মোদি উপলক্ষ্য মাত্র, টার্গেট পুরো ভারত
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়: গত বছর জানুয়ারি মাসেই ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভালের কাছে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং গুরুত্বপুর্ন আমেরিকার ডিপ স্টেটের সম্ভাব্য দালালদের একটি তালিকা পেশ করেছে। তাতে কম করেও আড়াই হাজার সন্দেহজনক সংস্থা ও ব্যক্তির নাম রয়েছে। বিদেশি ফান্ড প্রাপ্ত ভারতের এনজিও গুলির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে এগুলি কার্যত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিবর্তে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, মাওবাদী,ভারত বিরোধী জিহাদী , রোহিঙ্গা ও কাশ্মীরের জঙ্গিদের হাতে প্রচুর অর্থ পৌঁছে দিচ্ছে। এরপরেই কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা,বিদেশ ও শিক্ষা মন্ত্রক নড়েচড়ে বসেছে। বিদেশ থেকে পিছিয়ে পরা আদিবাসী, উপজাতি ও নারী শিশুদের কল্যাণ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে উন্নয়নের নামে এনজিও গুলির অধিকাংশ নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মোটা টাকা হস্তগত করে চলেছে। এগুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ও লাগাম টানার জন্যই FCRA সংশোধনী বিল আনা হয়েছে সংসদে।
উল্লেখযোগ্য, খ্রিষ্টান মিশনারি ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলির মধ্যে এর প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে।
এই যে দেশ জুড়ে ছাত্রদের নামে , হিংসাত্মক ও সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করার আন্দোলন চলছে, সহজ কথায় দেশকে টুকরো করার চক্রান্ত, তাতে কিছু সাধারণ মানুষ ভাবছেন এটা মোদিকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য সংগঠিত হয়েছে। ককরোচরা তাই মোদির বাপ বাপান্ত করছে। তাদের উদ্যেশ্যে বলতে চাই, এটা মোদি বা যোগী বা কোনো রাজনৈতিক আদর্শের বিরুদ্ধাচারণ করার জন্য নয়।
টার্গেট আমি, আপনি, আমরা সবাই..!!
নির্বাচনে পুরুষদের ভোটারাধিকার, ভোটারদের উপস্থিতির মতো এক একটা বিষয় ধরে ২০০-৩০০ কোটি টাকা আমেরিকা থেকে চলে আসে বিভিন্ন সেমিনারের নামে। দিল্লি,কলকাতা , মুম্বাই সহ বিভিন্ন শহরে ও শহরতলীতে এমন অনেক সেমিনার আখছার হচ্ছে। সেমিনারে মন্ত্রী, নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি,সেলিব্রিটি ও কমিউনিস্টদের ডাকা হচ্ছে।
এটাতে অবাক লাগছে?
হ্যাঁ, এটাই এতদিন অবধি হয়ে এসেছে।
কিন্তু শেষ অবধি সেই সেমিনার সামাজিক উন্নয়নের আলোচনায় সীমিত থাকে না।সেটা ভোটকেন্দ্রিক আলোচনার খরচের জন্যও সীমিত থাকে না। এনজিওর টাকাটা বিভিন্নভাবে ব্যবহার হয় দেশকে অস্থির করার চেষ্টায়। বিদেশ থেকে প্রতি বছর ১৬,০০০ কোটি টাকা ঢোকে ভারতের বিভিন্ন এনজিওর জন্য। এই টাকা কিসে খরচ হচ্ছে, তার কোনও হিসাব দেওয়ার দায়বদ্ধতা নেই।
কোনও গ্রামে নলকূপ বানাব বলে কোনও এনজিও বাড়ি ভাড়া নিচ্ছে, আর তারপর সেখানে হঠাৎ কেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বানানোর প্রয়োজন হচ্ছে, তারও কোনও উত্তর নেই।
আপনি কি জানেন?
শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বানাতে আগ্রহী হলে আপনি মধ্যপ্রাচ্য , আমেরিকা, বা ইতালি থেকে কত টাকার ফান্ড পেতে পারেন? এর সঙ্গে শুরু হয় ধর্মান্তকরণ। ভারতে খ্রিস্টান মিশনারি ও মুসলিম সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলো বিদেশ থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তা লাভ করে শিক্ষার উন্নয়নের নামে মিশনারি, চার্চ, আদিবাসী, উপজাতি দের ধর্মান্তরকরণের কাজ করে আসছে। বহু টাকা ঘুরপথে ভারতবিরোধী জঙ্গি,মাওবাদী, আরবান নকশাল ও সন্ত্রাসবাদীদের হাতে চলে যাচ্ছে।
পুলিশকে বলে কোনো লাভ হয় না।
বড় বড় মাথা, তাদের স্ত্রী, তাদের স্বামী, ভাই-বোন, সবাইকে ততদিনে এনজিওর অংশ করে নেওয়া হয়েছে।
কে বলবে কার হয়ে কথা?
মোদী আসলে আঘাত করছেন এই ফান্ডিং এর সূত্রকে। এখানেই আগুন জ্বলে উঠেছে দাউদাউ করে। সুমন ওয়াংচুক কতগুলি এনজিওর মাধ্যমে কতো হাজার কোটি টাকা পেতেন? মাদার তেরেসা মিশনারি স্কুল ও চার্চ কী পরিমাণ টাকা পায় বিদেশ থেকে? গোপনে পর্দার আড়ালে অন্যান্য কাজ কী হয়? সবই চিন্তার বিষয়। তাই পাশ্চাত্য দেশ গুলির সঙ্গে সঙ্গে আরবীয় দেশ গুলিও গর্জে উঠেছে ককরোচ তথা আরশোলাদের ওপর কেন লাঠিচার্জ হয়েছে দিল্লিতে!!
যেভাবে পাকিস্তানের খানানি ব্রাদার্স পথে বসেছিল একদিনে ৫০০ টাকার নোট বাতিল হওয়ার কারণে।মোদী তেমনই বিদেশে বসে থাকা বাবুদের ভারতকে অশান্ত করার পরিকল্পনায় আঘাত করতে চাইছেন FCRA তথা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল এনে।
ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল।
এই বিলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিদেশি অনুদানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কাজে এই তহবিলের ব্যবহার রোধ করা। FCRA-তে হাত পড়েছে বলেই আন্দোলনজীবীরা রাস্তায়। এক ধাক্কায় সব ডাফলি বাজানো বন্ধ হয়ে যাবে, যদি FCRA আইন হয়। কেন হঠাৎ প্যালেস্টাইন থেকে টাকা ঢুকছে ধনেখালির এনজিওতে?
কেনো পুরুলিয়ার আদিবাসী গ্রামে সুইডেন বা ইতালি থেকে সাহেবরা আসছে?
কেন আরব থেকে মডিউল প্রতি টাকার কোটা নির্ধারিত হচ্ছে ?
এই সবকিছুর উত্তর দিতে হবে
ওরা মোদীকে না ,আমাদের দেশকে টেনে নামাতে চায়।
টার্গেট কেউ না, টার্গেট আমাদের দেশ।
কেন জানেন? দেশটা অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোচ্ছে। এশিয়ার বৃহৎ শক্তিশালী দেশের তকমা পেতে এগোচ্ছে..!
FCRA সংশোধনী বিল পাস হয়ে যাওয়া সময়ের অপেক্ষয়।এবার বিদেশি টাকায়, দেশ ভাঙার বেপরোয়া খেলায় লাগাম টানা কি সত্যিই সহজ হবে, সেটাই ভাবনা আমাদের।
বহু বছর ধরেই অভিযোগ উঠেছে, “সামাজিক কাজ”, “মানবাধিকার”, “পরিবেশ রক্ষা” কিংবা “গবেষণা”র আড়ালে বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে ভারতের নীতি, প্রশাসন এবং জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
সব সংস্থা অবশ্যই এমন নয়, কিন্তু কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার পর এই প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হয়েছে।
সেই প্রেক্ষাপটে FCRA সংশোধনী বিল শুধু একটি আইন নয়, বরং বিদেশি অর্থের উপর ভারতের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার পদক্ষেপ।
এই আইনের ফলে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে আসুন জেনে নেওয়া যাক একনজরে.. :–
• বিদেশি অনুদানের উৎস ও ব্যবহারের উপর আরও কঠোর নজরদারি হবে।
• FCRA লাইসেন্স বাতিল বা মেয়াদ শেষ হলে বিদেশি অর্থে তৈরি সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা কমবে; আইনি তত্ত্বাবধানে থাকবে।
•বিদেশি অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার বা অর্থপাচারের সুযোগ কমতে পারে।
• বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠলে তদন্ত আরও সহজ হতে পারে।
•জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সরকারের নজরদারি শক্তিশালী হবে।
•প্রকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির জন্যও স্বচ্ছতার মানদণ্ড আরও স্পষ্ট হবে, ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়তে পারে।
একটি সার্বভৌম দেশের একশবার জানার অধিকার আছে তার মাটিতে কাজ করা কোনো সংস্থার অর্থ কোথা থেকে আসছে, কীভাবে খরচ হচ্ছে এবং সেই অর্থ দেশের আইন মেনেই আদৌ ব্যবহার হচ্ছে কি না।
অবশ্যই মনে রাখতে হবে, আইন কার্যকর করার সময় সৎ ও বৈধভাবে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির অযথা হয়রানি না হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্বচ্ছতা এবং স্বাধীনতা, দুটিরই ভারসাম্য রক্ষা করাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
ভারতীয় গণতন্ত্রে মতভেদ থাকবে, বিতর্কও হবে। কিন্তু বিদেশি অর্থের ক্ষেত্রে জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রশ্নকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
কারণ ভারতকে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত আজ নতুন তো নয়।
সেই বিষয়ে লাগাম টানা সত্যিই জরুরি।
সারা দেশের সুবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে এই তথ্য পৌঁছে দেওয়া উচিৎ যাতে ভারতের অবস্থা পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশগুলির মতো না হয়।।
লেখক: ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রেস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া












