,

ধ্বনিভোটে লোকসভায় পাস হল প্রশ্নফাঁস বিরোধী সংশোধনী বিল, উত্তপ্ত সংসদে বিরোধীদের ওয়াকআউট

নিট আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রাহুলের তীব্র আক্রমণ, শাসকপক্ষের পাল্টা জবাব বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যায্য উপায় রোধে কেন্দ্রের আনা ‘সরকারি পরীক্ষা-অন্যায্য উপায় রোধ সংশোধনী বিল, ২০২৬’ বুধবার ধ্বনিভোটে লোকসভায় পাস হয়েছে। ভোটাভুটির আগেই বিলের প্রতিবাদে একযোগে কক্ষত্যাগ করেন বিরোধী সাংসদেরা। বিল পাসের পর স্পিকার ওম বিড়লা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত…

নিট আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে রাহুলের তীব্র আক্রমণ, শাসকপক্ষের পাল্টা জবাব

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্যায্য উপায় রোধে কেন্দ্রের আনা ‘সরকারি পরীক্ষা-অন্যায্য উপায় রোধ সংশোধনী বিল, ২০২৬’ বুধবার ধ্বনিভোটে লোকসভায় পাস হয়েছে। ভোটাভুটির আগেই বিলের প্রতিবাদে একযোগে কক্ষত্যাগ করেন বিরোধী সাংসদেরা। বিল পাসের পর স্পিকার ওম বিড়লা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেন।

বিল আনার প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি নিট পরীক্ষা ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। সেই আবহে প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কঠোর আইন আনার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর ঘোষণা মতো সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ বিলটি লোকসভায় পেশ করেন। মঙ্গলবার ও বুধবার দুদিন ধরে বিলটির ওপর আলোচনা হয়।

আলোচনায় রাহুলের আক্রমণ, শুরু হট্টগোল
বুধবার বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নিট আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেন।

রাহুলের অভিযোগ, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। ছাত্রদের শরীরে ছররা লেগেছে। দিল্লি পুলিশকে বলপ্রয়োগের অনুমতি একমাত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই দিতে পারেন। তিনি কেন সংসদে উপস্থিত নেই? ভয় পেয়েই কি আসেননি?”

রাহুলের এই অভিযোগের পরেই লোকসভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। শাসকপক্ষের সাংসদেরা রাহুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার অভিযোগ তুলে তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

‘তিন শ্রেণি’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক
আলোচনার সময় রাহুল ‘তিন শ্রেণির মানুষের’ কথা উল্লেখ করেন — ছাত্র, বোকা এবং অন্ধভক্ত। বিরোধী দলনেতার এই শব্দ ব্যবহারে আপত্তি তোলেন এনডিএ-র সাংসদেরা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ সংসদের নথি থেকে শব্দগুলি বাদ দেওয়ার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজু বলেন, “রাহুল গান্ধী যদি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার না করতেন, তবে আপত্তি তুলতাম না। একজন ছাত্রের নামে তিনি এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। এটি বর্জন করা উচিত।”

রাহুল নিট আন্দোলনের প্রসঙ্গে ১৮ বছর বয়সি এক ছাত্রের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই ছাত্র তাঁকে বলেছে, “একজন ছাত্র সবসময় সত্যের পিছনে ছোটে। তার কাছে সত্যই সুন্দর। বোকারা নিজেকে ঈশ্বর হিসেবে প্রতিপন্ন করতে চায়। আর অন্ধভক্ত হল সেই ব্যক্তি, যে বিশ্বাস করে একজন বোকাই ঈশ্বর।”

সরকারের পাল্টা
রাহুলের গুলি চালানোর অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। তিনি বলেন, “ছাত্র বিক্ষোভের সময় গুলি চালানোর কোনো নির্দেশ সরকারের তরফে দেওয়া হয়নি।”

বিলের পরবর্তী ধাপ
দুদিন আলোচনার পর বুধবার ধ্বনিভোটে বিলটি পাস হয়। এরপর স্পিকার অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন। এখন বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করা হবে।

উল্লেখ্য, এই সংশোধনী বিলে সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, নকল ও অন্যান্য অন্যায্য উপায়ের জন্য আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *