বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: শিলকুড়ি চা বাগান আদিবাসী ভূমি সুরক্ষা কমিটির একটি প্রতিনিধিদল আজ কাছাড় জেলার নবনিযুক্ত জেলা কমিশনার রাহুল কুমার গুপ্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
স্মারকলিপিতে বৃহত্তর শিলকুড়ি চা বাগান এলাকার শিলকুড়ি, ধরমখাল, বরাখাই ও দুর্গাকোনা চা বাগানের জমিতে বহিরাগতদের দ্বারা চলমান অবৈধ দখল ও জবরদখলের গুরুতর বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিছু দখলদার ভুয়া নথিপত্রও তৈরি করেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সতর্কতা শাখার মাধ্যমে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত তদন্ত শুরু করে অবৈধ দখলদারদের চা বাগানের জমি দখল থেকে বিরত রাখার জন্য জেলা কমিশনারের জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়। জেলা কমিশনার অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনেন।
কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, প্রচলিত আইন ও নিয়ম অনুযায়ী চা বাগানের জমি কোনো অবস্থাতেই বহিরাগতদের প্রদান করা যায় না। তাই প্রয়োজনে কমিটি আদালতের দ্বারস্থ হবে। খুব শীঘ্রই শিলকুড়িতে একটি বৃহৎ নাগরিক সমাবেশেরও আয়োজন করা হবে। ওই সভায় চারটি চা বাগানের শ্রমিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্তের শুভানুধ্যায়ী ও চা শ্রমিকদের সমর্থকরাও অংশগ্রহণ করবেন। সেখানে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও আগামীদিনের আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।
কমিটি জানিয়েছে, অতি শীঘ্রই তাদের একটি প্রতিনিধিদল অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, রাজ্য সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ন্যায়বিচার এবং চা বাগানের জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের অবিলম্বে উচ্ছেদের দাবি জানাবে।
কমিটির সভাপতি সুভাষ নুনিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক রাজেন্দ্র নুনিয়া বলেন, চা বাগানের এক ইঞ্চি জমিও কোনো বহিরাগতকে দখল করতে দেওয়া হবে না। নিরীহ চা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কমিটি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সঙ্কু মাল্লাহ, দিলীপ কুমার নুনিয়া, সুনীল মহাতো, অমৃত তান্তি এবং কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সঞ্জীব রায়। সঞ্জীব রায় বলেন, চা বাগান সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন হলে তারা সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত লড়াই করবেন। তবে জমির অধিকার চা শ্রমিকদেরই হতে হবে।












