হিংসা, মারপিট কংগ্রেসেরই অপসংস্কৃতি, বিজেপির নয়: রাজ্যিক বিজেপি
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : আগামী ৬ অক্টোবর নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলের প্রচার যখন গতি পেয়েছে, তখন গতকাল চামগুড়ি সমষ্টিতে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত হিংসাত্মক ঘটনায় বিজেপি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আজ বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির মুখপাত্র কিশোর কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এই ঘটনার জন্য কংগ্রেস বিজেপিকে দায়ী করছে, যা হাস্যকর। কারণ নানা আন্তঃদলীয় সংঘাতে জর্জরিত কংগ্রেস দলের লোকেরাই এই ঘটনায় জড়িত থাকার সম্ভাবনা বেশি।
তিনি বলেন, একটানা বহু বছর ধরে প্রতিনিধিত্ব করা রকিবুল হুসেনের চামগুড়ি সমষ্টিতে নির্বাচনী হিংসা কোনো নতুন কথা নয়। এর আগেও নির্বাচনের সময় চামগুড়ি সমষ্টিতে বহু হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে এবং পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে যে তা দলের অন্তর্কলহেরই ফল। আসলে জনগণের উন্নয়নকে উপেক্ষা করে এবং সমষ্টির নিষ্ঠাবান কর্মীদের একপাশে সরিয়ে রকিবুল হুসেন চামগুড়ি সমষ্টিকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করারই পরিণতি এটি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এলেই কংগ্রেসের আন্তঃদলীয় সংঘাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা অসমের মানুষ প্রত্যক্ষ করে আসছে। বংশবাদ, প্রার্থী পদের জন্য আর্থিক লেনদেন, ক্ষমতার কাড়াকাড়িই এসব ঘটনার মূল কারণ। নির্বাচনের সময় রাজীব ভবন কুরুক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার দৃশ্য অসমের মানুষের কাছে নতুন নয়। ২০০১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনেই দলীয় কর্মীদের ব্যাপক হিংসাত্মক ঘটনার সাক্ষী হয়ে এসেছে রাজীব ভবন। অথচ নিবেদিত কার্যকর্তার শৃঙ্খলিত আচরণের জন্যই বাজপেয়ী ভবন আজ পর্যন্ত এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার মুখোমুখি হয়নি।
অনেকে বিশ্বাস করেন, এই ঘটনা ভোটারদের সহানুভূতি আদায় করতে কংগ্রেসের রচনা করা এক নির্বাচনী কৌশল। উল্লেখযোগ্য যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যালঘু ভোট থাকা নগাঁও লোকসভা আসনে সংখ্যালঘু মানুষের সমর্থন আদায় করতে এআইইউডিএফ ও কংগ্রেসের মধ্যে চলা টানাপোড়েনের অন্যতম পরিণতিও এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের উন্নয়নমুখী কাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বহু সংখ্যালঘু মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করতে এগিয়ে আসছে এবং কংগ্রেস সংখ্যালঘুদের কেবল ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে – এই কথা অনেক সংখ্যালঘু মানুষ প্রকাশ্যে বলায় আত্মবিশ্বাসী কংগ্রেসের ভিত নড়ে গেছে। তাই বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে হতাশাগ্রস্ত কংগ্রেস এখন নিজের পরম্পরাগত ভোটব্যাংক সুরক্ষিত রাখতে যে কোনো কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। কখনও তারা এআইইউডিএফ-এর সঙ্গে মিত্রতা করে, কখনও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়।
নগাঁও লোকসভা আসনে জয়ী হওয়া কংগ্রেসের জন্য সম্মানের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আসনে জয়লাভ করব বলে বিজেপি কোনোদিনই দাবি করেনি। কেবল উন্নয়নের স্বার্থে ভোট চেয়ে মানুষের কাছে যাওয়া বিজেপির ক্রমবর্ধমান উত্থানে কংগ্রেস শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাই নির্বাচনের আগে অপকৌশলে ভোটারের সহানুভূতি আদায় করতে এমন দুষ্কর্ম যে আবার করবে না, তা আজই নাকচ করা যায় না বলে সংবাদ সম্মেলনে শ্রী ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন।












