বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী উপন্যাস ‘নৌকাডুবি’ এবার পূর্ণদৈর্ঘ্যের নাট্যপ্রযোজনা হিসেবে গুয়াহাটির দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছে শিলচরের আজকের প্রজন্ম থিয়েটার। ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে আগামী ৭ অক্টোবর শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্রের মাধবদেব আন্তর্জাতিক অডিটোরিয়ামে বিকেল ৫টা থেকে মঞ্চস্থ হবে নাটকটি। গুয়াহাটির রবীন্দ্রপ্রেমী দর্শকদের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ আয়োজন করেছে ব্যতিক্রম গ্রুপ।
আজকের প্রজন্ম থিয়েটার নবীন প্রজন্মের নাট্যদল হলেও এই প্রযোজনায় নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের সুন্দর মেলবন্ধন ঘটেছে। একঝাঁক তরুণ শিল্পীর পাশাপাশি বরাকের অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় তিনজন সিনিয়র শিল্পীও অভিনয়ে রয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথের দীর্ঘ উপন্যাস ‘নৌকাডুবি’ এর আগেও চলচ্চিত্রে নানা আঙ্গিকে উঠে এসেছে। সাদা-কালো যুগে পরিচালক অজয় কর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও অপর্ণা সেনের মতো শিল্পীদের নিয়ে উপন্যাসটিকে রুপোলি পর্দায় তুলে ধরেছিলেন। পরবর্তীতে প্রয়াত কিংবদন্তি পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের চিত্রনাট্য ও নির্মাণে ‘নৌকাডুবি’ নতুন প্রজন্মের রবীন্দ্রপ্রেমী দর্শকদের কাছে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করে।
ঋতুপর্ণ ঘোষের সেই চিত্রনাট্যকে অবলম্বন করেই নির্মিত হয়েছে আজকের প্রজন্ম থিয়েটারের এই নাট্যপ্রযোজনা। অসমের হাইলাকান্দি জেলার তরুণ নাট্যকার বিপ্লব দাস নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বিবর্তন থিয়েটারের সহযোগিতায় শিলচরের আজকের প্রজন্ম নাট্যদল প্রথমবারের মতো ‘নৌকাডুবি’ মঞ্চস্থ করে। এরপর গত দুই বছরে অসমের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বহিঃরাজ্যের বিভিন্ন মঞ্চেও প্রশংসা পেয়েছে এই প্রযোজনা। সম্প্রতি কলকাতার তপন থিয়েটারেও অনীকের আমন্ত্রণে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়ে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছে।
এবার ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে গুয়াহাটির দর্শকদের সামনে মঞ্চস্থ হতে চলেছে এই বহুল প্রশংসিত প্রযোজনা। এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড. সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সকলের। ‘নৌকাডুবি’র মতো একটি কালজয়ী উপন্যাস যখন তরুণ শিল্পীদের হাত ধরে নতুন মঞ্চভাষায় দর্শকদের সামনে আসে, তখন তা শুধু একটি নাট্যপ্রযোজনা হয়ে থাকে না, বরং আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের একটি সংযোগ তৈরি করে। ব্যতিক্রম গ্রুপ সবসময়ই এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করে এসেছে। শিলচরের আজকের প্রজন্ম থিয়েটারের এই প্রযোজনাকে গুয়াহাটির দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পেরে আমরা আনন্দিত। আশা করি, রবীন্দ্রপ্রেমী দর্শক এই নাটককে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবেন।”
প্রযোজনাটি সম্পর্কে পরিচালক সায়ন বিশ্বাস বলেন, “রবীন্দ্রনাথের ‘নৌকাডুবি’র মতো একটি গভীর ও দীর্ঘ কাহিনিকে মঞ্চে তুলে ধরা আমাদের কাছে যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনই আনন্দের। প্রযোজনাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্র-আবহ তৈরি করার চেষ্টা করেছি আমরা। সঙ্গীত, আলো, পোশাক, সেট থেকে শুরু করে অভিনয়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের পুরো দলের সম্মিলিত প্রয়াস রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এই প্রযোজনায় নবীন শিল্পীদের সঙ্গে বরাকের অভিজ্ঞ শিল্পীদেরও একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। গুয়াহাটির দর্শক আমাদের এই প্রয়াসকে কীভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “১৬ জনের দল নিয়ে আমরা গুয়াহাটিতে আসছি। পূর্ণদৈর্ঘ্যের এই প্রযোজনায় থাকছে বেশ কিছু রবীন্দ্রসংগীত। কলকাতার তরুণ প্রজন্মের দুই শিল্পী ভূমিকা গঙ্গোপাধ্যায় ও সুতীর্থ চক্রবর্তী গানগুলিতে কণ্ঠ দিয়েছেন। সেবায়ন রায়চৌধুরীর ভাবনায় মিউজিক ও আবহসঙ্গীতের কম্পোজিশন করেছেন দোহারের শিল্পী সুদীপ্ত চক্রবর্তী সৌম্য। আলো প্রক্ষেপণে রয়েছেন রূপরাজ দেব এবং রূপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন স্বপনকান্তি কর।”
প্রায় ২ ঘণ্টা ৫ মিনিটের এই নাটকে রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী কাহিনি নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। নাটকটি দেখার জন্য কোনও প্রবেশমূল্য থাকছে না। সন্ধ্যা ৫টা থেকেই দর্শকদের জন্য অডিটোরিয়ামে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।












