বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠানে গানটির পুরো সংস্করণ গাইতে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিলেন নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
তিনি ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ বংশধর।
সৌমিত্রর অভিযোগ কী?
সৌমিত্রবাবুর দাবি, AICC দফতরের ১৫ অগাস্টের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ শুরু হতেই অস্বস্তি তৈরি হয়। বারবার গান থামানোর চেষ্টা হয়। তাঁর কথায়, “এটি শুধু একটি অনুষ্ঠানের ঘটনা নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত এবং দেশের জাতীয় ঐতিহ্যের অপমান।”
চিঠিতে তিনি লিখেছেন, একজন দেশপ্রেমিক এবং বঙ্কিমচন্দ্রের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি “গভীর কষ্ট, শূন্যতা ও ক্ষোভ” অনুভব করছেন। তাঁর দাবি, সোনিয়া গান্ধী দেশের নাগরিকদের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান।

ঐতিহাসিক প্রসঙ্গও টেনেছেন
চিঠিতে সৌমিত্রবাবু মনে করিয়ে দেন, ১৮৯৬ সালে কংগ্রেস অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং ১৯০৫ সালে সরলা দেবী চৌধুরানী এই গান গেয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ১৯৩৭ সালে মহম্মদ আলি জিন্নার আপত্তিতে কংগ্রেসই গানটি ছোট করে দিয়েছিল। এবারের ঘটনাকে তিনি “ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি” বলেছেন।
তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম’ কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতীক।
অমিত শাহের আক্রমণ
এই ইস্যুতে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। রাজস্থানের চিতোরগড়ের সভা থেকে তিনি বলেন, “কংগ্রেস দফতরে বন্দে মাতরম চলার সময় সোনিয়া গান্ধী মাঝপথে গান থামানোর নির্দেশ দেন। ১৪০ কোটি মানুষ দেখছে। এই পাপ দেশ কখনও ক্ষমা করবে না।”
সৌমিত্র কী বললেন?
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটা দেশের অপমান, বাঙালির অপমান। আমার পরিবারও ব্যথিত।” তিনি জানান, সরাসরি সোনিয়া গান্ধীকে ইমেল করেছেন এবং কপি পাঠিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে।












