মরিগাঁও। ১১ জুন: জেলার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখলেন মরিগাঁও জেলার অভিভাবক মন্ত্রী ও মহিলা-শিশু বিকাশ এবং পর্যটন বিভাগের মন্ত্রী অজন্তা নেওগ। বুধবার মরিগাঁও জেলা আয়ুক্ত কার্যালয়ের সভাকক্ষে জেলা উন্নয়ন সমিতির বৈঠকে তিনি বিভিন্ন বিভাগের কাজের পর্যালোচনা করেন।
কাজের মানে কোনো আপস নয়
বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেন, কোনো প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে ঠিকাদার আপস করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের তিনি নির্দেশ দেন, সময়ে সময়ে নির্মাণাধীন প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের মান পরীক্ষা করতে হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অনুমোদন পাওয়া সব প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। প্রকল্পের জন্য ভালো মাটি বাছাই করতে হবে, যাতে সময়মতো কাজ শুরু করা যায়।
রাস্তা ও চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়
লোকনির্মাণ গৃহ বিভাগকে তিনি নির্দেশ দেন, মরিগাঁও চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। কাজের গতি বাড়াতে হবে।
লোকনির্মাণ পথ বিভাগকে জেলার রাস্তাগুলি যান চলাচলের উপযোগী করতে বলেন। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত অনুমোদিত সব রাস্তার নির্মাণ কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে নতুন রাস্তার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। প্রতিটি সমষ্টির বাকি থাকা রাস্তার একটি রূপরেখা তৈরি করে এক সপ্তাহের মধ্যে বিধায়কদের কাছে জমা দিতে কার্যনির্বাহী আধিকারিককে বলেন।
বন্যা ও গ্রামোন্নয়ন
জলসম্পদ বিভাগের কাজ দেখে মন্ত্রী বলেন, ছোট ছোট কারণে কাজের গতি অযথা দেরি হলে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়বে। তা যেন না হয়। দুর্য়োগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বন্যা প্রস্তুতিও তিনি খতিয়ে দেখেন। বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধী প্রকল্পের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দেন। কাজের মান পরীক্ষার জন্য গুয়াহাটি থেকে দল আনার ব্যবস্থা করতে জেলা আয়ুক্তকে বলেন।
পঞ্চায়ত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের কাজের পর্যালোচনায় তিনি বলেন, পঞ্চায়তী রাজ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে জেলা পরিষদকে সক্রিয় হতে হবে। সরকারের সব প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে জানাতে জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়ন খণ্ডে গিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর নির্মাণের কাজ সময়মতো শেষ করার উপর জোর দেন। মরিগাঁওয়ে মৎস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে জানিয়ে মৎস্য বিভাগকে বড় পরিকল্পনা করতে বলেন।
মহিলা ও শিশু বিকাশ
মহিলা ও শিশু বিকাশ বিভাগের পর্যালোচনায় তিনি “বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও” অভিযানের আওতায় শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যৌথ সচেতনতা অভিযান চালাতে বলেন। মরিগাঁও পৌরসভার আয় বাড়াতে শহর পরিষ্কার রাখা, আবর্জনা সংগ্রহের জন্য মানুষের থেকে মাসিক সামান্য কর নেওয়া এবং আয়ের উৎস আছে এমন প্রকল্প রূপায়ণের পরামর্শ দেন।
মরিগাঁওকে রাজ্যের সেরা জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সব বিভাগকে সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। অভিভাবক মন্ত্রী হিসেবে জেলাকে এগিয়ে নিতে নিজের তরফ থেকে শতভাগ চেষ্টা থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
উপস্থিত ছিলেন
বৈঠকে মরিগাঁও সমষ্টির বিধায়ক রমাকান্ত দেউরী, লাহরীঘাট সমষ্টির বিধায়ক ডাক্তার আসিফ মহম্মদ নাজার, মরিগাঁও জেলা পরিষদের সভানেত্রী প্রণতি কলিতা ডেকা, মরিগাঁওয়ের পৌরপতি যোগেশ তামূলী, জ্যেষ্ঠ আরক্ষী অধীক্ষক প্রকাশ সোণোয়াল, জেলা উন্নয়ন আয়ুক্ত অর্পা বাগলারী সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।












