নয়াদিল্লি। ৩১ মে: রবিবারের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের নানা প্রান্তের ইতিবাচক উদ্যোগ তুলে ধরেন। ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রত্যাবর্তন, বন্যপ্রাণ রক্ষা, জল নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞানচর্চা—সব বিষয়ই উঠে আসে তাঁর আলোচনায়।
প্রাচীন তাম্রলিপি দেশে ফিরল: সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস সফরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে ডাচ সরকার শতবর্ষ পুরনো চোল আমলের কয়েকটি তাম্রলিপি ভারতকে ফেরত দেয়। ডাচ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক দলিল হস্তান্তর করা হয়। মোদির মতে, এই প্রত্যাবর্তন শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ভারতীয় ও তামিল সমাজের মধ্যে আলাদা আবেগ তৈরি করেছে।
গঙ্গার ডলফিন বাঁচল ১৩ ঘণ্টার চেষ্টায়: উত্তরপ্রদেশের এক খালে আটকে পড়া গঙ্গার ডলফিন উদ্ধারের ঘটনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় একদল মানুষ প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে টানা উদ্ধার অভিযান চালান। ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের অধীনে তৈরি দেশের প্রথম ডলফিন রেসকিউ অ্যাম্বুল্যান্স দ্রুত সেখানে পৌঁছে আহত ডলফিনটির প্রাথমিক চিকিৎসা করে। সুস্থ হওয়ার পর প্রাণীটিকে নিরাপদে গঙ্গায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মোদি বলেন, এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নাগরিকদের সচেতনতা ও সরকারি উদ্যোগের মেলবন্ধনের নিদর্শন।
কেরলের নদী-পাঠশালা: কেরলের আলুভার বাসিন্দা সাজি ভালাসেরিলের উদ্যোগের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নদীকে শ্রেণিকক্ষ বানিয়ে তিনি বিনামূল্যে শিশু-কিশোর, যুবক ও বয়স্কদের সাঁতার শেখান। বড় পরিকাঠামো নেই, কোনও ফি-ও নেই। এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি মানুষ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা এখানে প্রশিক্ষণ পেয়েছে। কয়েক বছর আগে নৌকাডুবিতে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা সাজিকে নাড়া দেয়। সেই থেকেই জল নিরাপত্তা শেখানোকেই তিনি জীবনের লক্ষ্য বানিয়েছেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন প্রজন্ম: ভারতের প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যার ঐতিহ্যের কথা বলতে গিয়ে মোদি জানান, পঞ্জিকা, দিক নির্ণয় ও উৎসব—সবকিছুই প্রাচীনকাল থেকে আকাশ-পর্যবেক্ষণের সঙ্গে জড়িত। দেশের নানা প্রান্তের শতবর্ষ পুরনো মানমন্দির সেই ঐতিহ্যের সাক্ষী। বর্তমানে শহর-গ্রাম সর্বত্র তরুণদের মধ্যে মহাকাশ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। ব্যাঙ্গালোর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি, কেরলের ‘অ্যাস্ট্রো কেরালা’, রাজকোটের ‘বিগ ব্যাং অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাব’, ‘খাস্ট্রোনমি মন্ডল’-এর কোর্স, পুনের ‘জ্যোতির্বিদ্যা পরিসংস্থা’ ও ছাত্রদের ‘ISAAC’ নেটওয়ার্ক—সব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
১ টাকার দানে ৪০ লক্ষ: তামিলনাড়ুর নাগেরকয়েলের শিক্ষিকা গিরিজা আম্মার উদ্যোগের কথাও উঠে আসে। চেন্নাইয়ের একটি বিদ্যালয়-সহ তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালান তিনি। ‘মন কি বাত’ শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে দেশের সেনাদের জন্য প্রতিদিন ১ টাকা করে সংগ্রহ করান। বছরে ৩৬৫ টাকা করে জমে মোট ৪০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ হয়। সেই অর্থের চেক তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। মোদি ছাত্রছাত্রীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে এমন নিঃশব্দ কাজগুলোকে চিনে নিতে হবে, সম্ভব হলে নিজেরাও যুক্ত হতে হবে।












