দুর্যোগ মোকাবিলা, ভূমি নথি ও জনসেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শ্রীভূমি: জনসাধারণের কাছে প্রশাসনিক পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শনিবার পাথারকান্দি কো-জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের সভা কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কো-জেলা আয়ুক্ত সপ্ততী এন্দো, পাথারকান্দি রাজস্ব সার্কেলের সার্কেল আধিকারিক অদিতি নুনিসা, সহকারী আয়ুক্ত সীমান্ত বিশ্বাস ও পূজা ডালোগোফু, পাথারকান্দি সার্কেলের জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের মাঠ আধিকারিক নব কুমার দাস। এছাড়াও রাজস্ব বিভাগ, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর, সার্কেল কার্যালয় এবং ভূমি নথি শাখার আধিকারিক ও ভূমি নথি কর্মীরা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শুরুতে কো-জেলা আয়ুক্ত সপ্ততী এন্দো পাথারকান্দি কো-জেলার সার্বিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এরপর বিভিন্ন দপ্তরের কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানত চারটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম বিষয় ছিল দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি। আসন্ন বর্ষা মরশুমে বন্যা ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হয়। জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষকে ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখা, উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে আগাম সতর্কতা জারির নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

দ্বিতীয় বিষয় ছিল বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি। প্রশাসনিক কাজে যাতে কোনো বিলম্ব না হয় সেজন্য রাজস্ব বিভাগ, সার্কেল কার্যালয় ও অন্যান্য দপ্তরকে যৌথভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে দপ্তরগুলির মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান আরও বাড়াতে হবে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ভূমি নথি শাখার কাজকর্ম। জমির নথি হালনাগাদ, মিউটেশন ও অন্যান্য পরিষেবা সময়মতো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়। ভূমি নথি সংক্রান্ত কাজে স্বচ্ছতা আনা এবং হয়রানি বন্ধ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত পরিষেবা যেন সাধারণ মানুষ সহজে পান সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
চতুর্থ বিষয় ছিল এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি মাঠ পর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে রূপায়ণ হচ্ছে তা পর্যালোচনা করা হয়। জনসেবার মান আরও উন্নত করতে নতুন কী কী উদ্যোগ নেওয়া যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শেষে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল আধিকারিকদের সময়মতো কাজ শেষ করা এবং মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কাজের তদারকি করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দক্ষ পরিকল্পনার মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব। এর ফলেই সাধারণ মানুষ সরকারি পরিষেবার প্রকৃত সুফল পাবেন। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি দ্রুত রূপায়ণেরও নির্দেশ দেন তিনি।












