১ কোটি ২৬ লক্ষে বাড়ি কিনল রাজ্য, তিনদিনেই শেষ হল সব প্রক্রিয়া
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : বহুদিনের দাবি পূরণ হল। হুগলির বলাগড়ের জিরাটে অবস্থিত ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বসতবাড়ি এবার রাজ্য সরকারের হাতে। ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে বাড়িটি চলে গেল তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধীনে। এখানেই ভবিষ্যতে গড়ে উঠবে সংগ্রহশালা ও গ্রন্থাগার।
ভোটের প্রচারে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বাড়ি সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই কথা রেখেই দ্রুত পদক্ষেপ নিল রাজ্য।
মাত্র তিনদিনে কেনা-বেচা শেষ
রাজ্য মন্ত্রিসভা ৩ জুন বাড়িটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ২৯ জুন হুগলির বিশেষ ভূমি আধিকারিক জেলার সরাসরি ক্রয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ৩ জুলাই কলকাতায় নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়। একই দিনে চার উত্তরাধিকারীর ব্যাঙ্ক হিসাবে টাকা পাঠানো হয়।
মোট ০.৩০১৭৯ একর জমি ও বাড়ি-সহ সম্পত্তির দাম ধরা হয় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮২২ টাকা। এর মধ্যে জমির মূল্য ১ কোটি ১৫ লক্ষ ও বাড়ির কাঠামোর মূল্য ১০ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা। নিবন্ধন ও অন্যান্য খরচ ২ লক্ষ টাকা যোগ করে মোট ব্যয় প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা।

২০০ কোটির প্রকল্পে নতুন রূপ পাবে জিরাট
স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্যের স্বাস্থ্য রাষ্ট্রমন্ত্রী সুমনা সরকার জানান, “সরকারের নির্দেশে সব শরিকের সঙ্গে আলোচনা করে রেকর্ড সময়ে কাজ শেষ হয়েছে। এখন সংগ্রহশালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।”
রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরোনো বাড়িটির সংস্কার হবে। আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়ন করা হবে। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতিতে ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি, একটি পার্ক, গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালা তৈরি হবে। পাশাপাশি জিরাটে একটি অডিটোরিয়ামও নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বর্তমানে বাড়িটির দেখভাল করতেন শ্যামাপ্রসাদের ভাই বামাপ্রসাদের নাতি বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবার। জিরাটে ‘বাংলার বাঘ’ আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নামে বিদ্যালয় ও পাঠাগার থাকলেও এতদিন শ্যামাপ্রসাদের নামে বড় কোনো স্মৃতি ছিল না। এবার সেই অভাব ঘুচতে চলেছে।
গত ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। দিনটি রাজ্যজুড়ে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়।











