বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: “বসুধৈব কুটুম্বকম” অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবীই আমাদের পরিবার, এই প্রাচীন উপনিষদের বাণী থেকেই ভারতের বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্কের ধারণা জন্ম নিয়েছে। প্রাচীন ভারত চিকিৎসা, যুদ্ধবিদ্যা, সাহিত্য, গণিত, সংগীত, জ্যোতিষশাস্ত্রে সমৃদ্ধ ছিল এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জ্ঞান আহরণে এখানে আসত। কিন্তু কালক্রমে বিদেশি আক্রমণ ও দীর্ঘ মোগল-ব্রিটিশ শাসনের পর ভারত স্বাধীন হলেও ভুল নীতি ও বৈষম্যের কারণে বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দিয়ে দেশকে বিশ্বের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। ফলে ভারত বিশ্বের চোখে দুর্গম ও অসুরক্ষিত স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত আবার বিশ্বগুরু হওয়ার পথে এগিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে তিনি ভারতের জাতি-জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি প্রচার করে বিশ্ববাসীকে ভারতমুখী করেছেন। অসমের ক্ষেত্রে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বপ্নদ্রষ্টা মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা-র নেতৃত্বে মূলস্রোত থেকে সরে যাওয়া ১২টির বেশি সংগঠনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে অসমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। আগে গুলিবারুদের শব্দে রাত কাটানো অসম এখন ঢাক-শঙ্খ ও হরিনামে মুখরিত। কংগ্রেস আমলে দুর্গম ও অসুরক্ষিত চোখে দেখা অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিজেপি সরকারের আমলে দেশ-বিদেশের মানুষ নিজেদের প্রিয় ভ্রমণস্থলের তালিকায় রেখেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাজিরঙা জাতীয় উদ্যানে রাত কাটিয়ে সারা বিশ্বে উদ্যানটির প্রচার করে অসম পর্যটনের ব্র্যান্ড দূত হয়েছেন। ২০২৫-২৬ বছরে মোট ৫ লাখ ৪৮ হাজার পর্যটক কাজিরঙা ভ্রমণ করেছেন। গত বছর ৭০ লাখ-এর বেশি যাত্রী অসমের বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। উল্লেখযোগ্য যে গত ৮ ও ৯ জুন ইউরোপের ২৭টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন অসম ভ্রমণের পর অসমের শান্ত পরিবেশ দেখে ২০ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অসম ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা বাতিলের কথা জানান। রাজ্য বিজেপির মুখ্য কার্যালয় অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখপাত্র প্রাঞ্জল কলিতা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই ঘোষণা অসমের পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করবে। “ব্লু-ভ্যালি ক্লাস্টার”-এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অসমে বিনিয়োগ ও শিল্প স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়ার পর এই ঘোষণা রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন আশার পথ খুলে দিয়েছে। এর আগেও অস্ট্রেলিয়া ও জাপান তাদের নাগরিকদের জন্য অসমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার প্রচেষ্টায় অসম পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অসম সরকার হোমস্টে নির্মাণের জন্য দেওয়া তহবিলের ফলে রাজ্যের যুবক-যুবতীরা আত্মনির্ভর হতে পেরেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার বাজেটে অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বৌদ্ধ সার্কিটের অন্তর্ভুক্ত করায় পর্যটন ক্ষেত্র নতুন মাত্রা পেয়েছে। অসমকে সংগীত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে বিশ্বের শীর্ষ সংগীতশিল্পীদের আমন্ত্রণ করায় দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছেও অসম প্রিয় স্থান হয়েছে। অসমের স্টেডিয়ামগুলোতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ আয়োজন করায় অসমে পর্যটকের সংখ্যা দিন বাড়ছে। বিজেপি সরকারের আমলে অসমের মোট উৎপাদনের ক্ষেত্রে পর্যটন ক্ষেত্রের অংশীদারিত্ব ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার প্রচেষ্টায় অসমের পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা শুধু হয়নি, কর্মসংস্থানের পথও খুলেছে বলে মুখপাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
আগে দুর্গম ও অসুরক্ষিত ভাবা অসম এখন দেশ-বিদেশের পর্যটকের মূল আকর্ষণ
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি: “বসুধৈব কুটুম্বকম” অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবীই আমাদের পরিবার, এই প্রাচীন উপনিষদের বাণী থেকেই ভারতের বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্কের ধারণা জন্ম নিয়েছে। প্রাচীন ভারত চিকিৎসা, যুদ্ধবিদ্যা, সাহিত্য, গণিত, সংগীত, জ্যোতিষশাস্ত্রে সমৃদ্ধ ছিল এবং বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জ্ঞান আহরণে এখানে আসত। কিন্তু কালক্রমে বিদেশি আক্রমণ ও দীর্ঘ মোগল-ব্রিটিশ শাসনের পর ভারত স্বাধীন হলেও ভুল…
Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News












