— আশুতোষ দাস
১. নদীর বুক থেকে উঠেছে যে গান
শ্রীহট্ট বরাক উপত্যকার লোকসংস্কৃতি মূলত নদী, বিল, হাওর, কৃষিজীবন ও মানুষের সমবেত জীবনচর্চার ভিতর দিয়ে নির্মিত। এখানে নদী কেবল জলধারা নয় নদী পথ, নদী জীবিকা, নদী বিপদ, নদী বিচ্ছেদ, আবার নদীই প্রত্যাবর্তনের আশ্বাস। এই নদীমাতৃক জীবনবোধের সঙ্গে যখন মনসা-আরাধনা যুক্ত হয়, তখন দেবীকে ঘিরে গড়ে ওঠে এক সমৃদ্ধ লোকায়ত সংস্কৃতি। মনসার গান, ওঝাগীতি, পালাগান, দোহার, নৃত্য, আচার এবং নৌকার প্রতীকী ব্যবহার সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় একটি সামগ্রিক লোকনাট্যধর্মী পরিবেশ। এই ধারার একটি বিশেষ আকর্ষণ নৌকা টানার গান। গৃহস্থের উঠোনে কিংবা পূজার পরিসরে কলার খোল দিয়ে নৌকার প্রতীক নির্মাণ করে তা টেনে নিয়ে যাওয়া, আর সেই সঙ্গে মনসার গান গাওয়া এই লোকাচারকে স্থানীয় লোকস্মৃতি চাঁদ সওদাগরের হারানো সপ্তডিঙা ও পুনরুদ্ধারের কাহিনির সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। ফলে একটি সাধারণ কলার খোলও লোককল্পনায় হয়ে ওঠে মহাকাব্যিক সপ্তডিঙার প্রতীক। এখানেই লোকসংস্কৃতির সৌন্দর্য সামান্য বস্তু অসামান্য স্মৃতির বাহক হয়ে ওঠে।
২. মনসা : সর্পদেবী থেকে মঙ্গলদেবী
বাংলার লোকবিশ্বাসে মনসা সর্পদেবী। কিন্তু তাঁর আরাধনার সাংস্কৃতিক পরিসর শুধুমাত্র সাপের ভয় বা বিষনিবারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ক্রমে তিনি হয়ে উঠেছেন সন্তানরক্ষা, সংসারের মঙ্গল, সম্পদ, উর্বরতা এবং বিপদ থেকে মুক্তির দেবী। মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপে তাঁর মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাঁদ সওদাগর, বেহুলা ও লখিন্দরের আখ্যান। এই আখ্যানের ভিতরে দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বের পাশাপাশি রয়েছে অহঙ্কার ও বিনয়ের দ্বন্দ্ব। চাঁদ সওদাগর মনসাকে স্বীকার করতে চান না। তাঁর অস্বীকৃতির পরিণতিতে আসে বিপর্যয়। লোককল্পনায় সপ্তডিঙা হারায়, ধনসম্পদ নষ্ট হয়, পুত্রদের মৃত্যু ঘটে। কিন্তু কাহিনির শেষপ্রান্তে আসে পরিবর্তন—চাঁদ শেষ পর্যন্ত মনসার পূজা করেন এবং দেবীর মহিমা স্বীকার করেন। এই স্বীকৃতি মঙ্গলকাব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক মুহূর্ত। অহঙ্কারের নৌকা ডুবে যায়, বিনয়ের নৌকা তীরে ফিরে আসে। লোকস্মৃতির গভীরে এই দর্শনই নানা আচার ও গানের ভিতর নতুন নতুন প্রতীকে পুনর্জন্ম লাভ করেছে।

৩. সপ্তডিঙা : হারানোর ভিতর দিয়ে ফিরে পাওয়ার প্রতীক
চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙা শুধু বাণিজ্যিক নৌবহর নয় লোককল্পনায় এটি হয়ে উঠেছে মানুষের সম্পদ, স্বপ্ন, সংসার ও জীবনের প্রতীক। সাতটি ডিঙা যেন মানুষের সাতটি আকাঙ্ক্ষা
জীবন,জীবিকা,সম্পদ,সন্তান,সংসার,সম্মান ও মঙ্গল। যখন সেই ডিঙা হারিয়ে যায়, তখন হারায় মানুষের বহুকাঙ্ক্ষিত জীবনসম্ভার। আর মনসার কৃপায় তা ফিরে আসা মানে কেবল ধনরত্ন ফিরে পাওয়া নয়, এটি জীবনের পুনরুদ্ধার। স্থানীয় লোকবিশ্বাসে এই পুনরুদ্ধারের স্মৃতি থেকেই নৌকা টানার আচারটির অর্থ আরও গভীর হয়ে ওঠে। গৃহস্থ যেন প্রতীকীভাবে নিজের সংসারের নৌকা টেনে মঙ্গলের তীরে নিয়ে যেতে চান।
৪. কলার খোলের নৌকা : লোককল্পনার অসামান্য শিল্প এই লোকাচারের সবচেয়ে নান্দনিক দিকগুলোর একটি হলো কলার খোলের ব্যবহার। কলার খোল অতি সাধারণ, সহজলভ্য, প্রায় তুচ্ছ একটি বস্তু। কিন্তু লোকসংস্কৃতি কোনো বস্তুর বাজারমূল্য দেখে তার প্রতীকী মূল্য নির্ধারণ করে না। মানুষের কল্পনা ও বিশ্বাস সাধারণ বস্তুতেই অসাধারণ অর্থ আরোপ করে। কলার খোল তখন আর কলার খোল থাকে না। তা হয়ে ওঠে—সপ্তডিঙার ক্ষুদ্র প্রতিরূপ, চাঁদ সওদাগরের হারানো স্মৃতির বাহন, গৃহস্থের মঙ্গলকামনার নৌকা, আর জীবনের নদী পার হওয়ার প্রতীক।
এই রূপান্তরই লোকশিল্পের মৌলিক সৃজনশক্তি।
৫. নৌকা টানা : আচার থেকে সমবেত অভিনয় নৌকা টানার সময় গান গাওয়া হয়। একজন মূল গায়ক গান ধরেন, আর তাঁর সঙ্গে দোহাররা সুর মিলিয়ে ওঠেন। এখানে গান একক থাকে না; তা পরিণত হয় সমষ্টির কণ্ঠে। মূল গায়ক যেন প্রশ্ন করেন,
মনসা মায়ের দ্বারে কে যাবে? দোহার যেন সমবেত মানুষের কণ্ঠে তার উত্তর বহন করে। এই ডাক ও জবাবের বিন্যাস লোকগানের একটি গুরুত্বপূর্ণ নান্দনিক বৈশিষ্ট্য। গানের পংক্তি, দোহারদের পুনরুক্তি, নৌকা টানার ছন্দ এবং মানুষের চলনের সঙ্গে মিলেমিশে তৈরি হয় এক স্বতঃস্ফূর্ত লোকনাট্য। এখানে মঞ্চ নেই, কিন্তু অভিনয় আছে। আলোকসজ্জা নেই, কিন্তু উৎসবের আলো আছে। লিখিত নাট্যপাঠ নেই, কিন্তু আখ্যান আছে। একজন অভিনেতা নেই, কিন্তু সমগ্র জনগোষ্ঠীই হয়ে ওঠে অভিনয়ের অংশ।
৬. দোহার : একক কণ্ঠ থেকে সমষ্টির কণ্ঠ মনসার নৌকা টানার গানে দোহারদের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। লোকসংগীতে দোহার শুধু মূল গায়কের পংক্তি পুনরাবৃত্তি করেন না। তিনি গানের আবেগকে বহুগুণিত করেন। একজনের কণ্ঠে উচ্চারিত বিশ্বাস যখন বহু কণ্ঠে ফিরে আসে, তখন তা ব্যক্তিগত বিশ্বাস থেকে সামষ্টিক বিশ্বাসে উত্তীর্ণ হয়। এই কারণে দোহারকে বলা যায় লোকসমাজের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর। মূল গায়ক একা নন। তার পিছনে আছে গ্রাম। তার সঙ্গে আছে পরিবার। তার সঙ্গে আছে গৃহস্থের আশা। আর সেই সমবেত কণ্ঠের কেন্দ্রে রয়েছে মনসার কাছে মঙ্গলপ্রার্থনা।
৭. নৌকা টানার গান : শ্রমের ছন্দ থেকে মঙ্গলের ছন্দ নৌকা টানার সঙ্গে গানের সম্পর্ক অত্যন্ত স্বাভাবিক। সমবেত মানুষের শরীরের গতি যখন একই ছন্দে আসে, তখন গান সেই ছন্দকে সংগঠিত করে। টান,গান,দোহার,আবার টান। এই পুনরাবৃত্তির ভিতর তৈরি হয় এক ধরনের লোকছন্দ। ফলে গান শুধু শ্রুতিমধুর হয় না; তা মানুষের শরীরের শ্রমকেও আনন্দে রূপান্তরিত করে। এখানে শ্রম ও উৎসব পরস্পরের বিপরীত নয়। শ্রমই হয়ে ওঠে উৎসব, উৎসবই হয়ে ওঠে প্রার্থনা, আর প্রার্থনাই হয়ে ওঠে গান।
৮. গানের অন্তর্গত বেহুলা: মনসার লোকসংস্কৃতির আলোচনায় বেহুলাকে বাদ দেওয়া যায় না। বেহুলা নদীর পথে যাত্রা করেন। তাঁর যাত্রা শুধু স্বামীর জীবন ফেরানোর প্রয়াস নয়, এটি মানুষের অসম্ভবকে সম্ভব করার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। তাই নৌকা এখানে বেহুলার ভেলার স্মৃতিও বহন করে। একদিকে চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙা অন্যদিকে বেহুলার ভেলা আর স্থানীয় গৃহস্থের কলার খোলের নৌকা। তিনটি আলাদা আখ্যান যেন একই নদীতে এসে মিলিত হয়। একটির মধ্যে আছে বাণিজ্য ও সম্পদ, একটির মধ্যে আছে প্রেম ও আত্মত্যাগ, আর অন্যটির মধ্যে আছে সংসারের মঙ্গলকামনা।
৯. গৃহস্থের নৌকা : ব্যক্তিগত সংসার থেকে সামষ্টিক মঙ্গল
এই নৌকা কেবল চাঁদ সওদাগরের নৌকা নয়। গৃহস্থের নিজের সংসারও যেন একটি নৌকা। তার মধ্যে আছে সন্তান, পরিবার, ধান, শস্য, গবাদি পশু, জীবিকা, আশা ও ভবিষ্যৎ। নদীর স্রোতের মতো জীবনেরও নানা বিপদ। তাই নৌকা টেনে গৃহস্থ যেন প্রতীকীভাবে বলছেন আমাদের সংসারটি পার করে দাও, অমঙ্গল থেকে রক্ষা করো, হারানো ফিরিয়ে দাও, ঘরে মঙ্গল আনো। মনসার কাছে এই প্রার্থনা তাই লোকধর্মের পাশাপাশি মানুষের গভীর অস্তিত্বজিজ্ঞাসারও প্রকাশ।
১০. লোকবিশ্বাসে ধনরত্নের প্রত্যাবর্তন: চাঁদ সওদাগরের আখ্যানের স্থানীয় ব্যাখ্যায় মনসাকে স্বীকার করার পর হারানো সম্পদ ও সন্তান ফিরে পাওয়ার যে বিশ্বাস প্রচলিত, তার মধ্যে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক সত্য রয়েছে। মানুষ যা হারায়, তার জন্যই সবচেয়ে বেশি প্রার্থনা করে। হারানো ধন ফিরে পাওয়া মানে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। হারানো সন্তান ফিরে পাওয়া মানে জীবনের পুনর্জন্ম। হারানো নৌকা ফিরে পাওয়া মানে পথ ফিরে পাওয়া। এই তিনটি স্তর একত্র হয়ে মনসার নৌকা টানার লোকাচারকে একটি গভীর মানবিক প্রতীকে পরিণত করেছে।
১১. নদীসভ্যতা ও মনসার গান: শ্রীহট্ট–বরাক উপত্যকার মানুষের জীবন নদী ও জলাভূমির সঙ্গে দীর্ঘকাল যুক্ত। নৌকা ছিল যাতায়াতের বাহন, ব্যবসার মাধ্যম এবং জীবিকার সহায়ক। ফলে নদী ও নৌকা এই অঞ্চলের লোককল্পনায় গভীরভাবে প্রবেশ করেছে। মনসার গান সেই নদীজীবনেরই ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক রূপান্তর। নদীর স্রোত যেন জীবনের স্রোত। নৌকা যেন মানুষের শরীর। বৈঠা যেন শ্রম। মাঝি যেন ভাগ্যের নিয়ন্ত্রক। আর তীর যেন মঙ্গলের প্রতিশ্রুতি। এই প্রতীকগুলোর সমন্বয়ে নৌকা টানার গান হয়ে ওঠে একটি সম্পূর্ণ লোকদর্শন।
১২. নারীর স্মৃতি ও লোকায়ত আখ্যান : মনসামঙ্গলের সবচেয়ে শক্তিশালী চরিত্রগুলোর একটি বেহুলা। ফলে মনসার লোকগানে নারীজীবনের অভিজ্ঞতাও অনিবার্যভাবে প্রবেশ করেছে। বেহুলার অপেক্ষা, শোক, সংগ্রাম এবং স্বামীর জীবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এসব কাহিনি গ্রামীণ নারীর কাছে নিছক পৌরাণিক ঘটনা হয়ে থাকে না, তা সংসার রক্ষার এক চিরন্তন প্রতীকে পরিণত হয়। লোকসংস্কৃতির এই স্তরে মনসার গান তাই শুধু দেবীর বন্দনা নয়; এটি নারীর সহিষ্ণুতা, সংসাররক্ষা এবং জীবনের প্রতি অদম্য প্রত্যয়েরও গান।

১৩. নান্দনিকতার জায়গায় নৌকা: এই লোকাচারের নান্দনিকতা তার সরলতায়। কোনো কৃত্রিম মঞ্চ নেই। কোনো জটিল বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন নেই। কলার খোল, দড়ি, মানুষের কণ্ঠ এবং একটি আখ্যান এই সামান্য উপকরণেই তৈরি হয় এক সম্পূর্ণ লোকশিল্প। গানের সঙ্গে নৌকার গতি, দোহারদের কণ্ঠ, মানুষের হাতের টান, উৎসবের আবহ এবং দেবীর প্রতি বিশ্বাস সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয় এক অনন্য দৃশ্যকাব্য। এ যেন জলের স্মৃতি থেকে উঠে আসা গান, মাটির উঠোনে অভিনীত নদীর কাব্য।
১৪. গবেষণার প্রয়োজন: এই লোকাচার নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত প্রবীণ গায়ক, দোহার, ওঝা, পূজার সঙ্গে যুক্ত পরিবার এবং স্থানীয় প্রবীণ মানুষের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে নৌকা টানার গানের পংক্তি, সুর, ছন্দ, পরিবেশনা, আচার এবং স্থানভেদে তার পরিবর্তন নথিবদ্ধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংগ্রহ করা দরকার স্থানীয় গানের বিভিন্ন পাঠ; মূল গায়ক ও দোহারদের পরিবেশনার ধরন, কলার খোলের নৌকা তৈরির পদ্ধতি, নৌকা টানার নির্দিষ্ট সময় ও স্থান, পূজার সঙ্গে এর সম্পর্ক, চাঁদ সওদাগর ও সপ্তডিঙা সম্পর্কে স্থানীয় ব্যাখ্যা; বেহুলা-লখিন্দর আখ্যানের স্থানীয় রূপ,গানগুলোর ভাষা, উপভাষা ও শব্দভাণ্ডার, নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণ, এবং সময়ের সঙ্গে এই লোকাচারের পরিবর্তন। এই তথ্যগুলি সংগ্রহ করা গেলে শ্রীহট্ট–বরাক উপত্যকার মনসা-সংস্কৃতির একটি মূল্যবান লোকনৃতাত্ত্বিক দলিল নির্মাণ করা সম্ভব।
১৫. উপসংহার : এখনও ভাসে সেই সপ্তডিঙা লোকসংস্কৃতির সবচেয়ে আশ্চর্য ক্ষমতা হলো সে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকে মানুষের স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রাখে। চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙা হয়তো আজ আর নদীর বুকে দেখা যায় না। কিন্তু লোকবিশ্বাসে তার নৌকা এখনও ভাসে। কখনও মনসার গানে, কখনও দোহারদের কণ্ঠে, কখনও বেহুলার স্মৃতিতে, কখনও গৃহস্থের উঠোনে কলার খোলের ক্ষুদ্র নৌকায়। নৌকা টানা তাই নিছক একটি লোকাচার নয়। এটি হারানোকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এটি অহঙ্কার থেকে বিনয়ের দিকে যাত্রা। এটি বিপদের নদী পেরিয়ে মঙ্গলের তীরে পৌঁছানোর প্রার্থনা। এটি গৃহস্থের সংসার রক্ষার স্বপ্ন। এটি নদীমাতৃক মানুষের জীবনদর্শনের এক সরল অথচ গভীর প্রকাশ। আর যখন মূল গায়ক গান ধরেন, দোহাররা কণ্ঠ মেলান, বহু হাত একসঙ্গে কলার খোলের নৌকাটি টেনে নিয়ে যায় তখন মনে হয়, শ্রীহট্ট বরাকের লোকস্মৃতির গভীর নদী থেকে আবার ভেসে উঠেছে সেই প্রাচীন সপ্তডিঙা। তার পাটাতনে ধনরত্নের চেয়েও মূল্যবান হয়ে থাকে মানুষের বিশ্বাস। পাল তুলে দেয় লোকস্মৃতি। তার বৈঠা চালায় সমবেত কণ্ঠ। আর তার গন্তব্য মঙ্গল।












