,

দিল্লিতে চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার বৈঠক: মৎস্য, দুগ্ধ, বিমান পরিবহন ও রেল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল নতুন দিল্লিতে ৪ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎকালে মন্ত্রীদের সঙ্গে মৎস্য, দুগ্ধ উৎপাদন ও বিমান পরিবহন খাতের বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী সকালে প্রথমে মৎস্য,…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল নতুন দিল্লিতে ৪ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎকালে মন্ত্রীদের সঙ্গে মৎস্য, দুগ্ধ উৎপাদন ও বিমান পরিবহন খাতের বিকাশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা এবং রাজ্যের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়ে আলোচনা করেন।

মুখ্যমন্ত্রী সকালে প্রথমে মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদন দপ্তরের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মৎস্য ও দুগ্ধ উৎপাদন খাতে রাজ্যের সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠকে অসমের জলসম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে রাজ্যকে দেশের অন্যতম মৎস্য উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অত্যাধুনিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নির্মাণ এবং সুচল বাজার সংযোগের মাধ্যমে মৎস্য খাতকে শিল্পের রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া শ্বেত বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে দুগ্ধ সমবায়গুলোকে শক্তিশালী করা, পশু চিকিৎসা সেবার আধুনিকীকরণ এবং টেট্রাপ্যাক ও দুধের গুঁড়ো তৈরির কারখানা স্থাপনের বিষয়েও মত বিনিময় হয়।

এরপর কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই নেতা সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা করেন। সম্প্রতি অসমের বন্যা পরিস্থিতি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড.শর্মা বলেন, রাজ্য সরকার প্রতিটি পরিবারের জীবিকা পুনরায় নিশ্চিত করতে দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করছে। বৈঠকে কিরেন রিজিজু প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অসম সরকারের পূর্ব প্রস্তুতি ও দ্রুত ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড. শর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে অসম বিকাশের নতুন শিখরে পৌঁছেছে।

মুখ্যমন্ত্রী এরপর অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডুর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে অসমের বিমান যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অসমকে পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিলচর, মানস, উমরাংছো, মাজুলী, ডিফু ও চরাইদেউ-এর প্রস্তাবিত ছয়টি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর এবং হাফলং-এ স্থাপনযোগ্য হেলিপোর্টের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে রূপসী বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং এয়ারবাসের সহযোগিতায় অসমে বিমান পরিবহন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রাজ্যের যুব প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ ও বিকাশের দরজা খুলে দেবে।

সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় রেল, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মিলিত হন। রেল ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অসমের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অসমের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রূপায়ণে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। বৈঠকে দেশে সেমিকন্ডাক্টর-অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অসমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা এবং দূরপাল্লার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতে অসম যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সেজন্য ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের সহযোগিতা চান মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রাজ্যের পার্বত্য জেলাগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে প্রস্তাবিত লংকা থেকে ওমরাংছু নতুন রেললাইনের পরিকাঠামো এবং প্রস্তাবিত ভারত-ভুটান রেল প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা আশা প্রকাশ করেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠক অসমের দীর্ঘমেয়াদি শিল্প বিকাশ, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *