,

দোকানের চৌকাঠ ডিঙিয়ে রাস্তা! জল ঢুকছে ঘরে, ক্ষোভে ফুঁসছে হাসপাতাল রোড

কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ, তবু পিচের উপর ব্লক বসিয়ে উঁচু করা হচ্ছে রাস্তা। পার্থ ধর সহ এলাকাবাসীর ক্ষোভ। সোমবারের মধ্যে সমাধান না হলে অবরোধ বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: “এটা সংস্কার নাকি সাধারণ মানুষকে শাস্তি দেওয়া?” — এই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন হাসপাতাল রোডের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার গুণীজনরা। সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে হাসপাতাল রোড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের…

কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ, তবু পিচের উপর ব্লক বসিয়ে উঁচু করা হচ্ছে রাস্তা। পার্থ ধর সহ এলাকাবাসীর ক্ষোভ। সোমবারের মধ্যে সমাধান না হলে অবরোধ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: “এটা সংস্কার নাকি সাধারণ মানুষকে শাস্তি দেওয়া?” — এই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন হাসপাতাল রোডের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকার গুণীজনরা। সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে হাসপাতাল রোড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা ,পার্থ ধর সহ এলাকার গুণীজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা রাস্তা সংস্কারের নামে পুরনো পিচের উপর সরাসরি ব্লক বসিয়ে রাস্তাকে দোকানদারদের দোকান ঘরের থেকেও উঁচু করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, “পিচের উপর সরাসরি ব্লক কীভাবে বসানো হচ্ছে? এটা কোন নিয়মের মধ্যে পড়ে?” এর ফলে গোটা এলাকার জনজীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রাস্তার কাজ শুরু থেকেই কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ব্লক বসানোর কাজ চলছে। রাস্তার উচ্চতা প্রতিদিন বাড়ছে আর সেই সঙ্গে বাড়ছে জল জমার সমস্যা। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার জল সোজা ঢুকে যাচ্ছে দোকান ঘরগুলিতে। চাল, ডাল, কাপড়, ওষুধ, মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী — বৃষ্টির জলে সব নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন লক্ষ টাকার ক্ষতি। ক্রেতারা দোকানে আসতে ভয় পাচ্ছেন, অনেক দোকানদার বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখছেন। তাঁরা বলেন “আমরা পিচের রাস্তা চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের কপালে জুটল ব্লক। এভাবে রাস্তা উঁচু করলে আমরা ব্যবসা করব কী করে? আমাদের পেটে লাথি মেরে উন্নয়নের নামে তামাশা চলছে”  ক্ষোভের সঙ্গে বলেন অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য। শুধু ব্যবসায়ী নয়, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষও। হাসপাতাল রোড দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ পথচারী যাতায়াত করেন। উঁচু-নিচু ব্লকের কারণে বয়স্ক মানুষ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন, অ্যাম্বুলেন্স ঠিকমতো চলাচল করতে পারছে না, ছোট বাচ্চারা কাদা-জল পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। জনগণের মধ্যে এখন তীব্র ক্ষোভ। এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা পার্থ ধর সহ উপস্থিত জনগণ বলেন, “ইঞ্জিনিয়ার কি করছে? বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ কি করছে? এই রাস্তার জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হয়, এই টাকা কোথায় যায়? কার পকেট ভরে? কেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া পিচের উপর ব্লক বসানো হচ্ছে?”

অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ব্লক বসানোর কাজ বন্ধ হোক। পুরনো ব্লক তুলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পিচের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এনএইচআইডিসি- এলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে এলাকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা বলেন, “সোমবারের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এসে কথা না বললে, মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা হাসপাতাল রোড অবরোধ করব। দিনের পর দিন আমরা কি শুধু ভোটই দেব? আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা কে শুনবে?” এলাকার বাসিন্দারাও ব্যবসায়ীদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, “আর সহ্য করা যাচ্ছে না। প্রশাসন যদি এখনই ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।” এখন প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং আদৌ জনগণের দুর্ভোগ লাঘব হয় কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা হাসপাতাল রোড এলাকা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *