গুয়াহাটিতে মোদীর সঙ্গে বৈঠক, উত্তর-পূর্বের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের আশা
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটী: আগামী ১ জুলাই অসমে আসছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তিনি গুয়াহাটিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হবেন। উত্তর-পূর্বের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে এই বৈঠক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে বহু ক্ষেত্রে অসমে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য গোটা দেশবাসী আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে।
২০১৯-এ বাতিলের পর এবার কড়া প্রস্তুতি
২০১৯ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অসম সফরের দিন-তারিখ সব ঠিক হয়েছিল। কিন্তু অসমে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট হিংসাত্মক পরিস্থিতির জন্য তখন তাঁর অসম সফর বাতিল হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কোনো ত্রুটি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অসম সফর সাফল্যমণ্ডিত করতে মুখ্যমন্ত্রী প্রত্যেক মন্ত্রীকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছেন।

মন্ত্রীদের দেওয়া দায়িত্ব
জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য বিমানবন্দরের সামগ্রিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী চরণ বড়োকে। বিমানবন্দর থেকে ধারাপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার জুড়ে পথের ধারে আয়োজন করা বিভিন্ন নৃত্যের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রী বিমল বরা।
ব্রহ্মপুত্র হেরিটেজ সেন্টারের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রী কৌশিক রায়। বিমানবন্দর থেকে হোটেল ভিভাণ্টা পর্যন্ত রাস্তার সৌন্দর্য্যবর্ধন ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে মন্ত্রী অশোক সিংহলকে।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রচার-প্রসার এবং লোকভবন ও তাজ ভিভাণ্টার সৌন্দর্যের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কামাখ্যা দর্শনের যাবতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে অশ্বিনী রায় সরকারকে। রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য লোকভবনের দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রী অতুল বরা।
থাকা-খাওয়ার দায়িত্বও মন্ত্রীর কাঁধে
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বা তাঁদের প্রতিনিধির রাত্রিযাপনের জন্য তিন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হোটেল ভিভাণ্টার দায়িত্বে মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া, রেডিসন ব্লু হোটেলের দায়িত্বে মন্ত্রী নীলিমা দেবী এবং মেফেয়ারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে।
এর পাশাপাশি দেশের ভিভিআইপি এলে রাত্রিযাপনের জন্য কইনাধরার দায়িত্বে থাকবেন মন্ত্রী বিশ্বজিৎ দৈমারী। মন্ত্রী অজন্তা নেওগকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রীরা নিজেদের কাজে লেগে পড়েছেন।
উত্তর-পূর্বের জন্য নতুন সম্ভাবনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও মোদীর সঙ্গে বৈঠক উত্তর-পূর্বের বিনিয়োগ, শিল্প ও পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে নতুন দুয়ার খুলবে। অসম থেকে জাপানে রপ্তানি এবং জাপানি বিনিয়োগ অসমে আনার ক্ষেত্রে এই বৈঠক একটি মাইলফলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।












