,

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ৫০ জন শিক্ষককে ব্যতিক্রম-এর ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : একজন শিক্ষকের হাতে শুধু পাঠ্যবই নয়, গড়ে ওঠে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। শ্রেণিকক্ষের সীমা পেরিয়ে তাঁদের শিক্ষা, অনুপ্রেরণা ও মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। সেই নীরব অথচ গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে এবং ক্যারিয়ার স্পার্ক-এর সহযোগিতায় ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির প্রাগজ্যোতিষ-আইটিএ সেন্টার, মাছখোয়া-তে অনুষ্ঠিত হল ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’।…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : একজন শিক্ষকের হাতে শুধু পাঠ্যবই নয়, গড়ে ওঠে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। শ্রেণিকক্ষের সীমা পেরিয়ে তাঁদের শিক্ষা, অনুপ্রেরণা ও মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। সেই নীরব অথচ গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে এবং ক্যারিয়ার স্পার্ক-এর সহযোগিতায় ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির প্রাগজ্যোতিষ-আইটিএ সেন্টার, মাছখোয়া-তে অনুষ্ঠিত হল ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ক্যারিয়ার স্পার্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা দীনেশ লাহোরি, ভান্ড্য ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ সুলিপি হালদার, বিশিষ্ট সমাজসেবক তথা ব্যতিক্রম-এর উপদেষ্টা অমরেশ রায়, ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড. সৌমেন ভারতীয়া প্রমুখ।

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে গুয়াহাটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তাঁদের দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, শিক্ষাদানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য সম্মানিত করা হয়। বিভিন্ন প্রজন্মের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একত্রিত করে তাঁদের অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও শিক্ষাক্ষেত্রের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয় অনুষ্ঠানে।

স্বাগত ভাষণে ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড. সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “শিক্ষকের প্রকৃত সাফল্য কোনও পরীক্ষার ফলাফল বা পুরস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থীর জীবনে তিনি যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করেন, যে মূল্যবোধ শেখান এবং যে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগান-সেটিই একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন। তাই শিক্ষকদের সম্মান জানানো আমাদের কাছে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তাঁদের প্রতি সমাজের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি দায়িত্ব।”

ড. ভারতীয়া আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ও তথ্যের সহজলভ্যতা শিক্ষাব্যবস্থাকে অনেক বদলে দিয়েছে। কিন্তু একজন শিক্ষকের প্রয়োজন কখনও শেষ হবে না। কারণ তথ্য মানুষকে জ্ঞান দিতে পারে, কিন্তু সঠিক পথ বেছে নেওয়ার প্রেরণা এবং মানবিক মূল্যবোধ একজন প্রকৃত শিক্ষকই তৈরি করতে পারেন।”

দীনেশ লাহরি বলেন, “শিক্ষকরা সমাজের এমন এক শক্তি, যাঁদের অবদান অনেক সময় নীরবে থেকে যায়। একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীর মধ্যে শুধু জ্ঞানের আলোই জ্বালান না, তাঁকে স্বপ্ন দেখতে শেখান, ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সাহায্য করেন এবং জীবনের প্রতিকূল সময়ে সঠিক পথ দেখান। ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সেই মহান মানুষগুলির প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আজকের এই সম্মাননা আগামী দিনে আরও অনেক শিক্ষককে তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অনুপ্রাণিত করবে বলেই আমার বিশ্বাস।”

‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এ সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ছিলেন জয়ন্ত কুমার শর্মা (টি.সি. গভর্নমেন্ট গার্লস এইচ.এস. অ্যান্ড এম.পি. স্কুল), সঙ্গীতা ভট্টাচার্য (মহর্ষি বিদ্যা মন্দির সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, শিলপুখুরি), রুবি শর্মা (মারিয়াস পাবলিক স্কুল), ড° দিগন্ত হালদার (সারলা বিরলা জ্ঞান জ্যোতি), চিত্তরঞ্জন সরকার (জাগী এইচ.এস. স্কুল, ভকতগাঁও), অনন্ত কলিতা (মডার্ন ইংলিশ স্কুল), মৌসুমী সাহা পাল (রিদম-অ্যান ইনস্টিটিউট অব ডান্স অ্যান্ড মিউজিক), প্রতিভা বেজবরুয়া (কটন কলেজিয়েট গভর্নমেন্ট এইচ.এস. স্কুল), মৃণাল চক্রবর্তী (গুরু নানক সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল), রেখা দাস (কালচার ক্লাব স্কুল), বিনয় কুমার শর্মা (আর্মি পাবলিক স্কুল), ড° বনশ্রী সরকার (ভট্টদেব বিশ্ববিদ্যালয়), অরিন্দম কর (হিন্দুস্তানি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়), জুরি দাস (হলি চাইল্ড এইচ.এস. স্কুল), রাইহান হুসেন (ডিপিএস), পুনম শর্মা (পানবাজার হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল), দিয়া মজুমদার (নৃত্যশ্রী ডান্স অ্যান্ড ফাইন আর্ট অ্যাকাডেমি), সিমিতা দাস (কটন কলেজিয়েট গভর্নমেন্ট এইচ.এস. স্কুল), রাগিনী কৃষ্ণন শর্মা (সেন্ট ফ্রান্সিস ডি’অ্যাসিসি হাই স্কুল), গান্দেপল্লি রমেশ বাবু (সাই বিকাশ কলেজ, কালপনা ক্যাম্পাস), জুন দেবী শর্মা (পানবাজার হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল), হিমানি দেবী (মহর্ষি বিদ্যা মন্দির সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, শিলপুখুরি), মুক্তা রায় চৌধুরী (বিনোভা নগর এল.পি. স্কুল), ভেঙ্কট বুদাটি (সাই বিকাশ এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন্স, শিলপুখুরি), চিরঞ্জীব সিনহা (ইন্টারন্যাশনাল স্কুল), সোনালি ভট্টাচার্য (জ্ঞান এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন), রুহিদাস দে (মডার্ন হাই স্কুল সিনিয়র সেকেন্ডারি), সীমা কেতন শাহ (সারলা বিরলা জ্ঞান জ্যোতি), অঞ্জলি স্বর্ণকার (টি.সি. গভর্নমেন্ট গার্লস এইচ.এস. অ্যান্ড এম.পি. স্কুল), জেসমিন চেতিয়া ফুকন (এন.পি.এস. ইন্টারন্যাশনাল), দেবজিৎ পাল (রয়‍্যাল গ্লোবাল স্কুল), ড° অন্তরা পাল (লিটল বার্ড আর্ট অ্যান্ড ড্রয়িং স্কুল), ড° সোমা গুপ্তা (শিলং জেল রোড বয়েজ এইচ.এস. স্কুল), ড°কৃষ্ণা দেবী বানিয়া (গভর্নমেন্ট বাণীকান্ত কলেজ অব টিচার এডুকেশন), মালবিকা মিশ্র (উলুবাড়ি এইচ.এস. স্কুল), অংশুরেখা চৌধুরী (এসবিওএ পাবলিক স্কুল), মৃদুস্মিতা চৌধুরী (মহর্ষি বিদ্যা মন্দির), মিনাক্ষী সাহারিয়া (মডার্ন পাবলিক অ্যাকাডেমি, পাকড়কোনা, হাজো রোড), কৃষ্ণ বর্গোহাঁই (কাজিরাঙা ইংলিশ অ্যাকাডেমি), ডেভিড বর্মন (হলি হোম সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল), শিবশঙ্কর রায় চৌধুরী (সাই বিকাশ কলেজ, রামান ক্যাম্পাস), নিশা বড়ুয়া (গুয়াহাটি পাবলিক স্কুল), নিবেদিতা সিনহা (দ্য গ্রিন স্কুল ইন্টারন্যাশনাল), মার্গারেট পামে (অ্যাক্সেল পাবলিক স্কুল), সঙ্গীতা ভরালি দত্ত (এসএফএস), রাজলক্ষ্মী আগরওয়াল, চিমি কলিতা (কিডজি, ওনার), নিকি কলিতা (ডন বস্কো পানবাজার), দর্শনা শইকিয়া প্রমুখ।

‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরার একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হাতে সম্মাননা ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় আগবাঢ়ায় জেআইএস গ্রুপ, লায়ন্স ক্লাব অফ গুয়াহাটি ব্যতিক্রম।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতি ও সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষকদের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও তাঁদের অবদানের স্বীকৃতির বার্তা নিয়ে ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *