মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের বার্তা “রিল বানিয়ে প্রতিবাদ নয়, উন্নয়নে সহযোগিতা করুন”, বৃষ্টি কমলেই দ্রুত মেরামতের আশ্বাস
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ, বরাক উপত্যকা উন্নয়ন, পার্বত্য এলাকা উন্নয়ন এবং কাছাড় জেলার অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল এবং খাদ্য, গণবণ্টন, আবাসন ও নগর বিষয়ক, ভোক্তা বিষয়ক এবং সমবায় মন্ত্রী কৌশিক রায় বৃহস্পতিবার শিলচরের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন সম্মেলন কক্ষে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসন, জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম, রাজ্য পূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনার মূল বিষয় ছিল জেলার কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্প, যার মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙিরখাড়ি সড়ক, শিলচর ফ্লাইওভার, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাস পর্যন্ত সড়ক এবং বীরবল বাজার থেকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পর্যন্ত সড়ক। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা প্রকল্পগুলির অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। মন্ত্রীরা কাজের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলি চিহ্নিত করেন এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলিকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে কাছাড় জেলার বিভিন্ন স্থানে চলমান অন্যান্য সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পগুলির অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, যান চলাচল সহজ করা এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কাছাড় জেলার জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএস, জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাণ কিশান জামভুলকর, জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম, রাজ্য পূর্ত বিভাগ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় জানান, বর্তমানে জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমের অধীনে থাকা ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙিরখাড়ি সড়কটি সম্পূর্ণ পুনর্নির্মাণের জন্য অসম রাজ্য পূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত সমস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, বিদ্যমান ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের স্তর অপসারণ এবং নতুন বিটুমিনাস সড়ক নির্মাণসহ রাজ্য পূর্ত বিভাগ নতুন করে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করে পুনর্নির্মাণের কাজ হাতে নেবে। মন্ত্রী আরও জানান, ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাঙিরখাড়ি পর্যন্ত সড়কে আর কোনও ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। জননিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য কাছাড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগমের অধীনে থাকা রাঙ্গিরখাড়ি থেকে সোনাবাড়িঘাট সড়কে প্রথমে একটি উপযুক্ত নিকাশি ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। নিকাশি ব্যবস্থার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ভবিষ্যতের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য সড়কটি রাজ্য পূর্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বীরবল বাজার থেকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে মন্ত্রী কৌশিক রায় জানান, ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রায় ৪৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে আগামী ২১ আগস্টের আগেই নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এদিকে তিনি জানান, স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে শুক্রবার থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ১.৯ কিলোমিটার অংশে অবিলম্বে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যস্ত সড়কে যানজট কমানোর লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগকে ২৪ ঘণ্টা তিনটি আট ঘণ্টার শিফটে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে মেরামতের সময় যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে। অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কাছাড় জেলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প যাতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই এগিয়ে যায় এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুততম সময়ে এই প্রকল্পগুলির সুফল লাভ করতে পারেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল রাস্তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে বলেন, রিল বানিয়ে প্রতিবাদ করার দরকার নেই। আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা মহাশয় আছেন। তাঁর নেতৃত্বে আসামের প্রত্যেক এলাকার রাস্তাঘাট ভালোভাবে হবে। বর্তমানে বৃষ্টির জন্য কাজ আটকে আছে। বৃষ্টি কমলেই খুব শীঘ্রই রাস্তাঘাট ঠিকঠাক হয়ে যাবে। ২০১৬ ইংরেজির আগের দিকে যদি চলে যাই আমরা কোন জায়গায় ছিলাম আর ২০১৬ ইংরেজির পর যদি চিন্তা করি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা মহাশয়ের নেতৃত্বে সমগ্র বরাক উপত্যকায় আমুল পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন ডেভেলপমেন্ট এর কাজ যখন হবে তখন সাংবাদিক ভাই সহ জনসাধারণ এগিয়ে আসতে হবে। কোনো জায়গায় ব্লক উঁচু হয়ে গেছে কোনো জায়গায় নিচু হয়ে গেছে এটার জন্য রিল বানোর দরকার নেই। আমরা দুই মন্ত্রীর পরিশ্রম করার কারণ একটাই আসামের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আসাম ভারতবর্ষের ৫টি রাজ্যের মধ্যে একটা রাজ্য যাতে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।












