“যে কেড়েছে বাস্তুভিটে সে-ই কেড়েছে ভয়, আকাশ জুড়ে লেখা আমার আত্মপরিচয়।”
– কবি শক্তিপদ ব্রহ্মচারী
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও শ্রীহট্ট সম্মিলনী শহিদ তর্পণের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। শ্রীহট্ট সম্মিলনী বিভিন্ন সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার লড়াইয়ে এই সংগঠন বিগত কয়েক দশক ধরে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে বরাক উপত্যকার ১১ জন অমর শহিদের আত্মবলিদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে শ্রীহট্ট সম্মিলনী, শিলচর শাখার উদ্যোগে আগামী ২১ মে ২০২৬ ইংরেজি, বৃহস্পতিবার, বিকাল ৫টায় শিলচর গান্ধী ভবনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘বর্ণময় ১৯’ শীর্ষক শহিদ তর্পণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৯৬১ সালের ১৯শে মে অসম সরকারের একতরফা ভাষানীতির বিরুদ্ধে বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষাকে অন্যতম সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে যে ঐতিহাসিক আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তারই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল শিলচর রেল স্টেশনের রক্তাক্ত ঘটনা। অসম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে একমাত্র সরকারি ভাষা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেদিন বরাকের মানুষ পথে নেমেছিল। ১৯শে মে সকাল থেকে শিলচর রেল স্টেশনে পিকেটিং চলাকালে দুপুরে আন্দোলনকারীদের উপর আসাম রাইফেলস ও আসাম পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই শহিদ হন ১১ জন ভাষা সেনানী। একমাত্র মহিলা শহিদ কমলা ভট্টাচার্য সহ শচীন্দ্র পাল, বীরেন্দ্র সূত্রধর, তরণী দেবনাথ, সত্যেন্দ্র দেব, হিতেশ বিশ্বাস, কানাইলাল নিয়োগী, কুমুদরঞ্জন দাস, সুনীল সরকার, চণ্ডীচরণ সূত্রধর ও সুকোমল পুরকায়স্থ—এই ১১ শহিদের রক্তে রাঙা হয়েছিল বরাকের মাটি। এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই পরবর্তীতে বাংলা ভাষা বরাক উপত্যকায় সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। সেই গৌরবময় ইতিহাস ও আত্মবলিদানের স্মরণেই প্রতি বছর ১৯শে মে পালিত হয় ভাষা শহিদ দিবস। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ১১ শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। পাশাপাশি ভাষা সংগ্রামী সহ প্রয়াত ভাষা আন্দোলনের অগ্রণী সংগ্রামী যোদ্ধাদের মরণোত্তর সম্মাননা জ্ঞাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে ১৯শের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন বিশিষ্টজনেরা। এরপর বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশনায় থাকছে ১৯শের চেতনাভিত্তিক দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও সমবেত নৃত্যানুষ্ঠান। শিলচরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীরাও এই সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে। কথায়-গানে-নাচে আমরা স্মরণ করবো ১৯শের অমর শহিদদের। শ্রীহট্ট সম্মিলনী শিলচর শাখার সভাপতি কিশোর কুমার ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ চন্দ এবং সহ-সভাপতি রজত ঘোষ ও মঞ্জুল দেব এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১৯শের রক্তঝরা ইতিহাস শুধু অতীতের স্মরণ নয়, বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে মাতৃভাষার অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রেরণা। ভাষা-সংস্কৃতির উপর যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস জোগায় ১৯শে মে। ‘বর্ণময় ১৯’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই চেতনাকেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া এবং বরাকের বহুভাষিক-বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তাঁরা সকল ভাষাপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র-যুব সমাজ ও শিলচরবাসীকে দলে দলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠান সূচির জন্য সন্তোষ চন্দ, সোনালি দে,বিপ্লব দে এবং বিশ্বজিৎ দে-র সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তারিখ:২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার (৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) সময়: বিকাল ৫টা। স্থান:গান্ধী ভবন, শিলচর
প্রচারে: শ্রীহট্ট সম্মিলনী, শিলচর শাখা। যোগাযোগ:সন্তোষ চন্দ, সাধারণ সম্পাদক শ্রীহট্ট সম্মিলনী শিলচর শাখা।












