শিলং-শিলচর, গুয়াহাটি-শিলং হাইস্পিড করিডর, সীমান্ত সংযোগে জোর
শিলং। ১৫ জুন: উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বদল আনতে চলেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করী সোমবার শিলংয়ে ঘোষণা করলেন ৯০ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের একগুচ্ছ সড়ক প্রকল্প। গুয়াহাটি, শিলং, শিলচরকে জোড়া হাইস্পিড করিডর থেকে শুরু করে মেঘালয়ের সীমান্ত সংযোগ প্রকল্প – সবই থাকছে এই প্যাকেজে।
শিলংয়ের লারিটি আন্তর্জাতিক শিল্প ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে “উত্তর-পূর্ব ভারত পরিকাঠামো শীর্ষ সম্মেলন ও প্রদর্শনী ২০২৬”-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে গড়করী বলেন, এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ সহজ করা।
মেঘালয়ের সীমান্তে নতুন করিডর
পশ্চিম গারো পাহাড় ও দক্ষিণ গারো পাহাড়ের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর যোগাযোগ বাড়াতে ১৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দালু-ওয়াঘমারা-দারুগিরি করিডর তৈরি হবে। খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিললেই কাজ শুরু হবে।
গড়করী বলেন, “এই প্রকল্প দূরবর্তী গ্রামগুলিকে সীমান্তের সঙ্গে জুড়বে। দালু থেকে ওয়াঘমারা আর ওয়াঘমারা থেকে দারুগিরি যেতে এখন ৪ ঘণ্টা লাগে, তখন লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা।”
শিলং-শিলচর হাইস্পিড গ্রিনফিল্ড করিডর
সবচেয়ে বড় প্রকল্প শিলং-শিলচর চার লেনের গ্রিনফিল্ড করিডর। শিলংয়ের মাউলিংখুং থেকে অসমের কাছাড় জেলার পাঁচগ্রাম পর্যন্ত যাবে এই রাস্তা। খরচ ২৩ হাজার কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলেই শুরু হবে কাজ।
গুয়াহাটি-শিলং এক ঘণ্টায়
জোরাবাট থেকে বারাপানি পর্যন্ত চার লেনের গ্রিনফিল্ড করিডর তৈরি হবে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। এর বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট প্রায় শেষ। গড়করী বলেন, “পরের বার যখন শিলং আসব, কথা দিচ্ছি আপনারা এক ঘণ্টায় গুয়াহাটি পৌঁছে যাবেন।”
সিলিগুড়ি, গুয়াহাটি, শিলং, শিলচরকে জোড়া বৃহত্তর হাইস্পিড যোগাযোগ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্টও শেষ পর্যায়ে। এই নেটওয়ার্কের খরচ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।
যানজট কমাবে শিলং ওয়েস্টার্ন বাইপাস
শিলং শহরের যানজট কমাতে ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ শিলং ওয়েস্টার্ন বাইপাস প্রকল্পের ৫৬ শতাংশ কাজ শেষ। তারুংসা থেকে দামবুক পর্যন্ত এই বাইপাস চালু হলে দাওকি, সোহরা, নংস্টয়েন ও লাগোয়া জেলার যোগাযোগ অনেক সহজ হবে।
পিনুরসলা বাইপাস, জোয়াই বাইপাস, তুরা বাইপাস, শিলং-দাওকি করিডর আর পশ্চিম গারো পাহাড়ের সড়ক নেটওয়ার্ক পর্যটন, সীমান্ত বাণিজ্য, কর্মসংস্থান বাড়াবে বলে আশা মন্ত্রীর। দূরবর্তী এলাকা আর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পয়েন্টে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছতেও সুবিধা হবে।
উত্তর-পূর্ব অগ্রাধিকারে মোদী সরকার
গড়করী বলেন, “২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পরিকাঠামো উন্নয়ন আর উত্তর-পূর্বের অগ্রগতি তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার। একসময় যে অবহেলার কথা শোনা যেত, এখন সেই জায়গায় আস্থা আর আশা দেখা যাচ্ছে।”
সংস্কৃতি কর্মী থেকে সাধারণ মানুষের মতে, এই প্রকল্পগুলি চালু হলে শিলচর-শিলং-গুয়াহাটির দূরত্ব শুধু কমবে না, বরাক উপত্যকার অর্থনীতি ও পর্যটনেও নতুন গতি আসবে।












