নয়াদিল্লি। ২৪ সেপ্টেম্বর: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করল বিরোধী জোট। সংসদের দুই কক্ষেই একযোগে নোটিস দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে খসড়া প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর।
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করল বিরোধীরা। এর আগে লোকসভা ও রাজ্যসভায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা নোটিস স্পিকারের কাছে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পর পরিস্থিতি বদলেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের ভিতরে বহুবার মতবিরোধ হয়েছে। অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর আপত্তি উপেক্ষা করেই নাকি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়েও আপত্তি ছিল বলে দাবি।
এই প্রতিবেদন সামনে আসতেই সরব হয়েছে গোটা বিরোধী শিবির। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন।
এদিন আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সিইসি-র বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, অবিলম্বে এফআইআর করে জ্ঞানেশ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।
মহুয়ার ভাষায়, “দুই কমিশনারকে পাশে না নিয়ে একা সিদ্ধান্ত নেওয়া বেআইনি। জ্ঞানেশ কুমার একজন ক্রিমিনালের মতো আচরণ করছেন।”
অন্যদিকে তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন একটি বিবৃতি দিয়ে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সিইসি-র মতো সাংবিধানিক পদ থেকে কাউকে সরাতে হলে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে কমপক্ষে ১০০ জন সাংসদের সই লাগে। বিরোধীরা সেই সংখ্যা জোগাড় করতে পারে কি না এবং এবারের প্রস্তাব টিকে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।












