সেই দলই কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত। দুই আসনে সঙ্কুচিত হয়ে পড়া এআইইউডিএফের সামনে এখন নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ধুমকেতুর উত্থান থেকে মুখ থুবড়ে পতন, দুই আসনে সঙ্কুচিত এআইইউডিএফ
বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: এক সময় অসমের রাজনীতিতে ধুমকেতুর মতো উত্থান। আর দুই দশক পেরোতে না পেরোতেই কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই স্পষ্ট, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট বা এআইইউডিএফ এখন অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন লড়াইয়ে। দলের সুপ্রিমো মওলানা বদরুদ্দিন আজমল হোজাইর বিন্নাকান্দি আসনে জিতলেও দলের ভরাডুবি ঠেকাতে পারেননি। রাজ্যজুড়ে মাত্র ২টি আসনে…

Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News











