,

অসমের কৃষি খণ্ড রূপান্তরের জন্য অঞ্চল-ভিত্তিক শস্য নির্বাচনের আহ্বান কৃষি মন্ত্রী পীযুষ হাজরিকার

কৃষকের আয় বাড়াতে ধানের পরিবর্তে উচ্চমূল্যের উদ্যান শস্যের দিকে যেতে হবে: মন্ত্রী বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটী : রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আজ গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্টারফেস’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অসম প্রশাসনিক পদাধিকারী মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে পৌরহিত্য করেন কৃষি, জলসেচন ও সংসদীয় পরিক্রমা বিভাগের মন্ত্রী পীযুষ হাজরিকা। এ ধরনের…

কৃষকের আয় বাড়াতে ধানের পরিবর্তে উচ্চমূল্যের উদ্যান শস্যের দিকে যেতে হবে: মন্ত্রী
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটী : রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আজ গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্টারফেস’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অসম প্রশাসনিক পদাধিকারী মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে পৌরহিত্য করেন কৃষি, জলসেচন ও সংসদীয় পরিক্রমা বিভাগের মন্ত্রী পীযুষ হাজরিকা। এ ধরনের প্রথম অংশীদারি সম্মেলনে শিক্ষাবিদ, কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, নাবার্ডসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মৎস্য, জলসেচন, পশুপালন, উদ্যান শস্য, রেশমের মতো সহযোগী বিভাগ একসঙ্গে অংশ নেয়। রাজ্যের কৃষি খণ্ড আধুনিকীকরণের জন্য যৌথ রণনীতি তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ভাষণে মন্ত্রী রাজ্যের কৃষি খণ্ডের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারত চা, মাংস, মাছ, ফল ও সবজি রপ্তানি করে কোটি কোটি ডলার আয় করে, কিন্তু রপ্তানিতে অসমের অবদান নগণ্য। এই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে হবে। ডাল ও রন্ধন তেল আমদানির জন্য দেশের বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে যাচ্ছে। কিন্তু অসমে ডিম, মাছ, মুরগি ও শুয়োরের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। তাহলে অন্য রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হবে না। অসমের প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। রাজ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ কৃষিজমিতে জলসেচনের সুবিধা আছে, এর পরিধি বাড়ানো জরুরি। পরম্পরাগত ধান চাষে কৃষক আশানুরূপ লাভ পাচ্ছেন না। তাই কৃষকদের আয় বহুগুণ বাড়াতে উদ্যান শস্যের দিকে ব্যাপক ও কৌশলগত পরিবর্তন দরকার। তামোল, লিচু ও জালুকের মতো লাভজনক ফসল উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে মন্ত্রী আহ্বান জানান। শিক্ষা সমাজকে দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা অঞ্চল-ভিত্তিক ফসল নির্বাচন ও জলবায়ু সহনশীল বীজ-চারা তৈরিতে সরকারি বিভাগকে সঠিক পথ দেখাক। তিনি বলেন, এই ‘ইন্টারফেস’ বৈঠক বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে সরাসরি মাঠের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া গতিশীল সেতু হবে। এর মাধ্যমে অসমের কৃষি খণ্ডকে গতানুগতিক জীবিকানির্ভরতা থেকে লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগে রূপান্তর করা যাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের আয়ুক্ত ও সচিব অরুণা রাজোরিয়া, অসম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপজ্যোতি রাজখোয়া, নাবার্ডের অসম আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য মহাপ্রবন্ধক জি. রমেশ কুমারসহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *