বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সমালোচনাকে “রাজনৈতিক প্রচার” বলে অভিহিত করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি যৌথ সংস্থা এবং এর সিদ্ধান্ত হয় সর্বসম্মতিতে, না হয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে মতবিরোধের খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
“নির্বাচন কমিশনে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা সর্বসম্মতিতে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিতে হয়। তাই সিইসি-কে নিশানা করা একটি রাজনৈতিক প্রচার। বাস্তবে, অন্য দুই কমিশনারকে ছাড়া সিইসি একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আমি মনে করি না। এই নিশানা করা বিরোধীদের হতাশা এবং দিমাগি নকশাল মানসিকতার পরিচয়,” বলেন শর্মা।
তিনি ফের বলেন, সিইসি বা অন্য কোনো নির্বাচন কমিশনার সংখ্যালঘুতে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
“আমার মতে, সিইসি বা অন্য কমিশনাররা সংখ্যালঘুতে থাকা অবস্থায় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিতে হয়, কারণ এটি একটি যৌথ সংস্থা,” তিনি বলেন।
সিইসি একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে যে প্রচার চলছে, তা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। “আমার মনে হয়, সিদ্ধান্তের আগের আলোচনা কেউ ফাঁস করে দিয়েছে,” তিনি যোগ করেন।
উল্লেখ্য, ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কুমারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিশনের সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছেন। ওই সময়েই কমিশন সারা দেশে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করছিল।
এই তথ্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে, বিরোধীরা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং সিইসি কুমারকে অপসারণের দাবি তুলেছে।
বুধবারও মুখ্যমন্ত্রী শর্মা কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনের “ভালো কাজ” দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।












