চিপ ভিত্তিক ই-পাসপোর্টে বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত করে জালিয়াতি রোধ ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো হচ্ছে।
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : পাসপোর্ট একটি ভ্রমণ নথি, এটি নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয় বলে স্পষ্ট করল বিদেশ মন্ত্রক বুধবার পাসপোর্ট সেবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রকের আধিকারিকরা এই তথ্য জানান। ১৯৬৭ সালে পাসপোর্ট আইন প্রণয়নের দিনটিকে স্মরণ করতেই প্রতি বছর ২৪ জুন পাসপোর্ট সেবা দিবস পালন করা হয়। আধিকারিকরা জানান, বিদেশে থাকাকালীন ভারতীয়দের জাতীয়তা প্রমাণ করাই পাসপোর্টের মূল কাজ। অনেক যাচাই-বাছাই ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নথি যাচাই করেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। গত বছর চিপ ভিত্তিক ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৪.৭ মিলিয়ন ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। পাসপোর্ট সেবা কর্মসূচির সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই নতুন পাসপোর্ট চালু হয়। ই-পাসপোর্টে অ্যান্টেনা ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন চিপ বসানো আছে। চিপের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য ও বায়োমেট্রিক ডেটা সংরক্ষিত থাকে। বর্তমানে মোট পাসপোর্টের প্রায় ১০ শতাংশই ই-পাসপোর্ট এবং এখন সব নতুন পাসপোর্টই চিপ ভিত্তিক। ই-পাসপোর্টের নিরাপত্তা অনেক বেশি এবং অননুমোদিত প্রবেশ বা তথ্য বিকৃতির সুযোগ প্রায় নেই। জাল পাসপোর্ট তৈরি করাও এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। বিদেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও ই-পাসপোর্টের ওপর বেশি আস্থা রাখছে এবং ছাড়পত্র দ্রুত মিলছে। ই-পাসপোর্টের চিপ আসে নাসিকের ইন্ডিয়া সিকিউরিটি প্রেস থেকে, যা আবার বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়। অন্যান্য দেশের সেরা পদ্ধতি খতিয়ে দেখেই ভারতের ই-পাসপোর্টকে যতটা সম্ভব মজবুত করা হয়েছে। পাসপোর্ট সেবা প্রকল্পের প্রযুক্তি ও পরিষেবা দেয় টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস। তবে সব পাসপোর্টের ডেটা বিদেশ মন্ত্রকের নিজস্ব সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। পাসপোর্ট সেবা দিবসে আধিকারিকরা জানান, আগামী ৩০ জুন ও ১ জুলাই দুই দিনের মানবসম্পদ গতিশীলতা ফোরাম আয়োজন করবে বিদেশ মন্ত্রক। ডেনমার্ক, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও রাশিয়া থাকবে ফোরামের ফোকাস কান্ট্রি হিসেবে বিদেশে চাকরির বৈধ পথ তুলে ধরা এবং বিদেশি নিয়োগকর্তা ও ভারতীয় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করাই ফোরামের লক্ষ্য। ফোরাম আয়োজনে শ্রম ও শিক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গেও কাজ করছে বিদেশ মন্ত্রক। রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ভারতীয় যুবকদের প্রতারিত করে নেওয়ার মতো ঘটনার প্রেক্ষিতে আধিকারিকরা শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কাঠামোবদ্ধ নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের ওপর জোর দেন। নৈতিক নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগ্য প্রার্থীদের মেলানো এবং কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে তা বোঝানো জরুরি বলে জানান এক আধিকারিক। একই সঙ্গে ভারতীয়দের জন্য ভিসা-মুক্ত ও ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দেওয়া দেশের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ২০১৯ সালে ভিসা-মুক্ত সুবিধা ছিল ১৬টি দেশে, এখন তা বেড়ে ২৭টি হয়েছে। ভিসা-অন-অ্যারাইভাল ছিল ৩৮টি দেশে, এখন ৪৭টি দেশে এই সুবিধা মিলছে। ৬৬টি দেশ ভারতীয়দের ই-ভিসা দেয়। ইউরোপসহ ২৫টি দেশের সঙ্গে ভারতের মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি চুক্তি আছে। এই চুক্তিগুলো বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ করেছে এবং অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত আনতেও সাহায্য করেছে। পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ার সময়ও অনেক কমানো হয়েছে। এখন গড়ে ৫ থেকে ৬ দিনেই পাসপোর্ট প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে। পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে আবেদনকারীরা ৪৫ মিনিটের বেশি সময় দেন না। সারা দেশে এখন ৫৪৪টি পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র ও পোস্ট অফিস পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র আছে। এক দশক আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৭টি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় কমানোর কাজও চলছে। কিছু রাজ্যে এটি ২ থেকে ৩ দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, সেই মডেল অন্য রাজ্যেও চালু করার চেষ্টা চলছে।












