অসম মন্ত্রিসভার বৈঠক: নিরাপত্তা থেকে শিল্প, রাজস্ব থেকে ভাষা একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিশপুর: রবিবার অসম রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা, শিল্প, রাজস্ব, পর্যটন ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জনমুখী বেশ কয়েকটি প্রকল্প ও বিলকে অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজ্যের জরুরিকালীন পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে মন্ত্রিসভা ২৪ ঘণ্টা জরুরিকালীন সহায় ব্যবস্থা চালুর অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে ১১২…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিশপুর: রবিবার অসম রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা, শিল্প, রাজস্ব, পর্যটন ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে জনমুখী বেশ কয়েকটি প্রকল্প ও বিলকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

রাজ্যের জরুরিকালীন পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করতে মন্ত্রিসভা ২৪ ঘণ্টা জরুরিকালীন সহায় ব্যবস্থা চালুর অনুমোদন দিয়েছে। এর মাধ্যমে ১১২ নম্বরে কল করলেই আরক্ষী, অগ্নিনির্বাপক, স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ সহায় সংক্রান্ত সব সেবা এক জায়গা থেকে পাওয়া যাবে। এই ব্যবস্থার জন্য দেরগাঁওয়ের লাচিত বরফুকন আরক্ষী একাডেমিতে একটি অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। জরুরি পরিষেবার আধুনিকীকরণে মোট ৯৭ দশমিক ৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় ভূ-তথ্য ব্যবস্থা চালিত ২০০টি ভ্রাম্যমাণ আরক্ষী ভ্যানকে ভ্রাম্যমাণ থানা হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই পরিষেবা চালুর জন্য ১ হাজার জন চালক ও ২০০ জন যুবক-যুবতীকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে। দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে আরক্ষী নিজেই রোগী পরিবহনের দায়িত্ব নেবে। অসম আরক্ষী জরুরিকালীন ব্যবস্থাপনা প্রণালী ডায়েল-১১২ প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিংকে।

শিল্প ও ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘লাল ফিতার ফাঁস’ কমাতে মন্ত্রিসভা বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে সরকারি অনুমতি ছাড়াই অতি ক্ষুদ্র, লঘু ও মাঝারি শিল্প শুরু করা যাবে। ৩ বছর পর্যন্ত নথিভুক্তি না করেও শিল্প চালানো যাবে। আগে বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি লাগলেও এখন শুধুমাত্র বাণিজ্য দপ্তরের অনুমতিতেই শিল্প স্থাপন করা যাবে। সরকারি কাজকে আরও স্বচ্ছ করতে ‘অসম জন বিশ্বাস বিল, ২০২৬’ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়াও আসন্ন বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে ‘অসম ব্যবসায় সহজীকরণ সংশোধনী বিল, ২০২৬’ ও ‘অসম দোকান ও প্রতিষ্ঠান সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশ করা হবে। রাজ্যের অগর ব্যবসাকে শৃঙ্খলিত করতে মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা ও মন্ত্রী জয়ন্ত মল্ল বরুয়াকে নিয়ে একটি বিশেষ মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে খনিজ নীতিতেও বড় বদল আনা হয়েছে। ‘অসম মাইনর মিনারেল কনসেশন রুলস, ২০১৩’ সংশোধন করে ‘অসম মাইনর মিনারেল কনসেশন সংশোধনী রুলস, ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে বালি ও পাথর আনা প্রতিটি বাহনের উপর প্রতি ঘনমিটারে ১৫০ টাকা হারে শুল্ক ধার্য করা হবে। একইসঙ্গে যে কোনো গৌণ খনিজ পরিবহনকারী বাহনের থেকে প্রতিটির জন্য ২০০ টাকা যাত্রা অনুমতি শুল্ক আদায় করা হবে। রাজস্ব সংগ্রহ আরও বাড়াতে ‘অসম ভূমি ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, ২০২৬’ বিধানসভায় পেশ হবে।

পর্যটন ও কৃষি খাতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সব হোটেল ও গৃহাবাসের নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করতে ‘অসম পর্যটন উন্নয়ন ও নথিভুক্তি সংশোধনী বিল, ২০২৬’ আনা হবে। দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিশ্বনাথ চারিয়ালিতে কাইরা জেলা সমবায় দুগ্ধ উৎপাদক ইউনিয়ন লিমিটেডকে ৩৩ বিঘা ভূমি লিজে দেওয়া হবে। এখানে একটি বৃহৎ দুগ্ধ শীতলীকরণ যন্ত্র ও কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর ফলে দুগ্ধ সংগ্রহ আরও আনুষ্ঠানিক হবে এবং শীতল শৃঙ্খল শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। চলচ্চিত্র গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রেও সরকারি স্তরের অনুমতির প্রয়োজন থাকবে না। এখন থেকে জেলা আয়ুক্তই চলচ্চিত্র গৃহ নির্মাণের অনুমতি দিতে পারবেন।

প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জারি করা বিদেশ ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন থেকে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মচারীরা নিজের টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন, তবে এর জন্য সরকারের আগাম অনুমতি নিতে হবে। আগামী বছর নব-নির্মিত বেতকুছির সমন্বিত আয়ুক্ত কার্যালয় চালু করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিক অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরিত হবে। আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে গুয়াহাটিতে ভিসা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষকে ভিসার কাজের জন্য আর দিল্লি বা কলকাতা যেতে হবে না। এবারের বাজেটে মূলত আগামী ৫ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

সাংবাদিক বৈঠকে অসমীয়া ভাষা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, অসমীয়া ভাষা যেমন ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রয়োজনে ভারত সরকার সংবিধান সংশোধন করে অসমে অসমীয়া ভাষা অনন্তকাল থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণনা যাই হোক না কেন অসমীয়া ভাষা যেমন ছিল তেমনই থাকবে। অসমীয়া ভাষা নিয়ে যেন কেউ ব্ল্যাকমেইলিং না করে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ‘কাদেউতার নাতি আর হাতী-২’ চলচ্চিত্র নিয়েও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং বলেন, এই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় তিনি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *