নদীর জল ব্যবহার না করার পরামর্শ, পানীয় জল প্রকল্পে নজরদারি, মাছ বিক্রি ও জলের গুণমান পরীক্ষায় কড়া নির্দেশ
জনসংযোগ। ৪ জুলাই: ডিমা হাসাও জেলার জাটিঙ্গা ও লাম্পুর মাঝামাঝি জাতীয় সড়ক-২৭-এ ফরমালিন অর্থাৎ ফর্ম্যালডিহাইড দ্রবণ বোঝাই একটি ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে রাসায়নিক পদার্থ জাটিঙ্গা নদীতে মিশে যাওয়ার ঘটনার পর দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কাছাড় জেলা প্রশাসন।
ডিমা হাসাও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ)-র জারি করা পরামর্শের ভিত্তিতে কাছাড় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ) জেলার সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগ ও তৃণমূল পর্যায়ের আধিকারিকদের অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ঝুঁকি এড়াতেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে নদীর দুই তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দূষিত নদীর জল ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপযুক্ত সংস্থার মাধ্যমে জাটিঙ্গা নদীর জলের অবিলম্বে পরীক্ষা এবং নিয়মিত মান পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের সমস্ত পাবলিক ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম (PWSS)-এর উপর। বিশেষ করে যেসব পানীয় জল প্রকল্প নদী থেকে জল সংগ্রহ করে, সেগুলির ইনটেক পয়েন্টে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্থানীয় গ্রাম কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত নদী অংশে গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণী যাতে নদীর জল পান করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জাটিঙ্গা নদী থেকে ধরা মাছ স্থানীয় বাজারে ধরা, পরিবহন ও বিক্রির উপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নদীর জল নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত এই নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়াও জনস্বাস্থ্য, গবাদি পশু, বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে অতিরিক্ত প্রতিরোধমূলক বা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেওয়া পদক্ষেপের অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট (এটিআর) বা সম্মতি প্রতিবেদন দ্রুত জেলা আয়ুক্ত, কাছাড়ের কার্যালয়ে জমা দিতেও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ডিমা হাসাও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষের জন্য পৃথক জননিরাপত্তা পরামর্শ জারি করেছে। ওই পরামর্শে জাটিঙ্গা নদী ও নিম্নপ্রবাহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নদীর জল পান, রান্না, স্নান, কাপড় কাচা কিংবা অন্য কোনও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নদীর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে ধরা মাছ বা অন্য কোনও জলজ প্রাণী খেতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় নদীতে নামা, সাঁতার কাটা কিংবা মাছ ধরা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চাষিদের নদীর জল সেচের কাজে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে নিরাপদ বলে ঘোষণা করছে। একই সঙ্গে গবাদি পশু ও পোষ্য প্রাণীদের নদীর জল পান করতে না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দূষিত জলের সংস্পর্শে এসে কারও চোখ বা ত্বকে জ্বালা, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে হবে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, কাছাড় এবং ডিমা হাসাও, সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার, গুজবে কান না দেওয়ার এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে প্রকাশিত তথ্যের উপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।












