মৃতের পরিবার পাবে ৯ লক্ষ, অরুণোদয় ও ছাত্রছাত্রীদের জন্যও বিশেষ প্যাকেজ
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। নদীর জল কিছুটা কমলেও বহু এলাকা এখনও জলের তলায়। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ধরনের আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সরকারের তরফে এককালীন ১৫ হাজার টাকা করে অন্তর্বর্তী সাহায্য দেওয়া হবে। এই টাকা দিয়ে মানুষ জল নামার পর ঘরবাড়ি পরিষ্কার, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস, কাপড়চোপড় ও বাসনপত্র কিনে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারবেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চরাইদেও, শিবসাগর, গোলাঘাট ও যোরহাট — এই চারটি জেলার ১ লক্ষের বেশি পরিবার এই সাহায্যের আওতায় আসবে। কারণ এই চার জেলাতেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
মৃত ও নিখোঁজদের পরিবারের জন্য ৯ লক্ষ টাকা
বন্যায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৬৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। শিবসাগরের নাজিরা এলাকায় ৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতদের পরিবারকে ৯ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে এবং ৪ লক্ষ টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া হবে।
এতদিন ক্ষতিপূরণের জন্য ময়না তদন্তের প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক ছিল। এবার সেই নিয়ম শিথিল করা হল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আর ময়না তদন্তের প্রতিবেদন লাগবে না। নাজিরায় নিখোঁজ ৭ জনের বিষয়ে তিনি বলেন, এক মাস পর্যন্ত খোঁজ না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সার্কল আধিকারিকের দেওয়া নিখোঁজ সংক্রান্ত শংসাপত্রের ভিত্তিতেই পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে।
অরুণোদয় ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চার জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্যও বিশেষ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৩ তারিখের বদলে ১ তারিখেই তাঁদের হিসাবে ২ হাজার ৫০ টাকা করে ঢুকবে। বন্যা সহায়তার ১৫ হাজার টাকার সঙ্গে এই টাকা যোগ হলে একজন উপভোক্তা মোট ১৭ হাজার ৫০ টাকা পাবেন।
পড়াশোনায় ক্ষতির মুখে পড়া ছাত্রছাত্রীদের কথাও ভেবেছে সরকার। চরাইদেও ও শিবসাগর জেলার বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নতুন পোশাক ও বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হবে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের বই কেনার জন্য ১ হাজার টাকা, স্নাতক স্তরের কলা ও বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের ৩ হাজার টাকা এবং স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীদের ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এখনও ৬৩১টি গ্রাম জলমগ্ন
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৬৩১টি গ্রাম এখনও জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ২৮ হাজার ৭০ জন মানুষ বিভিন্ন ত্রাণ শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলায় বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সবরকম ভাবে বন্যা কবলিত মানুষের পাশে আছে। ত্রাণ থেকে পুনর্বাসন — সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













