বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর: শিলচর পৌরসভা ভোটের টিকিট ঘোষণার পর থেকেই শহরজুড়ে একটাই আলোচনা — প্রার্থী কারা? তাদের অতীত কী? এই নিয়েই এবার মুখ খুললেন শহরের বিশিষ্ট নাগরিক দিলীপ কুমার দে।
তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, যারা আজ টিকিট পেয়ে নেতা-নেত্রী হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগকেই কোনও দিন সমাজের কাজে দেখা যায়নি।
দিলীপ বাবুর প্রশ্ন, “যারা পৌরভোটে প্রার্থী হয়েছেন তাদের বেশিরভাগ কি কস্মিনকালেও শিলচরের রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা, বিদ্যুৎ, পরিশ্রুত জল সরবরাহ, ফুটপাত, ট্রাফিক সমস্যা, জমাট জল নিয়ে কথা বলেছেন? জন-যন্ত্রণার কথা প্রকাশ্যে আলোচনা করেছেন?”
তাঁর কথায়, শিলচরের মানুষ প্রতিদিন যে যন্ত্রণা ভোগ করে, সেই যন্ত্রণার সঙ্গে এই প্রার্থীদের কোনও সম্পর্কই নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহর ডুবে যায়। প্রেমতলা থেকে রাঙ্গিরখাড়ি, মালুগ্রাম থেকে ন্যাশনাল হাইওয়ে — সর্বত্র জমাট জল। রাস্তায় খানাখন্দ, ফুটপাত বেদখল, নর্দমা উপচে দুর্গন্ধ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য হাহাকার। এই সব নিয়ে কোনও দিন তাদের রাস্তায় নামতে, পুরসভায় যেতে বা একটা স্মারকলিপি দিতেও দেখা যায়নি।
“জনসেবার কোনও ট্র্যাক রেকর্ড নেই। আগের কোনও উদাহরণ নেই। হঠাৎ টিকিট পেয়ে নেতা/নেত্রী,” — বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভা মানে সরাসরি জনসেবা। এখানে বড় বড় ভাষণ চলবে না। মানুষ দেখবে, বন্যার সময় কে ছিল, কোভিডের সময় কে সাহায্য করেছে, রক্তদান শিবিরে কে এসেছে, পাড়ার সমস্যায় কে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু এই প্রার্থীদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই সেই ইতিহাস শূন্য।
তবে তিনি নিরাশ নন। শেষে তিনি বলেন, “নির্বাচিত হয়ে কাজ করলে ভাল।”
দিলীপ বাবুর এই বক্তব্য শহরের সচেতন নাগরিকদের মনের কথাই তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।












