বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : নকশাল সন্ত্রাস মুক্ত করার পর আগামী একশো সপ্তাহের মধ্যে অসম ও উত্তর-পূর্ব সহ গোটা ভারতকে ড্রাগসমুক্ত করার যে সংকল্প কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিয়েছেন, তাকে স্বাগত জানাল অসম বিজেপি।
গত ৬ সেপ্টেম্বর গোয়ার পানাজিতে সাংবাদিক বৈঠকে শাহ ঘোষণা করেন, নকশালবাদের মতোই ড্রাগসের ব্যবসা ও বিতরণ ব্যবস্থাও একশো সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ শেষ করা হবে। রবিবার অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে পাঠানো বিবৃতিতে দলের মিডিয়া প্যানেলিস্ট প্রিয়াংকা তামুলি বলেন, সরকারের এই কঠোর অবস্থান সময়োপযোগী এবং যুব সমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে।
২০১৪-২০২৬: ১.৮৪ লাখ কোটির মাদক জব্দ
বিবৃতি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ১.১৮ কোটি কিলোগ্রামের বেশি অবৈধ মাদক জব্দ হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১.৮৪ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৮৯,৮৯৬ কোটি টাকার ৪২.৪৭ লাখ কেজি মাদক ধ্বংস করা হয়েছে।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দেশের ২৮ হাজার জায়গায় ১ কোটির বেশি যুবক-যুবতীকে নিয়ে ড্রাগস-বিরোধী অভিযানে সামিল করা হবে। এই একশো সপ্তাহে প্রতি রবিবার সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলবে।
সীমান্তে নজরদারি বাড়ছে
সীমান্তের ওপার থেকে আসা সরবরাহ বন্ধ করতে পাঞ্জাব সীমান্তে BSF-এর অধিক্ষেত্র ১৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে। অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বের আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে BSF, মায়ানমার সীমান্তে অসম রাইফেলস এবং ভুটান-নেপাল সীমান্তে SSB-কে ড্রাগস-বিরোধী অভিযানে সতর্ক করা হয়েছে।
অসমে ৩৬৪০ কোটির মাদক জব্দ
প্রিয়াংকা তামুলি জানান, মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে ২০২১ সাল থেকে অসমেও ব্যাপক অভিযান চলছে। ২ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। ২০২৪ পর্যন্ত ২,৯১৯.৯৬ কোটি টাকার মাদক জব্দ করে নষ্ট করা হয়েছে, যা ২০২৪-২০২৬ যোগ করলে প্রায় ৩৬৪০ কোটিতে দাঁড়াবে।
এই লড়াই আরও কঠোর করতে মুখ্যমন্ত্রী “অ্যান্টি নারকোটিকস টাস্ক ফোর্স” গঠনের ঘোষণা করেছেন। আগামী দিনে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি শাস্তির পাশাপাশি তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে মাদকের কারবার উৎখাত করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।












