,

নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির রাজ্যিক কার্যকরী কমিটির সভা ডিব্রুগড়ে অনুষ্ঠিত

২০ সেপ্টেম্বর গৌহাটিতে মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। ডিব্রুগড় : আজ, ৫ জুলাই, রবিবার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আসাম রাজ্যিক কমিটির কার্যকরী কমিটির এক বিশেষ সভা ডিব্রুগড়ে রাজ্যিক সভাপতি  নৃপেন সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গৌহাটি উচ্চ ন্যায়ালয়ের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজ রশীদ আহমদ চৌধুরী, সংগঠনের সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ, হোজাইর কমল দত্ত,…

২০ সেপ্টেম্বর গৌহাটিতে মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। ডিব্রুগড় : আজ, ৫ জুলাই, রবিবার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আসাম রাজ্যিক কমিটির কার্যকরী কমিটির এক বিশেষ সভা ডিব্রুগড়ে রাজ্যিক সভাপতি  নৃপেন সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গৌহাটি উচ্চ ন্যায়ালয়ের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজ রশীদ আহমদ চৌধুরী, সংগঠনের সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ, হোজাইর কমল দত্ত, অমর চাঁদ দে, বিজয় চক্রবর্তী, লামডিং এর প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন কর, গৌহাটির নিভাস রঞ্জন দাস, ডিব্রুগড়ের চন্দন মজুমদার, দেবাশীষ রায়, আপী ভট্টাচার্য প্রমুখ।

সভার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যায় সচিব প্রধান সাধন পুরকায়স্থ আসামের বর্তমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্মুখে সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণে সৃষ্ট বিপদ সম্পর্কে অবগত করেন। সরকার সৃষ্ট এই বিপদ মোকাবিলায় কী করণীয় সে বিষয়ে আলোকপাত করার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন।

এই বক্তব্যের সূত্র ধরে কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা হাফিজ রশীদ আহমদ চৌধুরী সম্প্রতি প্রণীত নাগরিকত্ব ও বিদেশি আইনের বিভিন্ন ধারা ব্যাখ্যা করে সরকারের বাংলা ভাষীদের প্রতি গভীর ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরেন। সাথে আসাম সরকারের একটি নির্দেশিকার বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দেন আসাম সরকার কীভাবে বাঙালির নাগরিকত্ব ও নাগরিক অধিকার হরণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সরকারের নাগরিকত্ব হরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সাথে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় বিপদ অনিবার্য। বিপদের হাত থেকে হিন্দুত্ববাদী সরকার বাঙালি হিন্দুকেও রেহাই দেবে না।

তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হোজাইর বিজয় চক্রবর্তী বলেন, উল্লিখিত দুটি আইন ও আসাম সরকারের জারি করা নির্দেশিকা খুঁটিনাটি দেখে একটি স্মারকপত্র আসামের প্রতিটি জেলার জেলা আয়ুক্তের মাধ্যমে ভারত সরকারকে প্রেরণ করা হোক। এবং সংসদের প্রতিটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংসদদের স্মারকলিপিটির প্রতিলিপি দেওয়া হোক। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উল্লিখিত আইন দুটি এবং আসাম সরকারের নির্দেশিকার সংবিধান বিরোধী ধারাগুলি বাতিল করা কেন প্রয়োজন তা বুঝিয়ে বলার ব্যবস্থা করা হোক। অনুরূপভাবে বিরোধী দলের সাংসদদের সাথে সাক্ষাৎ করে এই বিষয়ে আলোচনা করে তাঁদের সাহায্য চাওয়া হোক। বিজয় চক্রবর্তীর সাথে উপস্থিত সকলে একমত প্রকাশ করেন।

আজকের সভায় কমল দত্ত এবং স্বপন কর কমিটিকে অধিক শক্তিশালী ও সক্রিয় করার উপর জোর দিয়ে বলেন, নব প্রজন্মের সমমনোভাবাপন্ন লোকদের কমিটিতে যুক্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তাঁদের এই বক্তব্যের সঙ্গে সকলে একমত প্রকাশ করেন। অন্যান্য অনেকেই কমিটিকে শক্তিশালী করে পূর্বের ন্যায় আন্দোলনমুখী কার্যসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। আজকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

গৃহীত প্রস্তাবসমূহ:
১. আগামী ২০ সেপ্টেম্বর গৌহাটিতে একটি মহাসমাবেশ করে পরবর্তী আন্দোলনের কার্যসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
২. সংগঠন শক্তিশালী করতে প্রতি জেলা থেকে সমভাবাপন্ন সচেতন ব্যক্তিদের কমিটিতে যুক্ত করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
৩. নাগরিকত্ব আইনের নিয়ম সরল করে ঘোষিত বাঙালি বিদেশির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করা হোক।
৪. জাতীয় নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা বিজ্ঞপ্তি করে আইন অনুযায়ী নাগরিকদের পরিচয়পত্র প্রদান করা হোক। তালিকাভুক্ত না হওয়া ব্যক্তিদের প্রত্যাখ্যানপত্র প্রদান করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ প্রদান করা হোক।
৫. সন্দেহজনক ভোটার সমস্যার সমাধান করা হোক।
৬. প্রচলিত ভিত্তিতে মাটির পাট্টা প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক।
৭. খিলঞ্জিয়া তত্ত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে আসামে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টির সরকারি প্রবণতা বন্ধ করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *