,

৮০তম স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে জোরকদমে প্রস্তুতি কাছাড়ে

ডিএসএ ময়দানে মূল অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা থেকে সাংস্কৃতিক পর্ব, চূড়ান্ত রূপরেখা প্রশাসনের জনসংযোগ। শিলচর : ৮০তম স্বাধীনতা দিবসকে মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে কাছাড় জেলা প্রশাসন। জাতীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলনে কক্ষে…

ডিএসএ ময়দানে মূল অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা থেকে সাংস্কৃতিক পর্ব, চূড়ান্ত রূপরেখা প্রশাসনের

জনসংযোগ। শিলচর : ৮০তম স্বাধীনতা দিবসকে মর্যাদাপূর্ণ ও সর্বজনীন উৎসবে পরিণত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে কাছাড় জেলা প্রশাসন। জাতীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কাছাড়ের নবনিযুক্ত আয়ুক্ত জেলা রাহুল কুমার গুপ্ত, আইএএস। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের শীর্ষ আধিকারিক, বিভিন্ন সরকারি বিভাগীয় প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তা, ব্যবসায়ী সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা-সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকের শুরুতেই গত বছরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর্যালোচনা করেন জেলা আয়ুক্ত । অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণের পর এবারের কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত ধ্রুবজ্যোতি পাঠক, এসিএস গত বছরের বৈঠকের কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন। পরে নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে জাতীয় উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিলচরের জেলা ক্রীড়া সংস্থার (ডিএসএ) ময়দানেই হবে মূল স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। কুচকাওয়াজের মহড়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ড।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে জনসংযোগ বিভাগের স্থায়ী মাইকযোগে দেশাত্মবোধক গান সম্প্রচার করা হবে। সকাল ৭টায় সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় সমস্ত সরকারি বিভাগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন হবে। পাশাপাশি স্কুলগুলিতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন থাকবে। জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছবেন। এরপর গান্ধীবাগে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণে ‘শহিদ তর্পণ’ অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর শুরু হবে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এতে সিআরপিএফ, অসম পুলিশ, ষষ্ঠ অসম পুলিশ ব্যাটালিয়ন, হোমগার্ড, এনসিসি, স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেবেন। কুচকাওয়াজ, মহড়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন কাছাড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ।

অনুষ্ঠানস্থলে ইতিমধ্যেই বিস্তৃত প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাঠ সমতলকরণ, ঘাস ছাঁটা, পরিচ্ছন্নতা, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ, ব্যারিকেড এবং অস্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা হবে। বিশিষ্ট অতিথিদের সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অ্যান্টি-সাবোটাজ তল্লাশি, ফ্রিস্কিং এবং কড়া নিরাপত্তা নজরদারির ব্যবস্থাও থাকবে।

মহড়ায় অংশগ্রহণকারী কুচকাওয়াজের সদস্যদের জন্য নিয়মিত জলখাবারের ব্যবস্থা করবে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যাঙ্ক এবং স্থানীয় সংস্থাগুলি। মহড়া চলাকালীন এবং স্বাধীনতা দিবসের দিন চিকিৎসক দল, অ্যাম্বুল্যান্স, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাও প্রস্তুত থাকবে। সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাসপাতালের রোগী, অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম, নেশামুক্তি কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের আবাসিকদের মধ্যে ফল ও মিষ্টি বিতরণ করা হবে। রোটারি ক্লাব, শিলচরের সহযোগিতায় একটি প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হবে।

বিকেলে ডিএসএ ময়দানে জেলা আয়ুক্ত একাদাশ এবং জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন (ভেটেরান) একাদশের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় জাতীয় পতাকা অবনমনের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সরকারি ভবন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন মূর্তি এবং শিলচরের প্রধান ট্রাফিক আইল্যান্ডগুলি আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে। এবারের অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের অংশগ্রহণে ৩০ মিনিটের একটি বর্ণময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় যোগ ও শরীরচর্চা সংস্থাগুলির প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারি অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য দূরদর্শন কেন্দ্র ও আকাশবাণী, শিলচরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগ মুদ্রিত, বৈদ্যুতিন এবং জনসংযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারের দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় পতাকা সঠিকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে ‘ফ্ল্যাগ কোড অব ইন্ডিয়া’ অনুসারে জনসচেতনতামূলক প্রচারও চালানো হবে। জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক, রাজস্ব চক্র আধিকারিক এবং সহ-জেলা প্রশাসনগুলিকেও নিজ নিজ এলাকায় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।

বৈঠকের শেষে জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্ত সমস্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দায়িত্ব দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কাছাড়ে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস যেন সুশৃঙ্খল, মর্যাদাপূর্ণ এবং সর্বজনীন উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়, সেই লক্ষ্যেই সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। বৈঠকে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত জাগৃতি কালওয়ার, এসিএস, মনোজ্যোতি কুটুম, এসিএস-সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *