বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : শিলচরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবার এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। শহর শিলচর প্রথমবার পৌরনিগম হিসাবে ভোট দেবে। আর সেই ঐতিহাসিক ভোটকে সামনে রেখে বিজেপি যে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ, তা দলের সাম্প্রতিক তৎপরতা দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।
পুরসভা থেকে পৌরনিগম — শিলচরের এই উত্তরণকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবেই দেখছে গেরুয়া শিবির। তাই জেলা নেতৃত্বের ওপর ভরসা না করে এবার সরাসরি রাজ্য নেতৃত্বকেই ময়দানে নামানো হচ্ছে।
তিন দিন শিলচরে থাকবেন দিলীপ শইকিয়া
দলীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শিলচরে আসছেন অসম প্রদেশ বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়া। ২৪, ২৫ ও ২৬ — টানা তিন দিন তিনি শিলচরেই থাকবেন।
এই তিন দিনে তাঁর ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। শুধু একটি জনসভা করে চলে যাওয়া নয়, তাঁর লক্ষ্য বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করা। জানা গেছে, তিনি ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ২০-২২টি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে সরাসরি কর্মী বৈঠক করবেন। যেখানে বুথ সভাপতি থেকে শুরু করে পৃষ্ঠা প্রমুখ পর্যন্ত সবাইকে নিয়ে রণকৌশল ঠিক করবেন তিনি। যেসব ওয়ার্ডে লড়াই তুলনামূলক কঠিন, সেখানে তিনি নিজে জনসংযোগেও নামতে পারেন।
জেলা বিজেপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, প্রদেশ সভাপতির সফরকে ঘিরে জেলায় ইতিমধ্যে প্রস্তুতি বৈঠক হয়েছে। কোন এলাকায় কী সমস্যা, কোন ওয়ার্ডে প্রচারে ঘাটতি রয়েছে — তার একটি রিপোর্টও তৈরি করা হচ্ছে যা প্রদেশ সভাপতির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মাসের শেষে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত
প্রদেশ সভাপতির সফর শেষ হওয়ার পরপরই এই মাসের শেষ সপ্তাহে শিলচরে আসার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার। দলীয় সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুধু নির্বাচনী প্রচারেই আসবেন না, তাঁর হাত ধরে বরাক উপত্যকায় বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণাও হতে পারে।
যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে দুটি বড় জনসভা ও একটি রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি চূড়ান্ত হলেই জেলা প্রশাসন ও দলীয় স্তরে যৌথ প্রস্তুতি শুরু হবে।
কেন এত গুরুত্ব?
রাজনৈতিক মহলের মতে, শিলচর পৌরনিগমের এই ভোট বিজেপির কাছে শুধু একটি পুরভোট নয়।
প্রথমত, ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৮টিতে বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে। দুটি ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ, শুরু থেকেই বিজেপি সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে। এই সুবিধাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বোর্ড দখল করতে চায় দল।
দ্বিতীয়ত, বরাক উপত্যকায় কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলও এই ভোটকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাই কোনোভাবেই যাতে সংগঠনের দুর্বলতার জন্য কোনো ওয়ার্ড হাতছাড়া না হয়, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্য নেতাদের বারবার শিলচরে আনা হচ্ছে।
মাঠে সক্রিয় স্থানীয় নেতৃত্ব
রাজ্য নেতৃত্ব আসার আগেই মাঠে নেমে পড়েছেন বরাকের মন্ত্রী ও বিধায়করা। জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায়, সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ প্রতিদিন ৩ থেকে ৪টি ওয়ার্ডে প্রচার চালাচ্ছেন। তাঁরা ভোটারদের কাছে মূলত দুটি বিষয় তুলে ধরছেন — গত পাঁচ বছরে রাজ্য সরকারের উন্নয়ন এবং শিলচরকে পৌরনিগম করার পর কী কী সুবিধা পাবে শহরবাসী।
সব মিলিয়ে শিলচরের প্রথম পৌরনিগম নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রদেশ সভাপতির তিন দিনের সফর এবং মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর যে বিজেপির প্রচারে নতুন গতি আনবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার, এই হাইভোল্টেজ প্রচার শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।












