,

ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে নেপালি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে ড.সীমা কাশ্যপের ‘জুবিন এটি সত্ত্বা’

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসমের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গার্গের জীবন, সৃষ্টিশীলতা ও বহুমাত্রিক শিল্পীসত্তাকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে ড. সীমা কাশ্যপ রচিত গ্রন্থ ‘জুবিন এটি সত্ত্বা’ এবার নেপালি ভাষায় প্রকাশিত হতে চলেছে। গ্রন্থটির নেপালি অনুবাদ করছেন সাহিত্যিক নয়না অধিকারী। এর আগে বইটি বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। এবার নেপালি ভাষায়…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসমের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গার্গের জীবন, সৃষ্টিশীলতা ও বহুমাত্রিক শিল্পীসত্তাকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে ড. সীমা কাশ্যপ রচিত গ্রন্থ ‘জুবিন এটি সত্ত্বা’ এবার নেপালি ভাষায় প্রকাশিত হতে চলেছে। গ্রন্থটির নেপালি অনুবাদ করছেন সাহিত্যিক নয়না অধিকারী। এর আগে বইটি বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। এবার নেপালি ভাষায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে জুবিনের শিল্পীসত্তা আরও একটি বৃহৎ ভাষাভাষী পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে যাবে।

অসমের নেপালি ভাষার সাহিত্যচর্চায় নয়না অধিকারী একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তাঁর সাহিত্যিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২৩ সালে নেপালি ভাষার জন্য মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কারে সম্মানিত হন। তাঁর ‘ঘাট-প্রতিঘাতকা উদ্‌দ্গারহারু’ গ্রন্থের জন্য তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা হয়। এমন একজন স্বীকৃত সাহিত্যিকের অনুবাদে ‘জুবিন এটি সত্ত্বা’ নেপালি ভাষায় প্রকাশিত হওয়ায় গ্রন্থটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

জুবিন গার্গের সংগীত ও শিল্পীসত্তা ভাষা ও ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে মানুষের মধ্যে এক গভীর আবেগের সম্পর্ক তৈরি করেছে। তাঁর গান, সুর, অভিনয় এবং বহুমুখী সৃজনশীলতা উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক পরিসরকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে। সেই শিল্পীসত্তাকে একের পর এক ভারতীয় ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস ‘জুবিন এটি সত্ত্বা’-কে একটি বহুভাষিক সাংস্কৃতিক দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।

গ্রন্থটির লেখক ড. সীমা কাশ্যপ বলেন, ” ‘জুবিন এটি সত্ত্বা’ আমার কাছে শুধু একজন শিল্পীকে নিয়ে লেখা একটি বই নয়, এটি জুবিন গার্গের বহুমাত্রিক শিল্পীসত্তা, তাঁর সৃষ্টির প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং অসমের সাংস্কৃতিক আবেগকে ধারণ করার একটি প্রয়াস। বইটি ইতিমধ্যে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। এবার নেপালি ভাষায় প্রকাশিত হতে চলেছে-এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও আবেগের মুহূর্ত। বিশেষ করে নয়না অধিকারীর মতো একজন স্বনামধন্য সাহিত্যিক এই অনুবাদের দায়িত্ব নেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। ভাষা বদলালেও জুবিনের গান, তাঁর অনুভব এবং তাঁর শিল্পীসত্তার প্রতি মানুষের ভালোবাসা একই থাকে। নেপালি ভাষার পাঠকদের কাছে জুবিনের জীবন ও সৃষ্টির এই যাত্রা পৌঁছে দিতে পারা আমার কাছে সত্যিই গর্বের।”

ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড. সৌমেন ভারতীয় বলেন, “অসমের মাটিতে নেপালি ভাষা ও সাহিত্যের যে সমৃদ্ধ চর্চা হয়ে আসছে, নয়না অধিকারীর মতো তরুণ সাহিত্যিকরা তাকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলছেন। সাহিত্য অকাদেমি যুব পুরস্কারে সম্মানিত নয়না অধিকারীর সাহিত্যিক প্রতিভার মাধ্যমে ড. সীমা কাশ্যপের ‘জুবিন এটি সত্ত্বা’ নেপালি ভাষায় প্রকাশিত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জুবিন গার্গের সৃষ্টিকে ভাষার সীমানা অতিক্রম করে আরও বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস উত্তর-পূর্ব ভারতের বহুভাষিক সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *