বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : চিকিৎসা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বড় আন্দোলন হয়েছে এবং মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করার সময় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীকে পুলিশ সাময়িকভাবে আটক করে। রাহুল গান্ধী বলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন তাই তার পদত্যাগ চাই। তিনি অভিযোগ করেন ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে এবং তাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে তা নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে সরকার রাজি নয়। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চাইছে না এবং সংসদে এই বিষয়ে বিতর্কও করতে দিচ্ছে না। পুলিশ তাকে দুই হাত দুই পা ধরে জোর করে তুলে একটি বাসে তোলে এবং সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং কিছু বিক্ষোভকারী বাসে ওঠার চেষ্টা করেন। রাহুল গান্ধী নিজেই নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের ছবি প্রকাশ করে জানান এই বিক্ষোভ থামবে না। একই দিনে তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও পুলিশ সাময়িকভাবে আটক করে।
দিল্লির কেন্দ্রে মঙ্গলবারও হাজার হাজার ছাত্র জড়ো হন। ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে এই আন্দোলন হচ্ছে। এই নতুন যুব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে। বারবার পরীক্ষায় গরমিল হওয়ার কারণেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে একটি লরির উপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের বলেন তাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু তারা যেন চুপ না হয়ে যান। তারা যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন এবং শিক্ষা মন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

সোমবার দিল্লিতে পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন এবং তাদের বেশিরভাগের বয়স আঠারো থেকে পঁচিশের মধ্যে। সেদিন পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠি চালায়। কিছু বিক্ষোভকারী পাথর ছুড়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ষাট জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন এবং একশো আঠারো জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। আন্দোলনের আয়োজকরা বলছেন আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত একজন বিক্ষোভকারী হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভেন্টিলেটরে রয়েছেন। আয়োজকরা কর্তৃপক্ষের কঠোর আচরণের নিন্দা করেছেন।

সরকারের তরফে মঙ্গলবার প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজু। তিনি বলেন যুব সমাজের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত এই আন্দোলন নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। কংগ্রেস সহ আরও কয়েকটি বিরোধী দল ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সোমবারের পুলিশি অত্যাচারের নিন্দা করেছে। কংগ্রেসের এক বরিষ্ঠ নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেন সোমবার সংবিধানকে পদদলিত করা হয়েছে। এরপর কোনো আত্মসম্মান সম্পন্ন রাজনীতিক বা নাগরিক চুপ করে থাকতে পারে না।












