,

রাগরূপে নজরুল: রাগসঙ্গীত ও নজরুলগীতির অপূর্ব মেলবন্ধনে মুগ্ধ মধ্যমগ্রাম

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : সঙ্গীতচর্চার ক্ষেত্রে এক অভিনব উদ্যোগের সাক্ষী থাকল মধ্যমগ্রামের সাংস্কৃতিক মহল। সম্প্রতি মধ্যমগ্রামের চিত্রাঙ্গদা অডিটোরিয়ামে Sampuran ও Sharav মিউজিক অ্যাকাডেমির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘রাগরূপে নজরুল’। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল কাজী নজরুল ইসলামের গানে রাগসঙ্গীতের প্রভাব | অনুষ্ঠানের সূচনা হয় Sampuran’er ধারক ও বাহক অনির্বাণ দাস এবং দীপ্তম সিংহ বিশ্বাসের পরিচালনায়…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : সঙ্গীতচর্চার ক্ষেত্রে এক অভিনব উদ্যোগের সাক্ষী থাকল মধ্যমগ্রামের সাংস্কৃতিক মহল। সম্প্রতি মধ্যমগ্রামের চিত্রাঙ্গদা অডিটোরিয়ামে Sampuran ও Sharav মিউজিক অ্যাকাডেমির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘রাগরূপে নজরুল’। অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু ছিল কাজী নজরুল ইসলামের গানে রাগসঙ্গীতের প্রভাব |

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় Sampuran’er ধারক ও বাহক অনির্বাণ দাস এবং দীপ্তম সিংহ বিশ্বাসের পরিচালনায় তাঁদের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনার মাধ্যমে। এই পর্বে বিভিন্ন রাগের বন্দিশের সঙ্গে রাগভিত্তিক নজরুলগীতির এক অনন্য মেলবন্ধন উপস্থাপিত হয়। হিজাজ ভৈরব রাগের বন্দিশের সঙ্গে পরিবেশিত হয় “ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি”, মিশ্র হিন্দোল রাগে “আজকে দোলের হিন্দোলা”, খাম্বাজ রাগে “উচাটন মন ঘরে রয় না” এবং আড়ানা রাগে “খোলো খোলো খোলো গো দুয়ার”। এই অভিনব উপস্থাপনা শ্রোতাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

পরবর্তী পর্বে পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শ্রীমতী দেবস্মিতা দাস, ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদুষী মন্দিরা লাহিড়ি। বিদুষী Mandira লাহিড়ি প্রথমে বিভিন্ন রাগের বন্দিশ পরিবেশন করেন এবং সেই সূত্র ধরেই দেবস্মিতা দাস ও ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় সংশ্লিষ্ট রাগাশ্রয়ী নজরুলগীতি পরিবেশন করেন। রাগ মারুবেহাগে “আমারও নয়নে নয়ন রাখি”, রাগ পটদীপে “প্রথম প্রদীপ জ্বালো”, রাগ মালবগঞ্জীতে “গুঞ্জা মালা গলে কুঞ্জে এসো হে কালা” এবং রাগ আহির ভৈরবে “অরুণ কান্তি কে গো যোগী ভিখারী” ইত্যাদি বিশেষভাবে শ্রোতাদের প্রশংসা অর্জন করে।

এই পর্বে তবলায় সঙ্গত করেন প্রশান্ত দে রায়, হারমোনিয়ামে সুরাজ শর্মা এবং গিটারে সায়ন্তন বিজলী।

সন্ধ্যার সর্বশেষ পরিবেশনা ছিল অনির্বাণ দাস ও দীপ্তম সিংহ বিশ্বাসের দ্বৈতকণ্ঠ সঙ্গীত। শুরুতেই তাঁরা যোগিয়া রাগাশ্রয়ী নজরুলগীতি “দূর প্রবাসে প্রাণ কাঁদে” পরিবেশন করে শ্রোতাদের মন জয় করেন। এরপর পরিবেশিত হয় রাগ শংকরায় “পলাশ ফুলের মৌ পিয়ে ওই”। পরবর্তীতে মিশ্র হেমন্ত রাগে ঠুমরী-অঙ্গের গান “চৈতী চাঁদের আলো” এবং শ্রোতাদের বিশেষ অনুরোধে মিশ্র কিরওনি রাগে “যাবার বেলায় ফেলে যেয়ো একটি খোঁপার ফুল” পরিবেশিত হয়। তাঁদের পরিবেশনা শ্রোতাদের এতটাই মুগ্ধ করে যে আরও গান শোনার অনুরোধ উঠতে থাকে। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে অনুষ্ঠান সেখানেই সমাপ্ত করতে হয়।

এই পর্বে তবলায় সঙ্গত করেন আবির মুখোপাধ্যায়, হারমোনিয়ামে  সুরাজ শর্মা এবং গিটারে  সায়ন্তন বিজলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সম্পূরান এর ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দক্ষতার সঙ্গে তবলা সহযোগিতা করেন নবীন শিল্পী মৈনাক দাস, যার পরিবেশনা শ্রোতাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন  পৌলমী সেনগুপ্ত। দীর্ঘদিন পর মধ্যমগ্রামের মঞ্চে এমন একটি বিষয়ভিত্তিক এবং গবেষণাধর্মী সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ায় দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শেষে বহু শ্রোতা তাঁদের মতামত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হলে মধ্যমগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল আরও সমৃদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, Sampuran এমন একটি সাংস্কৃতিক সংস্থা, যারা প্রতি বছরই অভিনব ভাবনা ও বিষয়নির্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ শিল্পীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। অন্যদিকে Sharav মিউজিক অ্যাকাডেমিও মধ্যমগ্রামে নতুন প্রতিভাদের প্রশিক্ষণ ও মঞ্চ প্রদানের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ‘রাগরূপে নজরুল’ সেই প্রচেষ্টারই এক সফল এবং প্রশংসিত উদাহরণ হয়ে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *