বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। ৮ জুন : শিলচর শহরের ভেঙে যাওয়া রাস্তা, জল নিকাশের সমস্যা এবং অসহ্য যানজট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আজ কাছাড় জেলার জেলা আয়ুক্ত আয়ুষ গর্গের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদী, শিলচর শহর স্থানীয় কমিটির সম্পাদক দেবজ্যোতি দে, ধরণী সুত্রধর, রঞ্জন দাস, অরিজিৎ দেবচৌধুরী ও দুলাল মিত্র। শিলচরের হাসপাতাল রোড থেকে পাঠানো ওই স্মারকলিপিতে শহরের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও নির্মাণের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে শিলচর শহরের প্রায় সব রাস্তাই ভেঙে গর্তে পরিণত হয়েছে। শহরের একটি রাস্তাও স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চলাচলের উপযোগী নেই। এর ফলে শহরজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষ জীবন হাতে নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন।
কয়েক বছর আগে এন এইচ আই ডি সি এল ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে রাশিরখাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের সময়ই গুণমানের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, রাস্তা নির্মাণের দশ-পনেরো দিনের মাথায় রাস্তা ভেঙে যেতে শুরু করে। জল নিকাশের পাইপ ফেটে জল বেরিয়ে রাস্তা নষ্ট করছে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
ড্রেন-খাল বন্ধ, জল জমে দুর্ভোগ
শহরের রাস্তার পাশের ড্রেনগুলোর ঢাল ঠিক না থাকায় জল জমে থাকছে। মহিষাবিল-মালিনী বিলের জল বের করার প্রধান খাল রাশিরখাল প্রায় উনিশ কিলোমিটার লম্বা হলেও জল চলাচল প্রায় নেই। বেতুকান্দিতে যে সুইস গেট বানানো হয়েছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় ছোট। গার্ড ওয়ালের কাজ এত ধীর গতিতে চলছে যে দশ বছরেও শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
নদী ভাঙন
বরেশা নাথপাড়া ও রংপুর আসারজুর এলাকায় নদীর পাড় ভাঙছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যানজট কমাতে চার দফা প্রস্তাব
শহরের যানজট সমস্যা সমাধানে কমিটি চারটি প্রস্তাব দিয়েছে।
ক) ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। সেই সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে বিভিন্ন সরকারি জায়গায় বহুতল গাড়ি রাখার জায়গা তৈরি করার উদ্যোগ নিতে হবে।
খ) রাস্তা বা ফুটপাত দখলকারী ছোট ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে সরকারি ভূমি উদ্ধার করতে হবে।
গ) সকাল সাতটা থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত বড় গাড়িগুলোর শহরে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। শহর এড়িয়ে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অনেকগুলি বাইপাস ও ঘোরানো রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প তৈরি করার ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘ) রাস্তার সংযোগস্থলগুলিতে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা অবিলম্বে চালু করতে হবে।
জেলা আয়ুক্তের কাছে তিনটি দাবি
স্মারকলিপিতে জেলা আয়ুক্তের কাছে তিনটি দাবি জানানো হয়েছে।
এক, রাস্তা ও ড্রেনের কাজে সব সরকারি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রাখতে নিয়মিত বৈঠক এবং প্রতি সপ্তাহে জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীদের নিয়ে পরিদর্শন চালু করতে হবে।
দুই, মহিষাবিলের জল বের করতে আরও একটি বড় সুইস গেট বানাতে হবে। টাউন খাল, সিসিরখাল, লসাইখাল, রাশিরখাল, বাছাইর খাল ও বোয়ালজুর খাল থেকে আবর্জনা তুলে গভীর করে খন করতে হবে।
তিন, নদী ভাঙন বিজ্ঞানসম্মত ভাবে আটকাতে হবে। এইসব কাজে দুর্নীতি দেখা দিলে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
আবেদন
শিলচরের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে স্মারকলিপিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। শহরবাসীর যাতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে এবং রাস্তাঘাট ও জল নিকাশ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে যানজট ও দুর্ঘটনা কমানো যায়, সেজন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেতারা।












