,

শিলচর পুরনিগম নির্বাচনের আগে মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির — ১০ হাজার স্ট্রিট লাইটে বদলে যাবে শহরের চেহারা: মন্ত্রী কৌশিক রায়

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, শিলচর : বরাক উপত্যকার রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র শিলচরে এখন ভোটের হাওয়া। প্রথমবার পুরনিগম হিসেবে নির্বাচন হতে চলেছে শিলচরে। আর এই প্রথম নির্বাচনকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। শহরের চা দোকান থেকে অটো স্ট্যান্ড, সর্বত্র আলোচনা – এবার কার দখলে যাবে শিলচর পুরনিগম? ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি বুথে চলছে জোর কদমে প্রচার। এই আবহেই সোমবার নির্বাচনী প্রচারে বড়সড়…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন, শিলচর : বরাক উপত্যকার রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র শিলচরে এখন ভোটের হাওয়া। প্রথমবার পুরনিগম হিসেবে নির্বাচন হতে চলেছে শিলচরে। আর এই প্রথম নির্বাচনকে ঘিরে উন্মাদনা তুঙ্গে। শহরের চা দোকান থেকে অটো স্ট্যান্ড, সর্বত্র আলোচনা – এবার কার দখলে যাবে শিলচর পুরনিগম? ৪২টি ওয়ার্ডের প্রতিটি বুথে চলছে জোর কদমে প্রচার।

এই আবহেই সোমবার নির্বাচনী প্রচারে বড়সড় চমক দিল শাসক দল বিজেপি। উন্নয়নকেই হাতিয়ার করে ভোট ময়দানে নামতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেই লক্ষ্যেই নবগঠিত পুরনিগমের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০ হাজার অত্যাধুনিক স্ট্রিট লাইট বসানোর ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায়।

নিউ শিলচরে জনসমুদ্র:
সোমবার সন্ধ্যায় নিউ শিলচরের মাইকেল মধুসূদন দত্ত সরণি সংলগ্ন বিশাল মাঠে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি মনোনীত প্রার্থী চৈতালি সাধ্য দেবের সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়। সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যা ৬টা থেকেই দলে দলে মানুষ আসতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বরাক উপত্যকা উন্নয়ন, নগরোন্নয়ন এবং খনি ও খনিজ দপ্তরের মন্ত্রী কৌশিক রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিলচরের জনপ্রিয় বিধায়ক ডা. রাজদীপ রায়, হাইলাকান্দির বিধায়ক মিলন দাস সহ জেলা ও মণ্ডল স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব।

কী বললেন মন্ত্রী কৌশিক রায়:
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, “শিলচর পুরসভা যখন পুরনিগমে উন্নীত হয়েছে, তখন এর আয়তন বেড়েছে তিনগুণ। শহরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাঙ্গিরখাড়ি, তারাপুর, মালিনী বিল, বড়খলা রোডের বিস্তীর্ণ গ্রামীণ এলাকা। শহরের ভেতরে আলো আছে, কিন্তু নতুন যুক্ত হওয়া এই এলাকাগুলিতে সন্ধ্যার পর নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মা-বোনেরা সুরক্ষিত নন, ছাত্র-ছাত্রীরা টিউশন থেকে ফিরতে ভয় পায়, বয়স্ক মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কথা দিচ্ছি না, কাজ করে দেখাব। নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সমগ্র পুরনিগম এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ১০ হাজার অত্যাধুনিক এলইডি স্ট্রিট লাইট বসানো হবে। যাতে রাতের শিলচর দিনের মতোই উজ্জ্বল থাকে। এটা কোনও নির্বাচনী জুমলা নয়, এটা বিজেপি সরকারের গ্যারান্টি।”

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিলচর পুরনিগমে বিজেপির জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য শুধু জয় নয়, আমাদের লক্ষ্য ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪২টিতেই জয়। এমন ব্যবধানে জিততে হবে যাতে বিরোধীরা আগামী ১০ বছরেও মাথা তুলতে না পারে। শিলচরের উন্নয়নের গতি অপ্রতিরোধ্য করতে পদ্মফুলে ভোট দিন।”

মন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শিলচর সফরে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডে এক ঐতিহাসিক জনসভায় তিনি শিলচরবাসীকে বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পরই শিলচরের নির্বাচনী হাওয়া পুরোপুরি বিজেপির দিকে ঘুরে যাবে বলে তিনি দাবি করেন।

বিধায়কদের বক্তব্য ও বিরোধীদের আক্রমণ:
শিলচরের বিধায়ক ডা: রাজদীপ রায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার আন্তরিক সদিচ্ছা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই শিলচর পুরসভা আজ পুরনিগম। এই উত্তরণের ফলে এখন কেন্দ্রীয় সরকারের স্মার্ট সিটি মিশন, অমৃত ২.০ প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা সরাসরি শিলচরে আসবে। কিন্তু সেই টাকা আনার জন্য এবং সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিজেপির বোর্ড দরকার। কংগ্রেসের বোর্ড এলে সেই টাকা লুট হয়ে যাবে।”

হাইলাকান্দির বিধায়ক ড.মিলন দাস কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “কংগ্রেসের ৬০ বছরের শাসনে বরাক উপত্যকার মানুষের ভাগ্যের কোনও পরিবর্তন হয়নি। তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, রাস্তা দেয়নি, জল দেয়নি, আলো দেয়নি। এখন ভোটের সময় তারা আবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসবে। তাদের ফাঁদে পা দেবেন না।”

ঘরের মেয়ে চৈতালির আবেগঘন আবেদন:
সবশেষে বক্তব্য রাখেন ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী চৈতালি সাধ্য দেব। তিনি বলেন, “আমি আপনাদেরই ঘরের মেয়ে, আপনাদেরই বোন, আপনাদেরই দিদি। এই ওয়ার্ডের প্রতিটি গলি, প্রতিটি সমস্যা আমার জানা। কোথায় জল জমে, কোথায় রাস্তা ভাঙা, কোথায় আলো নেই – সব আমি জানি।”

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “শুধু আমাকে আপনারা আশীর্বাদ করবেন তা নয়, প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের প্রার্থীকে আপনারা ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী করুন, এই কামনা করছি। আমার একার জয়ে শিলচরের উন্নয়ন হবে না, ৪২টি ওয়ার্ডে বিজেপি জিতলেই শিলচরের সার্বিক বিকাশ সম্ভব।”

তাঁর এই বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতা হাততালি দিয়ে তাঁকে সমর্থন জানান।

সভায় উপস্থিতি:
এদিনের সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গোপাল কান্তি রায়, মণ্ডল সভাপতি মিঠুন রায়, অধ্যাপক অশোক গুপ্তরায়, প্রাক্তন পৌর সদস্য অসীম দাস, সুশংকর রায়, এসসি মোর্চার জেলা সহ-সভাপতি বাবলু কেওট, ৩৪ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রভারি বিপ্লব দেবনাথ, সমাজসেবী সঞ্জিত দেব, প্রভাসী প্রভারি সঞ্জিত দাস, হরেন্দ্র চন্দ্র দাস, নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস, রাজেন রাই, অমিত রাই, বিরেশ চন্দ্র দাস, শক্তি কেন্দ্র প্রমুখ অসীম কুমার, সুকান্ত পাল প্রমুখ। সভার শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় ও ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন উমা দাস, অমিত পোদ্দার, শেখর দাস, সুশান্ত ভৌমিক ও নন্দলাল রবিদাস।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, সমাজসেবী ও শিল্পপতি কুমারজিৎ দেব (মান্না)। এদিকে ৩৪ নং মণ্ডলের প্রভারী বিপ্লব দেবনাথের সাবলীল সঞ্চালনায় সভাটি এক অন্য মাত্রা পায়। সভা শেষে দলীয় কর্মীদের মধ্যে যে উদ্দীপনা দেখা গেছে, তাতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবার বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *