মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ও মন্ত্রী কৌশিক রায়ের বৈঠকে সড়ক ও পরিকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা
সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশ
জনসংযোগ। শিলচর : বুধবার বরাক উপত্যকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের সভাপতিত্বে শিলচরের অসম সচিবালয়, বরাক উপত্যকায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে খাদ্য, গণবণ্টন ব্যবস্থা, আবাসন ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রায়ও অংশ নেন। কাছাড়, শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ভারতমালা, অসম মালা, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY) এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অন্যান্য প্রকল্পের অধীনে নির্মীয়মাণ সড়ক ও পরিকাঠামোর অগ্রগতির পাশাপাশি শিলচর-বরাপানি এক্সপ্রেস হাইওয়ে, শিলচর শহরের ফ্লাইওভার, মেডিক্যাল কলেজের পরিকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক করিডরের মতো বড় প্রকল্পগুলির অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। কাজের বর্তমান পরিস্থিতি, নির্মাণের সময় দেখা দেওয়া বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে কাজের গতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন দুই মন্ত্রী।
বৈঠকে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, কোনও অঞ্চলের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হল মসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। তিনি বলেন, বরাক উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একাধিক সড়ক উন্নয়ন ও পরিকাঠামো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনও ভাবেই গুণমানের সঙ্গে আপস না করে এই প্রকল্পগুলির কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
দুর্গাপুজোর আগে বরাক উপত্যকার সড়কগুলির পরিস্থিতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন মন্ত্রী পাল। উৎসবের আগে সমগ্র বরাক উপত্যকার সড়কগুলি যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের উপযোগী হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। উৎসবের সময় মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় যাতে সাধারণ মানুষকে অযথা দুর্ভোগে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করার উপরও তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায়ও বিভিন্ন বড় প্রকল্পের অগ্রগতি এবং কাজ বাস্তবায়নের পথে থাকা সমস্যাগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সময়মতো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে সমস্যাগুলির সমাধান সম্ভব, তার জন্য কোনও প্রকল্প যাতে অযথা বিলম্বিত না হয়, সে জন্য বিভাগ , তৃনমুল পর্যায়ের আধিকারিক এবং নির্মাণকারী সংস্থাগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।
দুই মন্ত্রীই আধিকারিকদের কাছ থেকে প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য নেন এবং নির্মাণকাজের বাস্তব অগ্রগতির পাশাপাশি বাস্তবায়নের পর্যায়ে দেখা দেওয়া বিভিন্ন সমস্যাও খতিয়ে দেখেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে কাজের গতি বাড়িয়ে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন তাঁরা।
পর্যালোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে ছিল বরাক উপত্যকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা শিলচর-বরাপানি এক্সপ্রেস হাইওয়ে। উপত্যকার তিন জেলায় ভারতমালা পরিযোজনার অধীনে নির্মীয়মাণ সড়কগুলির অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন দুই মন্ত্রী।
অসম মালা প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (PMGSY)-এর অধীনে নির্মীয়মাণ সড়কগুলির অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন দুই মন্ত্রী। মনোয়ার থেকে পাঁচগ্রাম এবং শিলচর থেকে চুরাইবাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি, গোটা অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পগুলিও বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে।
গান্ধীঘাটে বরাক নদীর উপর প্রস্তাবিত স্থায়ী সড়ক সেতু নির্মাণের বিষয়টিও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য চান দুই মন্ত্রী এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ যাতে এগিয়ে চলে, সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
শিলচর শহরে বর্তমানে চলতে থাকা ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। শহরে ক্রমবর্ধমান যান চলাচলের প্রেক্ষিতে এই প্রকল্পটি নগর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্মাণকাজের উপর ঘনিষ্ঠ নজরদারি এবং কাজের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করা সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

বীরবল বাজার থেকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজও পর্যালোচনা করেন দুই মন্ত্রী। মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান এবং সংলগ্ন এলাকাগুলির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কাজের অগ্রগতি এবং সময়মতো কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে শ্রীভূমি মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের কাজও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে পর্যালোচনা করা হয়। নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন দুই মন্ত্রী এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
শিলচর জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজের পাশাপাশি শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলির মেরামতি ও উন্নয়নের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হয়। ছাত্রছাত্রী, রোগী, কর্মী এবং সাধারণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলি যাতে চলাচলের উপযোগী থাকে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, বরাক উপত্যকার উন্নয়নের জন্য বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রধান প্রধান প্রকল্পগুলি যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং প্রয়োজনীয় গুণমান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়। উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তবায়নে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।
মন্ত্রী আধিকারিকদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলির অগ্রগতির দিকে ব্যক্তিগত ভাবে নজর রাখার উপরও তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, পরিকাঠামো উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের জন্য আরও উন্নত পরিষেবা এবং সহজতর যাতায়াতের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী কৌশিক রায়ও প্রকল্পগুলির বিস্তারিত মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার, প্রাথমিক পর্যায়েই সমস্যাগুলি চিহ্নিত করার এবং দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
বরাক উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় বাস্তবায়নাধীন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পও পর্যালোচনার আওতায় আসে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা, মাঠপর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠ নজরদারি এবং সমস্যার সময়মতো সমাধানের উপরই বৈঠকে বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যাতে কোনও ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই প্রকল্পগুলির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
এই বৈঠকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত বিভাগ ও সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা একত্রিত হন। এর ফলে বিভিন্ন জেলা এবং পৃথক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্যাগুলি একটি অভিন্ন মঞ্চে বিস্তারিত ভাবে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
পর্যালোচনা বৈঠকে বিধায়ক বিজয় মালাকার, রাজদীপ গোয়ালা, অমিয় কান্তি দাস, আমিনুল হক লস্কর, জুবেইর এনাম মজুমদার এবং আমিনুল রশিদ চৌধুরীও অংশ নেন।
বৈঠকে বরাক উপত্যকার তিন জেলা আয়ুক্ত,যথাক্রমে কাছাড়ের জেলা আয়ুক্ত রাহুল কুমার গুপ্ত, আই এ এস, শ্রীভূমির জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ কুমার দ্বিবেদী, আইএএস এবং হাইলাকান্দির জেলা আয়ুক্ত জয় বিকাশ, আইএএস উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজ নিজ জেলার বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে দুই মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আদিত্য বিক্রম যাদব, আই এ এস, লোকনির্মান বিভাগের আয়ুক্ত ও বিশেষ সচিব সঞ্জীব শ্যাম, এন এইচ আই ডি সি এল-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাণ কিষাণ জামভুলকর এবং বিদ্যুৎ বিভাগ, বন বিভাগ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শেষে দুই মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলিকে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে নজরদারি করা, সময়মতো যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নির্ধারিত গুণমান বজায় রাখার নির্দেশ দেন। বরাক উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির কাজ যাতে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় গতি বজায় রাখতেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।












