,

সোনারপুরে আক্রান্ত হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাঙা চশমা-ছেঁড়া জামা নিয়ে নিহত কর্মীর বাড়ি পৌঁছালেন

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৩০ মে: ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে নিহত ও আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের বাড়ি দেখতে গিয়ে নিজেই হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে বেলেঘাটার নিহত কর্মী বিশ্বনাথ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কালীঘাটের বাড়ি হয়ে সোনারপুরে যান তিনি। চারচাকার গাড়ি ছেড়ে মূল রাস্তা থেকে নেমে দলীয় কর্মীর…

দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৩০ মে: ভোট-পরবর্তী অশান্তিতে নিহত ও আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের বাড়ি দেখতে গিয়ে নিজেই হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার দুপুরে বেলেঘাটার নিহত কর্মী বিশ্বনাথ পট্টনায়েকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কালীঘাটের বাড়ি হয়ে সোনারপুরে যান তিনি। চারচাকার গাড়ি ছেড়ে মূল রাস্তা থেকে নেমে দলীয় কর্মীর দু’চাকার গাড়িতে চাপেন। মোট তিনটি দু’চাকার গাড়ির মাঝেরটিতে পিছনের আসনে বসেছিলেন অভিষেক।

সোনারপুরের কামরাবাদে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির সামনে পৌঁছানোর মুখেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীরা দু’চাকার গাড়ি ঘিরে ধরে টানাহেঁচড়া করে। নিরাপত্তার জন্য ক্রিকেটের হেলমেট পরে নেন অভিষেক। তার পরেও মাথা-ঘাড়ে-গায়ে চড়-ঘুষি পড়ে। দু’চাকার গাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। জামা ছিঁড়ে যায়, চশমা ভেঙে যায়। ডিম ও জুতোও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ।

এই অবস্থায় পায়ে হেঁটে সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে ঢোকেন অভিষেক। নিহত কর্মীর ছবির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “হেলমেট ছিল বলেই মাথা বেঁচেছে। চশমা ভেঙেছে, জামা ছিঁড়েছে। কিন্তু আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। ওরা আমায় মারতে চায়, মেরে দিক।” তিনি জানান, পুরো ঘটনা ক্যামেরায় ধরা আছে। বিষয়টি হাইকোর্ট ও রাজ্যপালকে জানাবেন।

অভিষেকের অভিযোগ, কর্মসূচির কথা আগেভাগেই জেলা পুলিশ-প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে কোনও বাহিনী ছিল না। দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছিল। এসপি ও স্থানীয় থানার প্রধানকে জানাতে বলেছেন তিনি। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময়ও গলিপথ ও ছাদ থেকে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে।

দিনের শুরুতেই সিআইডি নোটিস
এদিন দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কালীঘাটের হরিশ মুখার্জি রোডের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ রাজ্য সিআইডি নোটিস দিতে যায়। বিধানসভায় বিধায়কদের সই-সংক্রান্ত তদন্তের জন্য নোটিস বলে জানা যায়। অভিষেক সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না। দেখা করতে হলে এই বাড়িতে আসতে হবে। ইডি-সিবিআইয়ের কাছে মাথা নোয়াইনি, সিআইডি দিয়েও দমানো যাবে না।” নোটিস ‘গ্রহণ’ করেই তিনি সোনারপুরের কর্মসূচিতে যান।

পাটুলি থেকে কামরাবাদ পর্যন্ত রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে ‘ফিরে যাও’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। মহিলাদের হাতে ডিম থাকতেও দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *