কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও কূটনীতির মাধ্যমে জ্বালানি রেশনিং ও দাম বৃদ্ধি রোধ
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ কার্যকর মূল্যায়ন, কৌশলগত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, দেশীয় সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে ভারত সফলভাবে মোকাবিলা করেছে বলে শনিবার জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দেশে জ্বালানির রেশনিং হয়নি, রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও ভোক্তা ও কৃষকদের সেই প্রভাব থেকে রক্ষা করা হয়েছে। এই সময় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি ক্ষতি বহন করেছে। সংকটের সময় যেসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়েছিল তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা এখন “হতাশার গভীরে ডুবে থাকতে পারে” বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজস্থানের বালোত্রা জেলায় এইচপিসিএল রাজস্থান রিফাইনারি লিমিটেডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত জোরালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সঠিক মূল্যায়ন করেছে, কার্যকর কৌশল তৈরি করেছে, দেশীয় সম্পদ কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে এবং কূটনৈতিক শক্তিকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগিয়ে সফলভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে।”
পরিশোধন ক্ষমতা সম্প্রসারণ
সংকটের সময় দেশীয় রিফাইনারিগুলি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে দেশকে সামাল দিতে সাহায্য করেছে বলেও কৃতিত্ব দেন মোদী। তিনি জানান, দেশের পরিশোধন ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
“ভারত ধারাবাহিকভাবে পরিশোধন ক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং এখন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পরিশোধনকারী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে,” তিনি বলেন। “তবে আমরা এখানেই থেমে থাকব না এবং আগামী বছরগুলিতে ক্ষমতা আরও বাড়াব।”
দাম বৃদ্ধি থেকে রক্ষা
সংকটের সময় দূরবর্তী এলাকাতেও কোনও বড় সরবরাহ বিঘ্ন ঘটেনি, কিছু ছোট বাধা ছাড়া। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু অন্যান্য দেশের মতো ভারত পেট্রোল ও ডিজেলের রেশনিং চালু করেনি।
রান্নার গ্যাস প্রসঙ্গে মোদী বলেন, দেশীয় এলপিজির দাম যা ২০০ টাকা প্রতি সিলিন্ডার পর্যন্ত যেতে পারত, তা ৯৫০ টাকার নীচে রাখা হয়েছে। উজ্জ্বলা উপভোক্তাদের জন্য দাম ৬৫০ টাকা প্রতি সিলিন্ডার।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও ভারত ৩০০ টাকা প্রতি ব্যাগ দরে ইউরিয়া সরবরাহ চালিয়ে গেছে। বিশ্ববাজারের দাম অনুযায়ী এর দাম ৩,০০০ টাকা প্রতি ব্যাগ হতে পারত।
গ্রাহকদের এভাবে রক্ষা করা হলেও, জুন মাসের শেষ প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রায় ৭৫,০০০ কোটি টাকা ক্ষতি বহন করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। “এটি একটি রিফাইনারি তৈরির খরচের সমান,” তিনি বলেন।

কংগ্রেস রিফাইনারি সম্পূর্ণ করতে দেরি করেছে
বালোত্রা রিফাইনারি শেষ করতে রাজস্থানের আগের কংগ্রেস সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন মোদী।
“২০১৭ সালে রিফাইনারির জন্য এমওইউ সই করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত রাজস্থানে কংগ্রেস সরকার ছিল। তাদের সহযোগিতার অভাবে এখানকার কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল,” তিনি বলেন। ২০২৩ সালে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি আবার চালু হয়েছে বলে তিনি যোগ করেন।
রাজস্থানের বালোত্রা জেলায় অবস্থিত এই গ্রিনফিল্ড সমন্বিত রিফাইনারি-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ৯ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এর সঙ্গে ২.৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন পেট্রোকেমিক্যাল ক্ষমতা রয়েছে। প্রকল্পটি ৭৯,৪৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের ৭৪ শতাংশ ইক্যুইটি শেয়ার রয়েছে, বাকিটা রাজস্থান সরকারের।
রিফাইনারিটি প্রথমে ২২ এপ্রিল উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু তার একদিন আগে ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিটে আগুন লাগায় উদ্বোধন পিছিয়ে যায়।












