,

জন্তর মন্তরে ৩৩% মহিলা সংরক্ষণের দাবিতে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে ধরনা

জনগণনা ও সীমানা নির্ধারণের শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে আইন কার্যকরের দাবি দিল্লি, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের মহিলা সংগঠন, ছাত্র-যুবদের অংশগ্রহণ বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ অবিলম্বে কার্যকরের দাবিতে ন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর উইমেন্স রিজার্ভেশন-এর ডাকা যৌথ ধরনা জন্তর মন্তরে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়ল। দিল্লি, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্য থেকে মহিলা,…

জনগণনা ও সীমানা নির্ধারণের শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে আইন কার্যকরের দাবি

দিল্লি, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্যের মহিলা সংগঠন, ছাত্র-যুবদের অংশগ্রহণ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণ অবিলম্বে কার্যকরের দাবিতে ন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর উইমেন্স রিজার্ভেশন-এর ডাকা যৌথ ধরনা জন্তর মন্তরে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে পড়ল।

দিল্লি, হরিয়ানা সহ একাধিক রাজ্য থেকে মহিলা, ছাত্র, যুব সংগঠন এবং কর্মরত মহিলাদের প্রতিনিধিরা এই প্রতিবাদে সামিল হন। ধরনায় বক্তব্য রাখেন AIDWA-র সর্বভারতীয় সভাপতি ও প্রাক্তন সাংসদ পি কে শ্রীমতী, NFIW-র সিনিয়র নেত্রী অ্যানি রাজা, AIPWA-র জাতীয় সম্পাদিকা শ্বেতা রাজ, ALIFA-র সাগরিকা, ICWM-এর জয়সিয়া থোরাট, TFT-এর ভাবনা, CITU ওয়ার্কিং উইমেন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সুধা এবং আশা ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সুনিতা।

বক্তারা শুরুতে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান রক্ষার আন্দোলনে ছাত্র-যুবদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, এই সংগ্রাম সারা দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও সরকারি শিক্ষার পক্ষে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে।

বক্তাদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণ আইন পাশ হলেও কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণকে শর্ত হিসেবে দেখিয়ে তা কার্যকর করতে দেরি করছে। তাঁরা একে “মহিলাদের প্রতি চরম অবিচার” এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের সমান অংশগ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।

তাঁদের বক্তব্য, সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না। তাই জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে ৩% মহিলা সংরক্ষণের সম্পর্ক ছিন্ন করে অবিলম্বে তা কার্যকর করার দাবি জানানো হয়, যাতে কোটি কোটি মহিলা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

একইসঙ্গে বক্তারা ধরনা সংগঠনের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের “অযৌক্তিক শর্ত” আরোপেরও সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা মৌলিক অধিকার, তাতে বাধা দেওয়া যায় না। ধরনা চলাকালীন অংশগ্রহণকারীরা স্লোগান দেন এবং মহিলা সংরক্ষণ আইন অবিলম্বে কার্যকরের দাবিতে গানও গাওয়া হয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, ৩৩% সংরক্ষণ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ন্যাশনাল কোয়ালিশন ফর উইমেন্স রিজার্ভেশন দেশের সব গণতান্ত্রিক সংগঠন, মহিলা গোষ্ঠী, ছাত্র-যুব সংগঠন এবং জনআন্দোলনের প্রতি এই সংগ্রামের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

ধরনায় উপস্থিত বিশিষ্ট নেত্রীদের মধ্যে ছিলেন AIDWA-র সাধারণ সম্পাদিকা কনিনিকা ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ তাপসী প্রহরাজ, সহ-সভাপতি মারিয়াম ধাওয়ালে, এস পুণ্যবতী ও জগমতী সাংওয়ান, যুগ্ম সম্পাদিকা আশা শর্মা এবং সহ-সম্পাদিকা সাবিতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *