বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : হাইকোর্ট বেঞ্চ বাস্তবায়ন কমিটি, কাছাড় জেলা শাখার এক জরুরি সভা আজ বিকাল ৪টায় শিলচরের নজিরপট্টিস্থিত রূপম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি তথা বিশিষ্ট আইনজীবী ধ্রুব কুমার সাহা।
আসন্ন জনগণনা ২০২৭-কে কেন্দ্র করে সমগ্র অসমের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় মাতৃভাষা এবং অন্যান্য জানা ভাষার তথ্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়ে।
সভার মূল বক্তব্য:
১. সঠিক তথ্যের গুরুত্ব: বলা হয়, জনগণনা শুধু সংখ্যা গণনা নয়। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের সামাজিক ও ভাষাগত তথ্যের সরকারি ভাণ্ডার তৈরি হয়। এই তথ্যই ভবিষ্যতের প্রশাসনিক পরিকল্পনা, শিক্ষা, ভাষানীতি ও উন্নয়নের ভিত্তি। তাই প্রত্যেক নাগরিকের দেওয়া তথ্য প্রকৃত এবং তা সরকারি নথিতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।
২. মাতৃভাষার বিষয়ে আহ্বান: কমিটির পক্ষ থেকে সমগ্র অসমের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, জনগণনার সময় প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজের প্রকৃত মাতৃভাষা নির্ভয়ে ও স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত করান। কোনো সামাজিক, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে নিজের মাতৃভাষা গোপন বা পরিবর্তন করা উচিত নয়। পাশাপাশি অন্যান্য জানা ভাষাগুলিও সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিকভাবে উল্লেখ করার অনুরোধ করা হয়।
৩. চাপের বিরোধিতা: সভায় বলা হয়, মাতৃভাষা মানুষের পরিচয় ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তাই এ বিষয়ে কোনো নেতা, মন্ত্রী বা রাজনৈতিক সংগঠনের নির্দেশে ভাষা নির্ধারণ করা উচিত নয়। জনগণনা কোনো রাজনৈতিক প্রচারের ক্ষেত্র নয়। কোনো নাগরিকের উপর ভাষাগত পরিচয় চাপিয়ে দেওয়া আইনসম্মত নয়।
৪. সতর্ক থাকার পরামর্শ: আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। তখন প্রত্যেক পরিবারকে সতর্ক থাকতে হবে। গণনাকারী আপনার দেওয়া তথ্য, বিশেষ করে ভাষার তথ্য, সঠিকভাবে লিখছেন কি না তা নিজের সামনে নিশ্চিত করতে হবে। ভুল হলে সঙ্গে গণনাকারীকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
৫. আইনি সহায়তার আশ্বাস: কমিটি জানায়, জনগণনা আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তথ্য বিকৃতি বা বেআইনি হস্তক্ষেপ আইনগত অপরাধ। কোনো নাগরিক অন্যায় চাপ বা তথ্য বিকৃতির শিকার হলে নীরব না থেকে কমিটির নজরে আনার আহ্বান জানানো হয়। আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিটি প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে।
৬. সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান: অসমের বিভিন্ন অরাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিরপেক্ষভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে জনগণনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় কমিটি দৃঢ়ভাবে জানায়, জনগণের স্বার্থ ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো অন্যায় বা আইন লঙ্ঘন নীরবে মেনে নেওয়া হবে না। যেখানে তথ্য বিকৃতি বা বেআইনি চাপ হবে, সেখানে কমিটি সাংবিধানিক ও আইনানুগ পদ্ধতিতে রুখে দাঁড়াবে।
এই উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণনা ২০২৭-এ প্রতিটি নাগরিকের প্রকৃত তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন: কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিখিল পাল, উপদেষ্টা প্রসেনজিৎ দেব, তৈমুর রাজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি অধ্যাপক বিভাস দেব, রসরাজ দাস, যুগ্ম সম্পাদক দেবোমিতা চক্রবর্তী, তুহিনা শর্মা, ধর্মানন্দ দেব সহ অন্যান্য সদস্যরা।
কমিটির শেষ আহ্বান: “ভয় নয়, সচেতনতা; চাপ নয়, নিজের সত্য তথ্য; নির্দেশ নয়, নিজের প্রকৃত পরিচয়।”
খবরটি কমিটির প্রচার সম্পাদক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।












